লেখনীতে_সামিরা আক্তার ইন্নি
পর্ব_১
কনে সাজে গাড়িতে বসে আছি আমি। আমার পাশে বসা আমার অচেনা স্বামী। তার নাম অবধি আমি জানি না তাইতো সে অচেনা!চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। আমার জীবনটা যে কি থেকে কি হয়েছে বা হতে চলেছে তা আমি জানি না। গাড়ির সিটে নড়েচরে বসে উনার দিকে তাকিয়ে দেখি উনি আপন মনে ড্রাইভ করছেন। আমি দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে চোখ বন্ধ করলাম এবং ভাবতে লাগলাম আগের দিনগুলো।
*অতিত:
আমি আয়নার সামনে দাড়িয়ে হিজাব বাধছি আর আমার মা সেই কখন থেকে তাড়া দিয়ে যাচ্ছে। আমরা সপরিবারে ফুফাতো বোনের হলুদ অনুষ্ঠানে যাচ্ছি। এমনিতে আপুর এটা দ্বিতীয় বিয়ে হলেও তার বয়ফ্রেইন্ডের সাথে হচ্ছে। প্রথম বিয়ে এরেঞ্জ মেরেজ ছিলো যেখানে ভাইয়া আপুকে খুব অত্যাচার করতো। সেসব নাহয় বাদ দিলাম। আমি আজ হলুদের মধ্যে সাদা শাড়ি পড়েছি। মাথায় সাদা ওড়না দিয়ে হিজাব। মুখে হালকা মেকাপ করেছি আর আমার সবচেয়ে প্রিয় কাচের চুরি পরেছি।
ওহ, আমার পরিচয় টাই তো এখনো দেওয়া হলো না!আমি সারা আহমেদ। আমার বাবা সফিক আহমেদ আর মা রুবিনা বেগম। আমি তাদের একমাত্র সন্তান।আমার বয়স ১৯ বছর ও ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি।
আমার বাসা থেকে ফুপির বাসা বেশি দূরে না।ফুপির বাসা একতলার হলেও অনেকটা জায়গা নিয়ে বানিয়েছে। হলুদ অনুষ্ঠান সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হবে আর আমরা বিকেল পাঁচটায় চলে এসেছি। আমার কাজিন বলতে দুজন। ফুফাতো দুই মেয়ে। তনু আপু আর মিনু আপু!তনু আপুর বিয়ে আমার বাবার আগেই হয়েছে। আরেকজনের এখন!আমার বাবা থেকে তনু আপু প্রায় পাচ বছরের ছোট।আমি ফুপির বাড়ি গিয়েই দুই বোনের সাথে গলায় গলায় ভাব জমালাম। তারা আমার থেকে অনেক বড় হলেও বোন তো বোনই হয়। তনু আপুর দুই ছেলে নোহান শেখ আর তোহান শেখ। আপু বড় ছেলে নোহান আমার থেকে গুণে গুণে চার বছর দশ মাসের বড়। আর তোহান আমার বয়সীই। নোহান আমার থেকে বড় হলেও তাকে আমি অভদ্রের মতো তুই বলে ডাকি আর সে আমাকে আপনি আর আন্টিজী বলে। সেটাও আবার ছোটবেলায় আমার উত্তম-মাদ্ধম খেয়ে!আর তোহানের সাথে আমার ফ্রেন্ডলি সম্পর্ক কিন্তু এ বেটাকেও আমি আমার হাতের বিশেষ মজা খাইয়ে তুমি আর খালাম্মা বলে ডাকাই।
হলুদ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর নোহান বাড়িতে এসেছে। আমি দেখেও নিজ থেকে কথা বলতে গেলাম না।আমি ওর মায়ের বোন সে আগে এসে আমার সাথে কথা বলবে। তনু আপুকে গোসল করিয়ে স্টেজে বসিয়ে রেখেছে আর তার কাজিনরা নাচানাচি করছে। আমি নাচ না পারলেও দেখতে তো পারি। একটা চেয়ারে বসে নাচ দেখছি। আমার সাথে তোহানও এতক্ষন বসে ছিলো কিন্তু কিছ কাজ তাকে তার মা নিয়ে গেছে। হঠাৎ অনুভব করলাম আমার পাশে কেউ বসেছে। তোহান ভেবে তাকিয়ে দেখি আমার পাশে নোহান বসেছে। নোহানকে দেখে ভ্রু নাচিয়ে ‘কি’ বুঝাতেই ছেলে মুচকি হেসে বলে:
~ইউ আর লুকিং সো ভেরি বিউটিফুল!
**
হঠাৎ বিকট ধাক্কায় আমি হুমরি খেয়ে পড়লাম আমার পাশের লোকটার উপর। এরকম হঠাৎ ধাক্কা আর উনার উপর পড়ে গিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকালাম। উনি ভ্রু কোচকে বলেন:
~ঠিক আছো?
আমার ধ্যান ভেঙে গেল।ঠিক করে বসে ছোট করে সরি বললাম। উনি সেসবে পাত্তা দিলেন না। গাড়ি আবার স্টার্ট দিলেন। আমিও এতো কিছু ভাবলাম না। আবারো ভাবতে লাগলাম পুরোনো কথা।
#চলবে…..