ক্যাম্পাস-প্রেম, পর্ব১০
হুমায়ূন কবীর
মেয়েরা কিংবা ছেলেরা শুধু আমার কাছে আসে উপকারের জন্য। তারপর কাজ শেষ হলে কেটে পড়ে। কোন ভালো ছেলে বন্ধুও তো আমার নেই। বন্ধু বলতে যা বোঝাই তা একমাত্র তৌফিক। রাজনৈতিক যে সমস্ত সহযোদ্ধা আছে তাদের অধিকাংশই প্রতিদ্বন্দ্বী। তারা সব সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। আর কিছু ছিদ্র খুঁজতে ব্যস্ত। মনের কথা বলার মত, শোনার মত আমার কেউ নেই। আমি বড় একা। ওই রাশমিনকে যদি পেতাম। তার নরম হাত দুটি ধরে, নরম ঘাসের উপর বসে মনের কথা বলতাম সমস্ত হৃদয় উজাড় করে। হাই, আমার জীবনে কখনো হয়তো তা আর হবে না। প্রেমহীন এ জীবন শূন্য মরুভূমির মত হয়ে থেকে যাবে। কোন পেলোব ছোঁয়ায় সবুজ অরণ্যের মতো জেগে ওঠা হয়তো কখনো হবে না। তবুও আমি আশায় বুক বেঁধে বসে আছি। একদিন হয়তো রাশমিন আমার জীবনে আসবে। জীবনটা রঙে রঙে ভরিয়ে দেবে।
কত কিছু ভাবতে ভাবতে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। বন্ধু সাইফুল বলল , চল, ওপারে যাই।
- ওপারে? তোর যে শরীর।
আমার সাবজেক্ট মেট সাইফুল বেশ নাদুস নুদুস। সে বলে কিনা ওপারে যাবে। ওপার তো বেশ দূর।সে যেতে পারবে না। আর তাছাড়া এই পুকুরও খুব গভীর। শুধু গভীর না ভয়ংকর। আমি যতবার ওপারে গেছি প্রতিবারই পুকুরের মাঝখানে গেলেই সেই ভয়ংকর ঘটনাটা আমার মনে পড়ে। আর মনে হয়, এই আমার পা টা কেউ টেনে ধরল। এই আমি মনে হয় ডুবে গেলাম। মনে মনে শুধু ভাবি, কোনোভাবে কুলে পৌঁছাতে পারলে হয়, আর কখনো নয়। আসার সময় ডাঙ্গা দিয়ে ফিরে আসবো। কিন্তু তা আর হয় না। আবার ভয়ে ভয়ে সাঁতার দিতে দিতেই ফিরে আসি।সাইফুলের প্রস্তাব শুনে আমার সেই ভয়ংকর ঘটনাটার কথা মনে পড়ে গেল। আমি কিছুতেই ওপারে যেতে রাজি নই।
কিন্তু ও আমাকে টিটকারী করছে। ওর মত মোটা সোটা ডোবারের টিটকারি আমার সহ্য হচ্ছে না। বললাম,- কি আর করা চল।
মাঝখানে এসে আজ আমার পা যেন পাথর হয়ে যাচ্ছে। সেই ঘটনাটার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। সেদিন ছিল শুক্রবার। আমাদের হোস্টেলের সামনেই ফুটবল খেলা হচ্ছে। সিনিয়র জুনিয়ার খেলা। রিপন জুনিয়রদের ভিতর সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড়। সে পরপর তিনটি গোল ঢুকিয়ে দিল। ছেলেটি খেলায় যেমন ভালো নেশা ও তেমন জোরালো। প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলা সে কলেজ ক্যাম্পাসে বসে গাঁজা টানতো। যদি জিজ্ঞেস করা হতো, রিপন কি করছো?
- ভাই, একটু সবজি খাচ্ছি।
রিপনের হাসি হাসি জবাব। কি আর করা আমিও হেসে চলে আসি।
তো আজ।খেলার মাঝে মাঝে বল পুকুরের পানিতে পড়ে যাচ্ছে। কেউ যেয়ে উঠিয়ে নিয়ে আসছে। আর তাছাড়া এই পুকুর উন্মুক্ত গন পুকুর।স্টুডেন্ট ছাড়াও আশেপাশের লোকজন সব সময় এই পুকুরে গোসল করে। ফলে সব সময় কেউ না কেউ পুকুরে থাকেই।খেলতে খেলতে একবার বলটা পুকুরে ঠিক মাছ বরাবর চলে গেল। পুকুরে একটা বাচ্চা ছেলে গোসল করছে। তাকে অনুরোধ করা হল। সে কিছুতেই রাজি হলো না বলটা কুড়ি আনার জন্য। হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই রিপন ঝাঁপিয়ে পড়ল পুকুরে। খেলা মাত্র দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয়েছে। তাহলে রিপন মনে হয় আর খেলতে চাই না। বলা যায় না গাঁজা খোর মানুষ তো। গতিমতির ঠিক নেই। ছেলেটা কেমিস্ট্রিতে অনার্স পড়ে। এবার সেকেন্ড ইয়ারে। সে তত্তর করে সাঁতার কেটে যেয়ে বলটা ধরে ফেলল। তারপর বল নিয়ে ডুব সাঁতার কেটে এগিয়ে আসতে লাগলো। এমনি করতে করতে এক ডুব দিয়েছে, আর উঠে না। সবাই তাকিয়ে আছি- এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড, তিন সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা। রিপন আর ওঠে না। ওঠেনা তো উঠেই না। শেষে আমরা সবাই ঝাপিয়ে পড়লাম। কিন্তু কোথাও রিপোন নেই। হলের সবাই লুঙ্গি গামছা পরে ঝাপিয়ে পড়লো।