নাইজেরিয়ার লেখক চিমামান্দা এনগোজি আদিচির ‘নোটস অন গ্রিফ’ নামের স্মৃতিচারণামূলক বইটি তার বাবার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে লেখা হয়েছে। আদিচির বাবা জেমস নওয়ে আদিচি ২০২০ সালে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট জটিলতায় আকস্মিকভাবে মারা যান।
বাবার মৃত্যুর সময় আদিচি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। সে সময় নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিউইয়র্কারে একটি স্মৃতিচারণামূলক লেখা লিখেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে এটিকেই বড় করে বইয়ে প্রকাশ করা হয়।
পুরস্কারজয়ী নাইজেরিয়ার এ লেখক তার বইয়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের মহামারীর সময়ে তার বাবার মৃত্যুতে সম্মিলিত শোকের প্রকৃতির অনুসন্ধান করেছেন। তিনি লাখ লাখ শোকাহত মানুষদের একজন হিসেবে নিজেকে দেখেছেন। শোকের পারিবারিক এবং সাংস্কৃতিক দিক নিয়েও আলোচনা করেছেন। এছাড়া সে সময় একাকীত্ব এবং ক্রোধ যে তার নিত্যসঙ্গী ছিল সে বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি।
এই বইয়ে নিজের শোক এবং বেদনার কথা ছাড়াও তার পিতার জীবনের গল্পও বর্ণনা করেছেন আদিচি। বায়াফ্রার যুদ্ধে বেঁচে যাওয়া একজন মানুষ কীভাবে পরিসংখ্যানের অধ্যাপক হলেন সেই কাহিনীও তুলে ধরেছেন তিনি। মূলত ‘নোটস অন গ্রিফ’ বইয়ে দয়ালু এবং চমৎকার স্মরণীয় একজন মানুষের প্রতিকৃতি অংকন করা হয়েছে।
প্রভাবশালী ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে আদিচি তার বাবাকে সবচেয়ে ভালো মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বাবার কাছ থেকে শোনা বায়াফ্রার যুদ্ধের কাহিনী দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি ‘হাফ অব অ্যা ইয়েলো সান’ উপন্যাসটি লিখেন।
উল্লেখ্য, চিমামান্দা এনগোজি আদিচি নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় একজন লেখক। তিনি উপন্যাস, ছোট গল্প এবং ননফিকশনের উপরও লেখালেখি করেন। নারীবাদী এই লেখকের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো, ‘পার্পল হিবিসকাস’, ‘হাফ অব অ্যা ইয়েলো সান’ এবং ‘অ্যামেরিকানাহ’। ২০০৬ সালে প্রকাশিত ‘হাফ অব অ্যা ইয়েলো সান’ উপন্যাসের জন্য উইমেনস প্রাইজ ফর ফিকশন পুরস্কার পান তিনি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান