সৃষ্টি কর্তা
একটি ছোট শহরে, অর্ক নামে একজন তরুণ বসবাস করত। অর্কের প্রতি কিছু বিশেষ ক্ষমতা ছিল—সে যে কিছু আঁকত, তা জীবন্ত হয়ে উঠত। ছোটবেলা থেকেই সে কল্পনার জগতে হারিয়ে যেত। তার ঘর ছিল অদ্ভুত রঙের পেন্সিল আর কাগজে ভরা।
একদিন অর্ক শহরের পার্কে বসে নতুন কিছু আঁকছিল। সে একটি ছোট নৌকা আঁকল, যা হঠাৎ পানি ছাড়াই পার্কের ঘাসের উপর ভেসে উঠল। সবাই অবাক হয়ে তাকাল। কিন্তু অর্কের চোখে আনন্দের জ্যোতি ছড়িয়ে পড়ল। সে বুঝল, সে শুধু আঁকতে পারে না, সৃষ্টি করতে পারে।
তার খুশির খবর শহরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল। মানুষ আশ্চর্য হয়ে আসতে লাগল, কিছু স্বপ্ন পূরণের জন্য। কেউ চেয়েছিল একটি সুন্দর বাগান, কেউ চেয়েছিল একটি লুকানো ফুলের ঝর্ণা। অর্ক শুধুমাত্র আঁকল আর সব বাস্তবে পরিণত হলো।
কিন্তু একদিন, অর্কের সামনে আসে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শহরের বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য একটি বনকেই ধ্বংস করার হুমকি। মানুষ চাইল বন ধ্বংস না হয়। অর্ক ভাবল, কেবল আঁকা দিয়ে কি সে বনকে রক্ষা করতে পারবে?
সে একটি বিশাল দড়ি আঁকল, যা আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত ঝুলছিল। তার আঁকার শক্তি দিয়ে সেই দড়ি বাস্তবে এসে বনকে ঘিরে রাখল। বন্যপ্রাণীরা নিরাপদ হলো, বন অক্ষত রইল। মানুষ চমকে গেল, কিন্তু অর্ক জানল—শুধু শক্তি নয়, কল্পনা ও দায়িত্বই মানুষকে সত্যিকারের সৃষ্টিকর্তা বানায়।
এরপর অর্ক বুঝল, তার ক্ষমতা শুধুমাত্র মজা বা খুশির জন্য নয়। সমাজের উপকারে ব্যবহার করতে হবে। সে শহরের শিশুদের শেখাতে শুরু করল, কিভাবে কল্পনা ও সৃষ্টিশীলতা দিয়ে জীবনকে সুন্দর করা যায়।
শহর ধীরে ধীরে একটি জাদুর শহরে পরিণত হলো, যেখানে মানুষ কল্পনা ও বাস্তবের মধ্যে সমন্বয় করতে শিখল। আর অর্ক? সে শুধুই আঁকত না, সে সৃষ্টি করত, মানুষের জীবনে আশ্চর্য নিয়ে আসত।
শেষে, অর্কের জীবন প্রমাণ করল—স্রষ্টা শুধু সেই নয়, যে সৃষ্টি করে, বরং সেই যে সৃষ্টিকে মানুষের জন্য ব্যবহার করে।
((এটি একটি কল্পনাভিত্তিক গল্প কেউ সিরিয়াসলি নিবেন না))