অনেক বছর আগে এক ছোট্ট গ্রামে বাস করতেন একজন দরিদ্র কিন্তু অত্যন্ত আল্লাহভীরু মানুষ। তার নাম ছিল ইউনুস। সংসারে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার জীবন চলত খুব কষ্টে। প্রতিদিন সকালে সে কাজের খোঁজে বের হতো, কিন্তু অনেক সময় কাজ জুটত না। তবুও ইউনুস কখনো নামাজ ছাড়ত না, কখনো মিথ্যা বলত না, কখনো হারাম পথে রুজি খোঁজেনি।
গ্রামের লোকেরা অনেক সময় তাকে বলত,
“ইউনুস, শুধু নামাজ পড়ে কি পেট চলে? একটু চালাকি করলে তো ভালোই চলতে পারে!”
ইউনুস শান্ত কণ্ঠে বলত,
“রিজিকের মালিক মানুষ নয়, আল্লাহ। আমি শুধু হালাল পথ ছাড়ব না।”
একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। চারদিকে কাদা, রাস্তা বন্ধ। কেউ কাজ দিতে চাইছিল না। সেদিন ইউনুসের ঘরে এক মুঠো চালও ছিল না। তার ছোট মেয়ে ক্ষুধায় কাঁদছিল। স্ত্রী চোখের পানি লুকিয়ে বলল,
“আজ যদি কিছু না জোটে, তাহলে সন্তানদের কী খাওয়াব?”
ইউনুস কিছু বলল না। শুধু ওযু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ল। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে হাত তুলে বলল,
“হে আল্লাহ, তুমি জানো আমার অবস্থা। আমি কারও কাছে হাত পাতিনি, শুধু তোমার কাছেই ভরসা করেছি।”
নামাজ শেষে সে বের হলো। পথে সে দেখল, রাস্তার পাশে একটি টাকা ভর্তি থলে পড়ে আছে। থলেটি খুলে দেখে অনেক স্বর্ণমুদ্রা। এক মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো—
“এই টাকা নিলে আমার সব কষ্ট শেষ হয়ে যাবে।”
কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সে থলেটি বন্ধ করে বলল,
“না, এটা আমার নয়। হারাম দিয়ে শুরু হওয়া সুখ কখনো শান্তি দেয় না।”
ইউনুস গ্রামের মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে সব কথা বলল। ইমাম সাহেব ঘোষণা দিলেন—
“কারও টাকা হারিয়ে গেলে সে এসে চিহ্ন বলে নিয়ে যাবে।”
দু’দিন পর এক ধনী ব্যবসায়ী এলেন। তিনি থলের সব চিহ্ন ঠিকভাবে বললেন। টাকা ফেরত পেয়ে তিনি খুব খুশি হলেন। তিনি বললেন,
“ইউনুস, তুমি চাইলে এই টাকা রেখে দিতে পারতে। তুমি যা করেছ, তা খুব বড় ইমানের পরিচয়।”
ব্যবসায়ী ইউনুসকে কিছু টাকা দিতে চাইলেন, কিন্তু ইউনুস বলল,
“আমি আল্লাহর জন্য করেছি, মানুষের জন্য নয়।”
এই কথা শুনে ব্যবসায়ীর চোখ ভিজে গেল। তিনি বললেন,
“আজ থেকে তুমি আমার ব্যবসার অংশীদার। তোমার সততা আমার দরকার।”
কিছুদিনের মধ্যেই ইউনুসের জীবন বদলে গেল। অভাব দূর হলো, কিন্তু তার নামাজ, দোয়া, আর আল্লাহর উপর ভরসা একটুও কমেনি।
63
View