নোবেলজয়ী আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি লেখক আলবেয়ার কাম্যুর ‘দ্য স্ট্রেঞ্জার’ উপন্যাসটি বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত ফরাসি বইগুলোর মধ্যে একটি। প্রকাশের ৮০ বছরের বেশি সময় পরেও বইটি পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
১৯৪২ সালের মে মাসে 'ল'এট্রেঞ্জার' নামে ফরাসি ভাষায় লেখা উপন্যাসটি ‘দ্য স্ট্রেঞ্জার’ এবং ‘দ্য আউটসাইডার’ নামে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। এই বইটিকে
টেলিভিশন বা সিনেমার জন্য রূপান্তর করার খুব কম চেষ্টাই করা হয়েছে। কারণ আলজেরিয়ায় ফ্রান্সের উপনিবেশ স্থাপনের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাসটিকে সমস্যাযুক্ত এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী বলে মনে করা হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক ওয়েবসাইট কাল্ট নিউজ এক প্রতিবেদনে লিখেছে, আলবেয়ার কাম্যুর ল'এট্রেঞ্জারকে সিনেমায় রূপান্তরিত করা হিমালয় আরোহণের মতই কঠিন কাজ। তবে সম্প্রতি ফরাসি পরিচালক ফ্রাঁসোয়া ওজোন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার চেষ্টা করেছেন।
তিনি ১৯৪২ সালের এই উপন্যাস অবলম্বনে সাদা-কালো একটি সিনেমা তৈরি করেছেন, যা ফরাসি আলজেরিয়া সম্পর্কে কামু যা বলেছিলেন অথবা যা বলতে ব্যর্থ হয়েছেন তা নিয়ে বিতর্ককে পুনরুজ্জীবিত করেছে। ১৯৬২ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এই বিতর্ক শেষ হয়েছিল বলে অনেকেই ধারণা করতেন।
ফ্রাঁসোয়া ওজোনের ল'এট্রেঞ্জার ইতোমধ্যেই ফ্রান্সে মুক্তি পেয়েছে। তবে সিনেমাটি আগামী বছর যুক্তরাজ্যে ‘দ্য স্ট্রেঞ্জার’ নামে মুক্তি পাবে। সিনেমায় আলজিয়ার্সের ফরাসি বসতি স্থাপনকারী অ্যান্টিহিরো মুরসল্টের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফরাসি অভিনেতা বেঞ্জামিন ভয়েসিন।
এদিকে ১৯৬৭ সালে, ইতালীয় পরিচালক লুচিনো ভিসকোন্তি এই উপন্যাসটি অবলম্বনে প্রথম চলচ্চিত্র তৈরি করেন। এতে অভিনয় করেছিলেন মার্সেলো মাস্ত্রোইয়ান্নি। ছবিটি ব্যর্থ হিসেবে দেখা হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিক্ষক এবং আলজেরিয়ার উপর বেশ কয়েকটি বইয়ের লেখক নেদজিব সিদি মুসা বলেছেন, ফ্রাঁসোয়া ওজোন, কাম্যুর লেখার প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন। তিনি ল'এট্রেঞ্জার কী তা সঠিকভাবে তুলে ধরেছেন। এটি উপনিবেশবাদবিরোধী কোনো ইশতেহার নয়, কাম্যু এই বইয়ে এমন একটি সমাজের ছবি এঁকেছেন, যা তিনি ভালো করেই জানেন।
সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যের অধ্যাপক ক্যাথেরিন ব্রুন বলেছেন, গল্পটি অস্পষ্ট থাকার কারণে ল'এট্রেঞ্জার ফরাসি সমাজকে বিভক্ত করে চলেছে। উপন্যাসটি এখনও একটি বিভ্রান্তি হিসেবে রয়ে গেছে। এই উপন্যাস নিয়ে প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে পারে। অনেকটা কাম্যুর মতো।
উল্লেখ্য, আলবেয়ার কাম্যু ১৯৫৭ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হন। তিনি ১৯৬০ সালের জানুয়ারিতে ৪৬ বছর বয়সে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান