উসমান
(মৃত্যুতে নয়, মানুষের মাঝে বেঁচে থাকা এক কণ্ঠ )
উসমান রাজনীতিতে এসেছিল ক্ষমতার মোহে নয়, বিবেকের দায়ে।
সে জানত—সত্য কথা বললে শত্রু তৈরি হয়, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
তবুও সে কখনো ভয় পায়নি। পিছু পা হয়নি।
দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অন্যায় আর ভয়ভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে সে ছিল আপোষহীন।
দিনে দিনে চতুর্দিকে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় এক শ্রেণির সন্ত্রাসী ও অসৎ রাজনীতিক আতঙ্কিত হয়ে ওঠে।
কারণ উসমান মানুষের মাঝে আশা জাগাচ্ছিল। মানুষ প্রশ্ন করতে শিখছিল, মাথা তুলে দাঁড়াতে শিখছিল।
এক সন্ধ্যায় জনসভার প্রস্তুতি শেষে ফেরার পথে উসমান সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়।
শহরটি স্তব্ধ হয়ে যায়। একজন সৎ, সাহসী কণ্ঠ চিরতরে থেমে গেল। কিন্তু সেদিনই শেষ হয়ে যায়নি উসমানের গল্প।
পরদিন ভোরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। কোনো দলের ডাকে নয়—নিজেদের বিবেকের ডাকে।
হাতে ছিল না অস্ত্র, ছিল প্রতিবাদের ভাষা।
মানুষ বলল,
“উসমান একজন মানুষ ছিল না, সে ছিল একটি অবস্থান।”
শিক্ষার্থী, শ্রমিক, কৃষক, নারী—সবাই একসাথে দাঁড়াল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, দেশের সিস্টেমের বিরুদ্ধে।
তারা দাবি তুলল—দোষীদের বিচার, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, ভয়মুক্ত সমাজ।
চাপের মুখে প্রশাসন বাধ্য হলো ব্যবস্থা নিতে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হলো।
রাজনীতির ভাষা বদলাতে শুরু করল। মানুষ বুঝে গেল—ভয় নয়, ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি।
কেউ বলল,
“উসমান মারা গেছে।”
এক বৃদ্ধ জবাব দিল,
“না, উসমান এখন হাজারো মানুষের সাহসে বেঁচে আছে।”