Post

স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাসন

January 1, 2026

268 views

আজকের এই পহেলা জানুয়ারির কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে জেগে বিছানায় কিছুক্ষণ ঝিম মেরে বসে ছিলাম। অলসতার মাঝে জীবন থেকে একটার পর একটা দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ভাবতে গেলে কেমন জানি একধরণের বিষন্নতা অনুভব করি। এমনটা হবার কথা ছিল নাকি? হয়তো ছিল, হয়তো ছিল না। বয়স যখন কম ছিল, তখন ভাবতাম ভবিষ্যতে তো অঢেল সময় এবং সুযোগ পাওয়া যাবে। তখন সবকিছু আগাগোড়া পাল্টে ফেলবো। এরপর সময় বয়ে চললো। সুযোগ কি পেয়েছিলাম, নাকি পেয়েও না পাবার ভান করে বসে ছিলাম—সেটা স্পষ্টভাবে মনে নেই। হয়তো ভেবেছিলাম আরও কিছুদিন যাক, তারপর দেখা যাবে। এরপর দিন, মাস, বছর এবং দুটো যুগের পরিক্রমায় সময় যখন বহুদূর গড়িয়ে গেছে—তখন লক্ষ্য করলাম আমার চারপাশের সবকিছুই কবে জানি আমূল পাল্টে গেছে। একমাত্র আমিই শীতের পাতা ঝরা গাছের মতন একটা স্থবিরতা নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি। জীবনের চলমান গতিশীলতা সবাইকে তাড়িয়ে নিয়ে চলে গেছে বহুদূরে। আমার পাশে আর কেউ-ই নেই। একবার এক পৌষের রাতে আমাদের বাড়ির পেছনে উত্তরের বেত ঝোপের পাশে একটি বুড়ো শেয়াল কে শীতে জুবুথুবু হয়ে বসে থাকতে দেখেছিলাম। ঘোলাটে চোখে একবার আমার দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিয়েছিল প্রাণীটা। বুড়ো বয়সে শিকার ধরে খাবার মতো সামর্থ্য হয়তো ছিল না ওর। আমি বাড়ি এসে ওর জন্য কিছু খাবার নিয়ে গিয়ে ওকে আর খুঁজে পাইনি। হয়তো হারিয়ে গিয়েছিল দূরের কুয়াশার আস্তরণ ভেদ করে দূরে কোথাও। হয়তো শেয়ালটির মতন আমিও একদিন চুপিসারে চলে যাবো গাঢ় কুয়াশার আড়ালে। এই জনপদ, মাঠঘাট, অরণ্যেরা পড়ে থাকবে পৃথিবীর সুন্দরতম প্রাচীণতার অংশ হয়ে।

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login