Posts

গল্প

জেমস ও রঙিন স্বপ্নের ঝরনা

December 22, 2025

_Wazifa_

46
View

 ছোট্ট শহরের এক শান্তিপূর্ণ পল্লিতে থাকত জেমস। সে বুদ্ধিমান, কল্পনাশক্তিতে ভরা, আর সবসময় নতুন কিছু জানার জন্য আগ্রহী। ছোটবেলায় থেকেই সে স্বপ্ন দেখত—একটি জাদুকরী জায়গায় যাওয়ার যেখানে সবকিছু রঙিন, আনন্দময় এবং জাদুকরী। কিন্তু সত্যিই এমন জায়গা আছে কি না, তা সে কখনো জানত না। এক সকালে সূর্য আরও উজ্জ্বলভাবে উঠেছিল। জেমস ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। আকাশ নরম মেঘে ঢাকা, বাতাসে ভেজা মাটির গন্ধ, আর পাখিরা যেন নাচছিল। ঠিক তখন দূর থেকে হঠাৎ ঝলমলে নীল আলো তার চোখে পড়ল। কৌতূহল তাকে আটকে রাখতে পারল না—সে সেই আলো অনুসরণ করল। আলো তাকে শহরের পরিধির বাইরে একটি অচেনা পথে নিয়ে গেল। পথটি যেন স্বপ্নের মতো—ফুলের পাপড়ি সবুজ, কমলা, নীল, গোলাপী, আর কিছু পাপড়ি হালকা আলো বের করছে। নদী রঙিন রশ্মি দিয়ে ঝলমল করছে। জেমস মনে করল, “এটা কি বাস্তব?” হঠাৎ একটি ছোট্ট কথা বলা ফক্স তার সামনে এল। ফক্সটি নিজের নাম বলল ফিনি। ফিনি বলল, “স্বাগতম, জেমস! তুমি এসেছে জাদুকরী ঝর্ণার শহরে। এখানে সব স্বপ্ন সত্যি হয়, কিন্তু শুধুমাত্র সাহসী ও ভালো মনের মানুষই এগোতে পারে।” জেমস প্রথমে ভয় পেল, কিন্তু কৌতূহল ভয়কে হারালো। সে ফিনির সঙ্গে পথে চলল। তারা এক অদ্ভুত বাগানে পৌঁছাল, যেখানে ফুল নাচছিল, পাখিরা কথা বলছিল, আর বৃষ্টির ফোঁটা রঙিন রশ্মির মতো ঝলমল করছিল। “ফিনি, এটা কি বাস্তব?” জেমস হেসে বলল। ফিনি উত্তর দিল, “সবই বাস্তব, যদি তুমি নিজের স্বপ্ন এবং আনন্দ বিশ্বাস করো।” পরের দিনে জেমস ফিনির সঙ্গে রঙিন বাজারে গেল। সেখানে সব কিছুই অদ্ভুত—চকোলেটের নদী, উড়ন্ত চেয়ার, নাচ করা ললাটগাছ, আর বাতাসে মধুর গন্ধ। জেমস আনন্দে উড়ে যাচ্ছিল। সে বুঝল—এই শহরে শুধু আনন্দ নয়, সাহস, বন্ধুত্ব এবং কল্পনাশক্তিও জীবন্ত। শহরের এক কোণে ছিল বড় ঝর্ণা। ফিনি বলল, “এটি জাদুকরী ঝর্ণা। এখানে ঢুকলে তুমি তোমার সব হারানো স্বপ্ন, আশা, আনন্দ এবং সাহস ফিরে পাবে।” জেমস সাহস করে ঝর্ণার মধ্যে প্রবেশ করল। ঝর্ণার রঙিন জল তার চারপাশে ঘিরে ধরল। হঠাৎ সে অনুভব করল—তার ভেতরের সব আনন্দ, সাহস এবং স্বপ্ন জীবন্ত হয়ে উঠল। সে হেসে চেঁচিয়েছিল, “আমি খুঁজে পেয়েছি! আমি সত্যিই স্বপ্নের জগতে পৌঁছেছি!” এরপর জেমস শহরে ফিরে এল, কিন্তু এবার সে আর আগের মতো সাধারণ মেয়ে নয়। সে জানত, তার ভিতরে অসীম শক্তি, অসাধারণ কল্পনা এবং অসংখ্য স্বপ্ন লুকিয়ে আছে। সে শহরের শিশুদের জন্য গল্প বলল, হাসি আনল, আর সবাইকে দেখাল—জীবন সত্যিই রঙিন আর আনন্দদায়ক হতে পারে, যদি আমরা কল্পনা করি, সাহসী হই, এবং আনন্দ ভাগ করি। জেমস শিখল—সাহস, ধৈর্য, এবং বিশ্বাস দিয়ে আমরা আমাদের হারানো স্বপ্নগুলো ফিরিয়ে আনতে পারি। আর সবচেয়ে বড় শিক্ষা—আনন্দ এবং ভালোবাসা ভাগ করলে জীবনের সব রঙ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

Comments

    Please login to post comment. Login