এনির ঘুম ভাঙ্গে ঘুব ভোরে। নামাজ পরে বাড়ির কাজে লেগে পরে আজকে বাড়িতে মেহমান আসবে তার মেহমানদের সামনে যাওয়া বারণ।
তাই সব রেডি করে পেলে তারাতারি সকাল ১০:০০ টায় বাড়িতে মেহমান আসে। তার মামার বাড়ি থেকে এসেছে তারা এনি কখনো তাদের সামনে যায়নি।
তার বড় মামার একএা ছেলে আর বাকি মামাদের সবার ঘরে মেয়ে তারা দেখতে অনেক মায়াবী।
এনি মনে মনে তার বড় মামার ছেলেকে ভালেবাসে কিন্তু কখনো তার সামনে যেতে পারে নি মায়ের আদেশ সে যেন ঘর থেকে বের না হয়।
কিন্তু আজকে নেছার ভাই হাটতে হাটতে তার ঘরের কাছে চলে এসেছে।
সে আগে কখনো এ ঘরটা খেয়াল করে নি তাই তার মনে কৌতূহল হলো এ ঘরে কি আছে তা দেখার জন্য।
তাই দরজা ধাক্কা দিল যখন দেখল দরজা ভেতর থেকে আটকানো তাই বলল আপনি যে ভিতরে আছেন এটা আমি জানি তাই ভয় না পেয়ে দরজাটা খুলুন।
এনি আবাক হলো তাকে নেছার ভাই কি করে চিনে। তাই আর দেরি না করে এনি দরজা খুলে দিল দেখল এক সুদর্শন লোক তারদিকে তাকিয়ে আছে।
বলল তুমি এ ঘরে কেন থাক এটা তো পরিত্যক্ত ঘর মনে হচ্ছে আমার কাছে আগে কখনো এ ঘরটা দেখিনি আমি।
এনি : আপনি আমাকে চিনেন নেছার ভাই।
নেছার: আরে চিনবোনা কেন তুমি ফুফির কাজের মেয়ে না তোমাকে তো আমি গতবছরও দেখেছি কিন্তু এ ঘরটা দেখিনি।
এনি তো আবাক সে তার বাড়ির কাজের মেয়ে এ কথা শুনার পর আর কিছু বলল না কারণ মা যদি জানে সে নেছারের সাথে দেখা করেছে তাহলে তার কপালে অনেক মার আছে।
এনি :আপনার কিছু লাগবে নেছার ভাই বলেন আমি এনে দিচ্ছি।
নেছার : তোমার বাবা মা জীবিত নেই তুমি এখানে কাজ করছ দেখে তারা কিছু বলে না। কি বাবা মা তোমার তাদের মেয়ে কে কাজে পাঠিয়ে নিজেরা আনন্দ করে খেয়ে বেরায়।
এনি : বাবা মা তো আছে কিন্তু তারা আমার বাবা মা কিনা সেটা জানি না।
নেছার এনির কথায় আবাক হলো কি করে একটা মেয়ে করে এত শান্ত থাকতে পারে আর তার মতো এত সুন্দর মেয়ে কি করে অন্য বাড়িতে কাজ করে। অথচ তার সমবয়সী চাচাতো বোন ইবা নিজেকে অনেক মর্ডান মনে করে সবসময় মুখে আটা ময়দা মেখে থাকে আর সময় পেলেই তার সাথে এসে মাখামাখি করে। যা তার অতন্ত্য বিরক্তি কর লাগে।
আপনি তাদের সাথে থাকেন না না কি একথা বলছেন আমি ফুফি কে বলবে আপনাকে নিয়ে যাতে আমাদের বাড়িতে যায় এতে করে আপনার ও অনেক ভালো লাগবে।
এনি : আপনি দয়া করে মা কে বলবেন না আপনার সাথে আমার দেখা হয়েছে প্লিজ তাহলে আমার সাথে অনেক খারাপ হবে।
নেছার: আমার ফুফি তোমরা মা হবে কেন।
এনি: না না উনি আমার মা না মেম হনন মায়ের বয়সী তো তাই মা বলে পেলেছি। আপনি প্লিজ তাকে বলবেন না।
নেছার : তুমি এত ভয় পাচ্ছ কেন আর ফুফি তোমাকে কি করবে। ঠিক আছে আমি ফুফিকে বলবো না। চল এখন খাবারের সময় হয়েছে খাবার খেতে চল।
এনি : না আপনি যান আমি যেতে পারবো না আর আমার খুদা নেই।
নেছার :তুৃমি কেন যেতে পারবে না।
এই বলে তার হাত ধরে নিয়ে যায় কারণ তার মনে হলো মেয়েটা কোনো কিছুকে ভয় পাচ্ছে তাই যেতে চাইছে না।
এনি অনেক চেষ্টা করেও তার থেকে নিজের হাত ছাড়াতে পারল না তাই সে কান্না করে দিল। আমাকে ছেড়ে দিন নেছার ভাই আমাকে যদি আপনার সাথে দেখে তাহলে আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
নেছার এ কথাশুনে তার হাত ছেড়ে দেয় আর জিজ্ঞেস করে তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ না আমি কেন হঠাৎ করে কেন তোমার হাত ধরে টানাটানি করলাম আবার ছেড়ে দিলাম কারণ আমি তোমাকে গত পাঁচ বছর ধরে চিনি। বাকিটুকু তুমি বলবে তুমি কেন এ বাড়িতে কাজ কর
এনি: তা জেনে আপনার লাভ কি আর আপনি এখন এখান থেকে জান না হলে আমাট কপালে আপনার জন্য অনেক কষ্ট আছে।
নেছার : আচ্ছা আমি এখন চলে যাচ্ছি কিন্তু তোমার মোবাইল নাম্বার দাও আমাকে আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই আর এ ব্যাপারে সব কিছু বলবে।
এনি: মোবাইল নাম্বার কোথায় পাব আপনার জন্য।
নেছার : কেন তুমি মোবাইল ব্যবহার করো না।
এনি : না আমার কোমো মোবাইল নেই। আর আমি আপনাকে কিছু বলতে বার্ধ্য নই।এখন এখান থেকে জান।
এই বলে এনি নেছারকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় আর দরজা লাগিয়ে দেয় এতে করে নেছার অনেক আবাক হলো এই মেয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দিল। তাদের মধ্যে কার কথাবার্তা সব গিয়ে ইবা তার মাকে কান্না করতে করতে বলল তার মা গিয়ে তার ননকে জিজ্ঞেস করে বলল তুমি তাহলে এ জন্য নেছার কে বড়িতে ডাক যাতে করে তোমার ঘরের কাজের মেয়েকে নেছারের সাথে বিয়ে দিতে পার ছি।
তুমি এটা করতে পারলে আপা তুমি তো জান আমাদের ইবা তাকে অনেক ভালোবাসে তার জন্য এককথায় জীবন পযর্ন্ত দিতে রাজি আর তুমি এটা করলে।
ততক্ষণে ইবা গিয়ে এনির চুলের মুঠা ধরে ঘর থেকে টানতে টানতে নিয়ে আসে সবার সামনে এতক্ষণে বাড়ির সবাই একত্রে হয়ে গেছে তাদের কথার আওয়াজ শুনে।
ইবা অনেক ক্ষন ধরে এনি কে তার বেল্ট দিরে মারার পর যখন সে ক্লান্ত হলো তখন এনির মা তাকে একটা গরম ক্ষন্তি দিয়ে বার কয়েক চেক দিল এনি এতক্ষণ ধরে মার খাওয়ার পর সেন্স লেস হয়ে গেল তাই সাবাই আবার নিজেদের ঘরে চলে গেল আর এনির মা সবাই কে বুঝাল যে তিনি জানতেন না এ মেয়ে এরকম জানলে আরো আগে বাড়ি থেকে বের করে দিতেন।
নেছার তখন যে এনির ঘর থেকে বের হওয়ার পর কই গেছে কেউ তা জানে না।