আরব বিশ্বের পাঠকদের কাছে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় লেখক চিমামান্দা এনগোজি আদিচি। তিনি চান আরব পাঠকরা যেন তার লেখা পড়েন। সম্প্রতি শারজাহ আন্তর্জাতিক বইমেলার ফাঁকে আরব আমিরাতের পত্রিকা দ্য ন্যাশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মনোভাব প্রকাশ করেছেন তিনি।
চিমামান্দা বলেছেন, আমি অবশ্যই আরব বিশ্বের আরও বৃহত্তর পাঠকদের কাছে পৌঁছাতে চাই। এটি আমার কাছে খুবই আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে আমি আরব বিশ্ব সম্পর্কে আরও জানতে চাই। এজন্য এই বিষয়ে আরও বই পড়তে চাই।
৪৮ বছর বয়সী নাইজেরিয়ার এই লেখক বলেছেন, আমার বেশ কিছু রচনা আরবি ভাষায় অনুবাদ এবং প্রকাশিত হয়েছে। এটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয় ছিল। প্রসঙ্গত, চিমামান্দার ২০১৪ সালের উপন্যাস ‘উই শুড অল বি ফেমিনিস্টস’, এবং ২০১৭ সালের বই ‘ডিয়ার ইজিওয়েলে, অর অ্যা ফেমিনিস্ট ম্যানিফেস্টো ইন ফিফটিন সাজেশনস' আরবি ভাষায় অনূদিত হয়।
তিনি জানিয়েছেন, আরব বিশ্ব এবং আরবি সাহিত্যের সঙ্গে তার পরিচিতি গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ সম্পর্কে তার অবস্থানকেও স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের হত্যা অব্যাহত থাকায় ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি রয়েই গেছে।
নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় এই লেখক বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যে অবিচার এবং গণহত্যা হয়েছে তা এখনও চলছে। আমি এ বিষয়ে কথা বলেছি এবং ভবিষ্যতেও বলব।
তিনি আরও বলেছেন, আমি এমন একটি পৃথিবী কামনা করি যেখানে অপশ্চিমা সংস্কৃতি একে অপরকে আরও ভালোভাবে জানবে, একে অপরের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হবে এবং একে অপরের পাশে দাঁড়াবে। কারণ পশ্চিমা সংস্কৃতিগুলো তাই করে থাকে।
উল্লেখ্য, চিমামান্দা এনগোজি আদিচি উপন্যাস ছাড়া ছোট গল্প এবং ননফিকশনের ওপরও লেখালেখি করেন। নারীবাদী এই লেখকের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো, ‘পার্পল হিবিসকাস’, ‘হাফ অব অ্যা ইয়েলো সান’ এবং ‘অ্যামেরিকানাহ’। ২০০৬ সালে প্রকাশিত ‘হাফ অব অ্যা ইয়েলো সান’ উপন্যাসের জন্য উইমেনস প্রাইজ ফর ফিকশন পুরস্কার পান তিনি।