Posts

গল্প

বাঙালি জাতি

December 22, 2025

Md Josam

Original Author MD samim sikdar

Translated by MD Shamim sikdar

46
View

গল্পের নাম: বাঙালি জাতি
নদীর ধারে জন্ম নেওয়া বাঙালি জাতি—ঐতিহ্য, সাহস এবং সৌন্দর্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। ছোট্ট গ্রামটির একটি ছেলে, আরিফ, সকালবেলা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে নীরব হাওয়ার সঙ্গে কথা বলত। নদীর কলতান, ঘাসের আর্দ্র গন্ধ, পাখির কুহু—সব মিলিয়ে তার মনে এক অদ্ভুত গর্বের উদ্রেক করত। মা বলত, “আরিফ, আমাদের জাতি শুধু ইতিহাসের নয়, তারা হৃদয়েরও মহান।” আরিফ বুঝতে শুরু করল, এই জাতির মানুষরা কেবল বেঁচে থাকে না, তারা অনুভব করে, সৃষ্টি করে, লড়ে এবং এগিয়ে নিয়ে যায়।
বাঙালি জাতি চিরকালই সৃজনশীল। আরিফ যখন স্কুলে ছবি আঁকত, তখন সে শুধু রঙের খেলা করত না; সে আঁকত গ্রামের উৎসব, মাটির ঘরে জ্বলে থাকা আলো, নদীর ঢেউয়ের ছন্দ, মানুষের হাসি। তার শিক্ষক বলত, “আরিফ, তোর আঁকার মধ্যে আমি বাঙালির প্রাণ দেখতে পাই।” আরিফ অনুভব করত, এই জাতির মানুষরা শুধু শক্তিশালী নয়, তারা অনুভূতিতে সমৃদ্ধ, কল্পনায় মুক্ত।
ঐতিহাসিক গল্প আরিফকে গভীরভাবে স্পর্শ করত। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা শোনার সময় তার বুক গর্বে ফুলে উঠত। মা বলত, “বাঙালি জাতি কখনো হার মানে না। তারা সত্যের জন্য লড়ে, স্বাধীনতার জন্য জীবন দেয়।” আরিফ ঠিক করল, বড় হয়ে সে এমন মানুষ হবে—সত্যের পথে অটল, সাহসী, মানবিক।
বাঙালি জাতির আরেকটি গুণ হলো সৌহার্দ্য। গ্রামের মানুষ একে অপরের দুঃখ-সুখ ভাগাভাগি করে। ঘরে কেউ অভাব দেখলে সবাই সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। আরিফ শিখল, এই জাতি কেবল ব্যক্তিগতভাবে নয়, সামাজিকভাবে অসাধারণ। তারা জানে একতার শক্তি, এবং একতা থেকেই তারা এগিয়ে যায়। উৎসবের দিনে সবাই গান করে, কবিতা পড়ে, নাচে—সবাই আনন্দ ভাগাভাগি করে।
আরিফের চোখে এই জাতির সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক নয়, অন্তর্নিহিত। তারা প্রকৃতির সঙ্গে মেলবন্ধন করে, নদীকে বন্ধু মনে করে, মাটিকে মা মনে করে। তারা জানে শিক্ষা মূল্যবান, সংস্কৃতি অনন্য, এবং মানবতা সবচেয়ে বড় শক্তি। আরিফ ভাবল, এই জাতির সন্তান হওয়া মানে শুধু জন্মের সৌভাগ্য নয়, বরং এক দায়িত্ব—সত্য, সাহস, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখা।
একদিন নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আরিফ ভাবল, “আমি গর্বিত এই জাতির সন্তান। আমাদের জাতি শুধু ইতিহাস নয়, এটি এক জীবন্ত প্রতীক—সাহসের, ধৈর্যের, সৃজনশীলতার, মানবতার এবং ঐক্যের প্রতীক।” হাওয়ার সাথে তার মনে জেগে উঠল এক আবেগ, যা শুধুই গর্ব নয়, বরং প্রতিজ্ঞা—এই গুণাবলী ধরে রাখার, এগিয়ে নেয়ার, এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার।
নদীর ঢেউয়ে যেন এই প্রতিজ্ঞার প্রতিধ্বনি শোনা গেল। আরিফ হাসল, চোখে জল, মনে এক অনিন্দ্য অনুভূতি—“আমি এই বাঙালি জাতির সন্তান। এই জাতি কখনো হার মানে না, তারা সবসময় এগিয়ে যায়, সবসময় সৃষ্টি করে, সবসময় মানবিক থাকে।”
আরিফ বুঝল, বাঙালি জাতি শুধু ইতিহাস নয়, এটি জীবন্ত, এটি অনুভূতিতে পূর্ণ, এটি প্রতিটি মানুষের মধ্যে বয়ে চলে। সে ঠিক করল, যতদিন বাঁচবে, এই জাতির গুণাবলী ছড়াবে—সত্য, সাহস, ধৈর্য, সৃজনশীলতা এবং মানবতা। আর তার হৃদয় জানত, এই প্রতিজ্ঞা কখনো নিঃশেষ হবে না।

Comments

    Please login to post comment. Login