#আমার_লেখা
"অ নূ"
পর্ব ১:
নূপুর: আজ সন্ধায় তোমার জন্য একটা ভীষণ সারপ্রাইজ আছে।
আমি: তাই নাকি?? তো আজ কি সারপ্রাইজ আছে বলো? নতুন কিছু রান্না করেছো?
নূপুর: আরেহ নাহ্ তো। এখন বলবো না। শুধু এতটুকু শুনে রাখো, আজ সন্ধ্যা নামার আগেই তোমার কাজ শেষ করবে। সন্ধায় আমরা এক জায়গায় যাবো। তুমি রেডী থেকো।
.... এই বলেই কল টা কেটে দিলো নূপুর।
-------------
আমি অনুপম, আর আমার স্ত্রী নূপুর। খুব প্রেম করে বিয়ে। আমাদের গল্পটাও আর দশ টা গল্পের মতো সাধারণ। অর্থাৎ, প্রেম করার শাস্তি স্বরূপ পরিবারের কেউ মেনে নিল না। প্রেম করাটাই এখনও কিছু কিছু প্রাগঐতিহাসিক পরিবারের পরম্পরা বিরোধী এমন এক কাজ যা ক্ষমার অযোগ্য।
অতঃপর কি আর করা। পরিবার থেকে ত্যায্য হয়ে আমরা নতুন করে নিজেদের জীবন শুরু করলাম। জীবনের গল্প টা আমাদের সাধাসিধে হলেও প্রেম টা কিন্তু মোটেই সাধারণ আটপৌরে ছিল না। বরং, অমর প্রেম টাইপ অসাধারণ ছিল। "মেড ফ্রম হেভেন" টাইপ।
একদম পাগল প্রেম।
আমরা খুব সুখী এবং সন্তুষ্ট ছিলাম আমাদের প্রেম এবং জীবন নিয়ে। সিদ্ধান্ত নিলাম এই দেশেই থাকবো না। এই দেশ, পরিবার, বন্ধু আত্মীয় যদি আমাদের এভাবে পর করে দিতে পারে তাহলে আমরা কেনো পদে পদে তাদের সম্মুখীন হয়ে অবহেলা আর ধিক্কার সহ্য করবো!!
সুযোগ পেয়েও গেলাম। নরওয়ে 'র একটা ছোটো গ্রামে যাওয়ার সুযোগ হয়ে গেলো হঠাৎ করেই।
আমরা নরওয়ে 'র ছোটো একটি গ্রামে এসে মোটামুটি ভাবে বসবাস শুরু করেছি ৬ মাস হলো। কিছু জমানো পুঞ্জি দিয়ে এখানে এসে এগ্রিকালচার নিয়ে নিজস্ব কাজ শুরু করলাম।
এখানে জনবসতি বেশি নয়। একেকটা বসত বাড়ি বেশ দূরে দূরে। তবে, এখানকার লোকজন খুব মিশুক, বন্ধুত্বপূর্ন। ছয় মাসে আশেপাশের কিছু প্রতিবেশীর সাথে ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছে। আমি সারাদিন মোটামুটি ব্যাস্ত থাকি খামারের কাজ নিয়ে। আমার বাড়ি থেকে খামার টা একটু দূরে, গাড়িতে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। ইতিমধ্যে আমরা ছোটো একটা বাড়ি এবং চলার মত একটা জিপ গাড়ি কিনে ফেলেছি।
নূপুর সারাদিন ঘর গোছানো নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। নতুন নতুন রান্না করা তার শখ। আমাকে খাওয়ানো তার চেয়েও বড় শখ তার। নূপুর সত্যিই খুব ভালো রাঁধে। ওহ্ হ্যাঁ, তার আরেকটা শখ হলো সাজ গোজ করা। প্রতিদিন বাসায় ঢুকেই মনে হবে আমরা বুঝি কোথাও বেড়াতে যাচ্ছি।
কারণ, নূপুর প্রতিদিন সন্ধার সময় বেশ পরিপাটি হয়ে সাজগোজ করে আমার জন্য অপেক্ষা করে। আমার কিযে ভালো লাগে এই ব্যাপারটা!
আমাদের এই গ্রাম টি তে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে খুব তাড়াতাড়ি। দিনের আলো থাকে মাত্র ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। এখানে রাত অনেক বড়। বিকেল ৪ টা তেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। আমি তাই সকালে ৬ টা র আগেই বেরিয়ে পড়ি কাজের উদ্দেশ্যে।
আজ বিকেলে ৪ টা বাজার আগেই সব কাজ শেষ করতে হবে। বিকেলে আমার লক্ষ্মী বউ টা কি এক সারপ্রাইজ নিয়ে অপেক্ষা করছে যেনো।
দুপুর ২ টা বাজছে। আবারো নূপুরের কল। ফোন টা বাজছে, আমি রিসিভ করলাম-
নূপুর: অনু শোনো, আজ সন্ধায় আমরা একটা বাড়িতে যাবো। ওইখানে একটা পার্টির আয়োজন করেছে। আমাদের বাড়িতে ইনভাইটেশন কার্ড এসেছিল। আজ নাকি এই গ্রামে বছরের সবচেয়ে দীর্ঘতম রাত। এই রাত টা কে ওরা বিশেষ ভাবে উদযাপন করে। সারারাত আনন্দ উৎসব হয়। খুব মজা হবে। আমরাও যাবো।
আমি: আচ্ছা! তাই নাকি? নিশ্চয়ই যাবো। তুমি তোমার লাল রঙের গাউন টা পড়ে খুব সুন্দর করে সেজে রেডী থেকো, আমি তোমাকে ৪ টায় পিক করবো?
নূপুর: না। আমি তোমাকে অ্যাড্রেস দিচ্ছি। তুমি তোমার কাজের জায়গা থেকে সরাসরি ওখানে চলে যাবে। আর আমিও রেডী হয়ে বাড়ি থেকে একাই রওয়ানা দিবো।
তুমি আবার বাসায় আসতে গেলে দেরি হয়ে যাবে। অ্যাড্রেস টা গ্রামের ওপর প্রান্তে। আমাদের বাসা থেকে দূরে।
আর শোন, আমার খুব মাথা ব্যাথা। আবার সেই মাইগ্রেন এর ব্যাথা। আমি এখন কিছু খেয়ে ঔষুধ খেয়ে ঘুমাবো। ঘুম থেকে উঠে রেডী হয়ে চলে যাবো। আমাদের তবে দেখা হচ্ছে সন্ধায় ওই ঠিকানায়। ঠিক আছে? লাভ ইউ মাই সোনা।
ফোন টা কেটে গেলো।
অনুপম ভাবছে, একা একা একটা অজানা জায়গায়!! নূপুর এখনও বাচ্চাদের মত চঞ্চল। তবু, তার সব আবদার অনুপম রক্ষা করে। অনুপম খুব ভালো আছে নূপুরের সাথে। খুব ভালোবাসে নূপুর কে।
------------
অ্যাড্রেস অনুযায়ী অনুপম পৌঁছে গেলো যেখানে উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাইরে থেকে বেশ বড় প্রাসাদের মত দেখতে একটা বাড়ি। এমন বাড়ি আশেপাশে গত ছয় মাসে দেখেনি অনুপম। বাড়ির সামনে বেশ সুন্দর একটা লন। গাড়ি টা পার্ক করে ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকে অনুপম। ঢুকে দেখে পার্টি চলছে। বেশ কিছু কাপল। হালকা মিউজিক চলছে। সবাই নিজেদের মধ্যে লো ভয়েসে কথা বলছে। এক পাশে বিভিন্ন রকম পানীয় এবং হালকা খাবারের ব্যাবস্থা। সবাই অপরিচিত। তবু, সবাই হাসি মুখে কুশল বিনিময় করছে। এর মধ্যে একজন এগিয়ে এলো, সাদর সম্ভাষণ করে পরিচয় দিলো, উনি এই অনুষ্ঠানের আয়োজক। জানালেন, প্রতি বছর তার এই প্রাসাদে এমন আয়োজন করা হয়। আশেপাশের এলাকার কিছু লোককে দাওয়াত করা হয়। সারারাত আনন্দ উৎসব আর তার সাথে রয়েছে কিছু "গেম"।
খেলা এবং খেলায় জিতে অনেক কিছু পেতে পারে।
পুরো বিষয় টা আমার কাছে নতুন। আমি অপেক্ষা করছি নূপুরের জন্য। কারণ, সে তো এখনও এসে পৌঁছায় নি। আয়োজক ভদ্রলোক আমার হাতে একটি ড্রিংক দিয়ে গেলেন। Red wine। আমি সেটা হাতে নিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম যেখান থেকে মূল প্রবেশদ্বার দেখা যায়। যাতে করে নূপুর আসলেই আমি তাকে দেখতে পাই। অপেক্ষা করতে করতে আস্তে আস্তে ড্রিংক টা পান করছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে নূপুর এসে জড়িয়ে ধরলো। আমি বেশ চমকে পিছন ফিরলাম। লাল গাউন টা পড়েছে। উচুঁ করে খোঁপা বেঁধেছে আর সুন্দর করে সেজেছে। একদম রূপকথার গল্পের রাজকন্যার মতোই লাগছে। আমি অবাক হয়ে বললাম, তুমি কখন এলে!
নূপুর: এই তো , এই কিছুক্ষণ আগেই।
অনুপম: কিভাবে! আমি তো সেই কখন থেকেই চেয়ে আছি মেইন গেইট এ, দেখলাম না তো।
নূপুর: তুমি হয় তো লক্ষ করো নি। আচ্ছা, বাদ দাও তো। চলো ঐদিকে। আমাদের কুপণ সংগ্রহ করতে হবে। খাবারের কুপন। আর খেলার কুপন। কিছু কুপন ফ্রী। আর কিছু টাকা দিয়ে নিতে হবে। আমরা সারারাত থাকবো। চলো কুপন নিই। আমরা সব খেলায় পার্টিসিপেট করবো। শুনেছি, খেলায় যে জিতবে সে কিছু না কিছু প্রাইজ পাবেই।
নূপুর বেশ উচ্ছসিত, অস্থির, উত্তেজিত। তবে, যেটাই হোক অনেকদিন পর নূপুর এরকম একটা পার্টি এনজয় করছে। অনুপমের তাই দেখতে ভালো লাগছে।
নূপুর একে একে প্রায় সব গুলি কুপন নিয়ে ফেললো, বেশ কিছু অর্থও খরচ করে ফেললো। খেলা গুলি কেমন হবে এটা ভেবে শুরু থেকেই অনুপম একটু অস্বস্তিতে ছিল। কোথায় যেন কি একটা খটকা লাগছে অনুপমের। কিছু একটা অস্বাভাবিক তো আছে, কিন্তু সেটা কি!
- শেহনাজ সুমি
....(চলবে)
রহস্যে ঘেরা বাকি অংশ পড়ার জন্য সাথেই থাকবেন