Posts

উপন্যাস

ক্যাম্পাসপ্রেম,পর্ব১৩

December 21, 2025

Humayun Kabir

125
View

ক্যাম্পাস- প্রেম,পর্ব১৩

হুমায়ূন কবীর 

আসলে আমার নাস্তা দেওয়ার কথা মাসুম ভাই বলে গেছে। মাসুম ভাই প্রথম শ্রেণীর একজন কন্ট্রাক্টর। কিন্তু এখনো সে হোটেলে খেয়ে  টাকা দেয় না। তার টাকার অভাব নেই কিন্তু দেয় না। প্রভাব দেখানো আর কি। তার কথায় এই এলাকায় বাঘে- মহিষে এক ঘাটে জল খায়।  দোকানদার বুঝেছে মাসুম ভাইয়ের সাথে আমার সম্পর্কটা কি। এখন থেকে দেখা হলেই এ সালাম দিবে। 

রাশমিন ফট করে উঠে দাঁড়ালো। আমি তাকে অনুসরণ করলাম। আমরা হাঁটতে হাঁটতে একটা গেঞ্জির দোকানের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। এই দোকানে শুধু গেঞ্জি। গলা ছাড়া, গলা সহ, হাফ হাতা স্যান্ডো গেঞ্জি, হাতের কাজ করা বিভিন্ন কোটেশন লেখা। কোন কোন গেঞ্জিতে  সরাসরি লেখা আই লাভ ইউ। 

রাশমিন খুঁজে খুঁজে একটা গেঞ্জি  বের করল। তাতে লেখা,

For god sake 

Hold your tongue

and let me love.

হাফ হাতা  ক্রিম কালারের গেঞ্জি।তাতে হাতের কাজ করা। গেঞ্জিটাকে দারুন লাগছে। রাশমিনের  পছন্দ আছে বলতে হবে। রাসমিন গেঞ্জিটা আমার গায়ে ধরে মাপ নিল। দোকানদারকে বলল , চলবে প্যাকিং করে দেন। 

অনেক দামী গেঞ্জিটা। রাশমিন হাঁটতে হাঁটতে  বলল, আমার এক বন্ধুর জন্য কিনলাম। 

এতক্ষণ মনটা উড়ছিল। তার কথা শুনে সেটা দেবে বসে গেল। কে সেই ভাগ্যবান বন্ধু? মনের ভিতরে হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক  খাচ্ছে। চোখে অন্ধকার দেখছি। রাস্তায় পা ফেলে হাঁটছি, না আকাশে পা ফেলে হাঁটছি বুঝতে পারছি না। আমি এমন ভাবিনি যে, এটা আমাকে দেবে। ভেবেছিলাম, হয়তো বাড়ির কারো জন্য কিনছে। কিন্তু এখন দেখছি, ভালোবাসার কথা লেখা  গেঞ্জি উপহার দেওয়ার মতো বন্ধু তার আছে।যাকে ভালোবাসার কতটি গুছিয়ে  বলার জন্য তার বিস্তর অবসর প্রয়োজন  । অথচ আমি একে নিয়ে কত আকাশ কুসুম  কল্পনা করেছি। 

যশোর টাউন হল ময়দান থেকে ধর্মতলা বড়জোর ২ কিলো পথ। অথচ এই পথকে  মনে হলো যেন হাজার বছরব্যাপী দীর্ঘ  এক অন্ধকারময় পথ। এ পথের যেনো শেষ নেই।অনেক  কষ্টে পথটা পেরিয়ে এলাম।

কখন রাশমিন বাসে উঠে চলে গেছে কিচ্ছু  মনে নেই। আমি যাত্রী ছাউনির ভিতরে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। হাতের জ্বলন্ত সিগারেট কখন নিভে গেছে টের পাইনি। চুষতে যেয়ে দেখি শুধু পানি। চোখের পানিতে কখন যে সিগারেট ভিজে নিভে গেছে বুঝতে পারিনি। 

Comments

    Please login to post comment. Login