তাকে এখনো খুঁজে বেরাই
ওমর ফারুক আশরাফী
আমি তখন মাত্র ১২ বছর বয়সী। ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় আমাদের বাড়ি তিন তলায়। নিচতলায় ভাড়া থাকতো লুনা আক্তারের পরিবার। প্রথম দেখাতেই আমার চোখ আটকে গেলো সেই পরীর মতো সুন্দর মেয়েটির দিকে। লুনা আক্তার—নামটা মনে রাখতেই যেন হৃদয় একটু তীব্রভাবে ধপধপ করত। সে শুধু সুন্দরই ছিল না, মেধাবী, নম্র, ভদ্র এবং সব সময় পরিমার্জিত,মনে হতো যেন কোনো স্বপ্নের চরিত্র বাস্তব হয়ে এসেছে।
প্রতিদিন ছাদে উঠলে আমি তাকে খুঁজে বেড়াতাম। শুধু তাকানো—সেই ছোট্ট সাহসটুকুও আমার ছিল না তাকে সরাসরি বলার। একদিন হঠাৎ সে নিজেই আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনি আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন কেন?”
আমি লাজুক হেসে বললাম, “কী?”
সে হেসে বলল, “আমি লক্ষ্য করেছি, আপনি সব সময় আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন। আমাকে কি পছন্দ হয়েছে?”
সেই মুহূর্তে বুকের ভিতরটা যেন থমকে গেল। আমি অবলীলায় বললাম,
“আপনার চোখগুলো খুব সুন্দর।”
লুনা আক্তার হেসে বলল, “আপনি কি আমাকে পছন্দ করেন?”
আমি অবাক হয়ে কেবল হুম বলার সাহস পেলাম।
সে পরের দিন আমাকে বলল,
“কাল একটি গোলাপ নিয়ে এসে আমাকে প্রপোজ করবেন।”
হৃদয় ভর করে সাহস জোগালাম। পরের দিন বুকের ভিতর লুকানো সব সাহস নিয়ে তাকে প্রপোজ করলাম। সে হাসিমুখে রাজি হলো—তখন থেকেই আমাদের সম্পর্কের শুরু।
আমাদের সেই প্রিয় মুহূর্তগুলো তিন বছর ধরে চলল। প্রতিটি দিনই আনন্দের, প্রতিটি স্মৃতি অম্লান। কিন্তু হঠাৎ একদিন লুনা তার পরিবারসহ লন্ডন চলে গেল। দক্ষিণ বনশ্রীর সেই ছোট্ট রাস্তা, আমাদের বাড়ি, আমাদের ছাদের সেই মুহূর্তগুলো—সবই যেন ফিকে হয়ে গেল।
আজও আমি অপেক্ষা করি। যে কোনো সময়, যে কোনো বিদেশি বিমান থেকে যদি কেউ নামেও, আমার মন প্রথমে শুধু এক নাম খুঁজে—লুনা আক্তার। তিন বছরের সেই ছোট্ট প্রেমের স্মৃতি আজও আমার হৃদয়কে জ্বালিয়ে রাখে। আমি এখনও তাকে খুঁজে বেড়াই, এবং জানি, যেখানে-ই থাকুক, সেই স্মৃতির আলো আমাদের সম্পর্ককে কখনো মুছে ফেলতে পারবে না।