নোহানের কথা আমার কাছে অন্যরকম লাগলেও হাসিমুখে বলি:
~থ্যাংকস বাপ আমার!
এদের দুভাইকে আমি যখন যা ইচ্ছে বলি। কিন্তু নোহানের মুখের হাসি মলিন হতে দেখেছি যখন তাকে বাপ বলে সম্মোধন করলাম। ছেলেটা কিছু না বলে চলে যায়।
প্রায় একটা দেড়টার দিকে হলুদ অনুষ্ঠান শেষ হয়। আপুদের অন্য কাজিনরা খুব নাচ পারে। আমার মিনু আপু আর তার চাচাতো বোন সিফার সাথে ঘুমানোর জায়গা হয়েছে শুনে খুশিতে লাফাতে লাফাতে রুমে দিকে যাচ্ছিলাম কিন্তু হঠাৎ কেউ আমার হাত টান দিয়ে অন্য রুমে ঢুকিয়ে নিলো।হঠাৎ এরকম হওয়ায় ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি। চোখ খুলতেই আমার সামনে নোহানকে দেখি যে এখনো আমার হাত ধরে রেখেছে।নোহানকে দেখে আমি বেশ রাগ হলো।রাগি গলায় বলি:
~সমস্যা কি? এভাবে টান দিলি কেন?
আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো ঠোঁট কামড়ে হেসে একটা ফালতু গাল গাইতে লাগে।
**
অল্প না বয়সের ছকিনা ছেরি
আমার মন ক্যান করলি চুরি.
সত্যি কইরা বলনা ছেরি গো
কোন জেলায় বাড়ি
অল্প না বয়সের ছকিনা ছেরি
আমার মন ক্যান করলি চুরি
সত্যি কইরা বলনা ছেরি গো
কোন জেলায় বাড়ি
**
গান শেষ করেই নোহান কোটকুটিয়ে হাসে।তার ব্যবহার আমার কাছে অন্যরকম লাগলো। খুব বাজে!নিজেকে এই ভুল ধারণা থেকে বের করতে হাতটা ঝারা মেরে ছাড়িয়ে আগের মতো করে বলি:
~এই, এসব কি ধরনের গান? আমাকে এসব গা.
আমার কথা শেষ হবার আগেই নোহান আমার সামনে হাটু ভেঙে বসে একটা টকটকে গোলাপ আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে:
~আই লাভ ইউ সারা। অনেক আগে থেকে তোমাকে আমি পাগলের মতো ভালোবাসি। আর অনেক আগেই চেয়েছি বলতে কিন্তু সময়, সুযোগ কোনোটাই পায়নি বাট এখন মনে হলো সুযোগ সময় দুটোই আছে তাই বলে দিলাম। প্লিজ আমায় ফিরিয়ে দিও না।
আমি স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছি। নিজের কানকে যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না। এই প্রথম মনে হয় নোহান আমাকে তুমি আর আমার নাম ধরে বলেছে। নোহানের দিকে অবাক নয়নে তাকিয়ে আছি। সে উত্তরের আশায় কিছু বলার জন্য মুখ খুলার আগেই আমি তার গালে সর্ব শক্তি দিয়ে এক থাপ্পড় বসিয়ে হনহন করে রুম ত্যাগ করলাম। কিছুক্ষন পর শুনলাম নোহান আপুর সাথে কোন বিষয়ে যেন রাগারাগি করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। আমি তাতে যেন কিছু যাই এলোনা!উল্টো নিজের উপর রাগে,দুঃখে, লজ্জায় শরীর রি রি করছে। পুরো বিয়ে জুরে আমি মিনু আপুর সাথে রুমে বসে কাটিয়েছি আর আপুর বিদায়ের পর আমি নিজের বাড়ি চলে আসি। ভুলেও নোহানের সামনে পর্যন্ত যায়নি।
কিন্তু আমার জীবনে তখন বিপর্যয় নেমে এলো যখন নোহান তার বাবাকে বলে, সে আমাকে ভালোবাসে। ওই দিন ওকে ওর বাবা বেল্ট দিয়ে মেরেছে তবুও বেহায়া টা নাকি আমার নামই নিচ্ছে।তনু আপুও কান্না করতে করতে আমাদের বাসায় এসে আমাকে বকাবকি এমকি মারতেও আসে। আমার মা ছলছল নয়নে তনু আপুকে আটকে ভাঙা গলায় জিজ্ঞাসা করে।
~তোর সত্যি নোহানের সাথে..
মাকে মাঝ পথে আটকে দিয়ে কান্না করতে করতে চিৎকার করে বললাম:
~না আম্মা, আমি বেহায়া না যে নিজের ভাগিনার সাথে ছি.। আমি নোহানকে সবসময় আমার ছেলের মতো দেখেছি। নোহান আমার বোনের ছেলে তার সাথে আমি। ছি.!নাউযুবিল্লা।
আমাদের চিৎকার-চেচামেচি শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ভির করে। গ্রাম অঞ্চলে একটু শব্দ হলেই মানুষের ভির জমে। তনু আপু শেষে যেতে যেতে বলেছে আমি নাকি তার ছেলেকে জাদু করেছি।