Posts

উপন্যাস

ক্যাম্পাসপ্রেম,পর্ব১৫

December 23, 2025

Humayun Kabir

158
View

ক্যাম্পাস-প্রেম,পর্ব১৫

হুমায়ূন কবীর

কোন স্বর্গলোক থেকে একটু করে শান্তি নেমে এসেছে কপালের উপর। শান্তিটুকু কপাল থেকে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। সুখ সুখ আরাম আরাম অনুভূতিতে সমস্ত  শরীর এলিয়ে আসছে। টুংটাং গিটারের শব্দ কানে আসছে। গিটারে একটা গান বাজছে-  তুমি তাই, তুমি তাই গো, আমারো পরানো যাহা চাই।

সিগারেটের গন্ধ, একটি মেয়েলী কন্ঠ।আমি কি ঘুমিয়ে আছি না  জেগে আছি, বোঝা যাচ্ছে না। আমার চোখ দুটো বন্ধ-  কিন্তু দেখতে পাচ্ছি, শুনতে পাচ্ছি অথচ বলতে পারছি না। এইতো, আমি বেশ বুঝতে পারছি। আমার পাশেই রাশমিন বসে  আছে। বুঝতে পারছি, বোঝাটা ভুল বোঝা।  আর রাতের বেলাশ ছেলেদের হলে কোন মেয়ের উপস্থিতি তো কল্পনাতেই সম্ভব। 

কিন্তু আমি যেন শুনতে পাচ্ছি,রাশমিনের রিনিঝিনি কন্ঠ - ওহ!  এতো অনেক জ্বর,জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। 

আমি নিজের মনেই প্রশ্ন করছি -

- কার জ্বর, কার জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে? মেলি কন্ঠটাই বা কার? কপালের এই সুখটাই বা কিসের? তুলোর মতো নরম সুখ। আস্তে আস্তে নিজের হাতটা কপালের উপর রাখলাম। একি আমার হাতের নীচে! এত নরম মোলায়েম হাতটি কার? আমার এত ভালো লাগছে কেন? এ কি স্বপ্ন? হতে পারে। প্রয়োজন নেই এর সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের। যদি স্বপ্নে এই ভালোলাগা এসে থাকে তবে স্বপ্ন আরও দীর্ঘ হোক। 

আমি জোর করে চোখ দুটো আরো এঁটে ধরলাম। এই স্বপ্ন যেন কিছুতেই না ভেঙে যায়। চোখ জোর করে এঁটে ধরার পর আস্তে আস্তে চোখ খুলে গেল। জলপদ্মের দারুন ফুরফুরে সুবাসে বুকটা ভরে গেল। এই গন্ধটা তো রাশমিনের  শরীরের। 

না স্বপ্ন নয়।আমার শিয়রে রাসমিন বসে।  তার একটা হাত আমার কপালে। আনন্দে আমার দুচোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে  পড়তে লাগলো। 

রাশমিন কষ্ট কষ্ট স্বরে প্রশ্ন  করল -

- কী করে জ্বর বাধালেন? 

- কই? 

- আপনার শরীরে তো অনেক জ্বর। 

- তুমি কখন এলে? 

- প্রায় এক ঘন্টা। ঘুমের ভিতর বিড়বিড় করে কি বকছিলেন? 

- এক ঘন্টা এসেছো? এত সময়? 

- হ্যাঁ, এখন সকাল দশটা বাজে। জ্বরে তো গা পুড়ে যাচ্ছে । 

- জ্বর, আমার? 

- না তো আমার? কাঁদছেন কেন? 

- কই, না তো আমি? চোখে   মনে হয় কিছু পড়েছে। 

রাশমিন কণ্ঠে  কিছুটা কৃত্রিম বিরক্তির ভাব ফুটিয়ে তুলে বলল  , না কিচ্ছু পড়েনি। পড়বে কখন? এতক্ষণ তো চোখ বন্ধ করে ঘুমাচ্ছিলেন। 

তার কথায় যুক্তি আছে, আমি পরাজয় স্বীকার করে বললাম , তাহলে মনে হয় কাঁদছি। সে যাক তুমি মনে হয় কোন কাজে এসেছিলে। 

রাসমিন বোরকার ফাঁকের  চোখ দুটিতে একটু হাসলো। তারপর মিহি কন্ঠে বলল,  হ্যাঁ আমার ছবি আর কাগজ পাতি গুলো সত্যায়িত করতে হবে। প্রাইমারি স্কুলে একটা দরখাস্ত করব। আপনি করবেন না? 

- সহকারী শিক্ষক? 

- হ্যাঁ। 

- আমি করেছি।চলো তোমার  কাগজপাতি সত্যায়িত করে নিয়ে আসি।

Comments

    Please login to post comment. Login