'আড়ষ্টতা'
নিজেকে সম্পূর্ণটা বদলে নেবার
কয়েক মুহূর্ত আগেও মনে হয়েছিল—
না, আমার সত্যিই এবার পালানোটাই শ্রেয়।
ধূসর একটি সস্তা জীবন তার শৃঙ্খলময় আঙ্গুলে
আমায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নেবার
পায়তারা করছিল বেশ আগে থেকেই,
হয়তো এবারে পরাস্ত হতেই হয়।
অথচ পরম্পরাকে ভেঙ্গে দেবার যে দৃঢ় প্রত্যয়
জেগেছিল এই মনে একদিন,
যে স্বপ্নের ঠোকরে উত্যক্ত বিবেক নিয়ে একদা
কেটেছে আমার সমুহ ক্ষণ;
সেইদিন কিংবা সেইসব স্বপ্নকে আজ আর
বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়না।
এরপর বয়সের ভারে স্বপ্নেরা একটু একটু করে
যখন হয়েছে অভিব্যক্তিহীন;
সেই প্রহরে এসে আজ নিজেকে যেন
খুব করে অচেনা মনেহয়।
মনেহয়, খুব বড় কোন ভুল রয়ে গেছে কোথাও।
দৌড়ের মাঠে হঠাৎ নিজেকে সবার পেছনে দেখে
ভীষণ ভয় হয় এখন।
আমার প্রমত্ত অবচেতনা সেই ক্ষণেও আমায়
চিৎকার করে বলে—পালিয়ে যাও!
আর সামান্য পথের পরেই সেই কাঙ্ক্ষিত মোক্ষ।
চমকে কেঁপে উঠে আমি তাকাই চারিদিকে।
ছাদের সেই ঘুলঘুলি; বিবর্ণ চেয়ার টেবিল এবং
আমার সংকুচিত সত্তা নিয়ে কোনঠাসা হয়ে আমি।
আর দেয়ালের ওপাশে সমস্ত মানুষ হায়েনার মতো
ধূর্ত চোখে চেয়ে আমায় বলে—ফিরে এসো!
আমার খুব ভয় করে;
অদ্ভুত এক আড়ষ্টতা নিয়ে আস্তে
আমি এগিয়ে যাই তাদের কাছে,
আর পালানো হয়ে ওঠেনা আমার।