ক্যাম্পাস-প্রেম
হুমায়ূন কবীর
- দেখেন না সেন্ডেল পরে ইন করলে কেমন খ্যাত খ্যাত লাগে? আবার গেঞ্জি পরে সু পরলেও কেমন ক্ষেত্রে লাগে। স্যান্ডেল পরেন।
পরলাম স্যান্ডেল।
রাসমিন একটা আনন্দের হাসি দিয়ে বলল এইতো ফাইন হয়েছে চলেন
পর্দা সরিয়ে রুমে ঢুকেই বুঝতে পারলাম, ঢোকা উচিত হয়নি। না জানি কি হয়। রাসমিন রয়েছে সাথে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্টে আর কোন স্যার নেই। শুধু রহিম স্যার আছে। না জানি আজ আবার কি ফ্যাসাদ বাঁধে।
শরীরটা ভালো না তাই তিন তলার বাংলা ডিপার্টমেন্টে যেতে ইচ্ছে করলো না। দুই তলায় সিঁড়ির মাথায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্ট। ভেবেছিলাম, কম কষ্টে কাজ সেরে চলে যাব কিন্তু তা মনে হয় হবার নয়।
মনে পড়ে গেল মাধুরীর কথা:
সেদিন ছিল ভর্তির লাস্ট ডেট। মাধুরী ভর্তি হবে।সে চান্স পেয়েছে। এসএসসির কাগজ পাতি এনেছে।কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট এর কাগজ পাতি গুলি আনতে ভুলে গেছে। সেগুলো ছাড়া তো ভর্তির প্রশ্নই আসে না। আবার আনার সময়ও নেই যে সে বাড়িতে যেয়ে নিয়ে আসবে। মাধুরীর চোখে মুখে তখন পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকার নেমে এসেছে। সে পাগলের মত হয়ে গেছে। যাকে পাচ্ছে তাকে ধরে তার সমস্যার কথা জানাচ্ছে। সবাই জানিয়ে দিয়েছে, সে আর ভর্তি হতে পারবে না। একটি ভুলের জন্য ভর্তি থেকে সে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে। দুঃখে কষ্টে যন্ত্রণায় তৌফিকের সামনে সে সমস্যার কথা জানালো। তৌফিক মাধুরীকে আমার কাছে নিয়ে এলো। আমি তাকে রহিম স্যারের কাছে নিয়ে গেলাম। তখন ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে। স্যার শিক্ষক লঞ্জে বসে ভর্তির কাগজ পাতি গুলো গোছাচ্ছে। বললাম - স্যার, মাধুরীকে ভর্তি করতে হবে।
স্যার টাক মাথায় ডান হাত টা একটু ঘসলো। একটু হাসলো। তারপর বলল, এখন তো সময় নেই। সময় শেষ হয়ে গেছে।
আমি দৃঢ়ভাবে বললাম- স্যার এ আমার বিশেষ পরিচিত।
- আচ্ছা, ঠিক আছে, কাগজ পাতি দাও।
কাগজপত্র দিলাম। চাঁদ দেখেশুনে টান দিয়ে সব আমার মুখের উপর ছুড়ে মারলেন। রেগে বললেন, ইন্টারমিডিয়েটের কাগজপত্র কই?দাও।
আমি আমি বিনীতভাবে বললাম, ওগুলো তো নেই। থাকলে তো সকালে ভর্তি হয়ে সে বাড়ি চলে যেত।
স্যার হুংকার দিয়ে বললেন, যাও এখান থেকে।
স্যার তীব্রভাবে অপমান করে আমাকে তাড়িয়ে দিতে চাইলেন। আমি দাঁতে দাঁত চেপে অনেক কষ্টে রাগ হজম করে কাগজপত্রগুলো ফ্লোর থেকে কুড়িয়ে নিলাম। তারপর স্যারকে আমার বিনীতভাবে বললাম, একটা সুযোগ দেন স্যার। মেয়েটার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে।
আরো অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকে দেখে বলল,ঠিক আছে এগুলো রেখে যাও।কালকে বাকি কাগজপত্র নিয়ে এসো।
মাধুরী পরের দিন তার সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে এলো।ভর্তি হলো ক্লাস করতে লাগলো। একদিন কি একটা কাজে মাধুরীর ডিপার্টমেন্টে গিয়েছি,ওর সাথে মুখোমুখি দেখা। সে আমার দিকে এক নজর তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিল। এমন ভাব করলো যেন সে জীবনে কখনো আমাকে দেখেনি।অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিলাম।
পুরনো কথা থাক।
আজকের কথা বলি।
স্যারকে সালাম দিলাম। স্যার ঝুকে বসে পত্রিকা পড়ছিল। ঝুকেই থাকলো। কোন নড়াচড়া নেই। আমি যেন কেউ না। রুমে যেন কেউ ঢোকেনি। কেউ যেন তাকে সালাম দেইনি। কিন্তু ঢোকার সময়েই আড়চোখে আমাকে দেখেছে। এখন দেখেও না দেখার ভান করছে। এ এক ধরনের ভাব নেওয়া আর কি।
- স্যার একটু কথা বলতাম।
- হ্যাঁ, বল।
- স্যার,এই কাগজপত্র গুলো সত্যায়িত করতে হবে স্যার।
- দেখি।
রাসমিনের কাগজপত্র ছবি স্যারের সামনে টেবিলে মেলে ধরলাম। স্যার আগে ছবিগুলো হাতে নিয়ে ভালো করে দেখলো উল্টোপিঠে নাম লেখা আছে কি-না। নাম লেখা আছে। একটা ঢোক চিপলেন। স্যার কম ঘড়েল মাল না। হেরেজ করার জন্য বললেন, এ ছবি কার?
রাশমিন বললো, এ ছবি আমার।
- মুখ খোলো।
আমি রাসমিনের দিকে তাকালাম। মনে হয় না সে মুখ খুলবে। তবে রাশমিন যেভাবে আমার দিকে তাকিয়ে লাজুক হাসি দিলো তাতে মনে হল সে মুখ খুলবে কিন্তু আমার জন্য লজ্জা পাচ্ছে। তাহলে কি আমি বাইরে যাব? না তা হয় না। এত সুন্দর একটা সুযোগ অযাচিত ভাবে পেয়েও তাকে হেলায় হারানো যায় না।রাসমিন তার মুখের বোরকা সরাতে শুরু করল। আমি লুব্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলাম।