প্রায় অনেক গুলো দিন পর আজ বাইরে বের হয়েছিলাম। বের হবার মতন জোরালো একটা উপলক্ষ যদিও ছিল, আজ পূর্ণিমা। ব্যক্তিগতভাবে আমি খানিকটা চন্দ্রগ্রস্ত মানুষ। অর্থাৎ চাঁদের প্রতি বিশেষ মোহগ্রস্ত। জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় যেমনটি লিখেছেন। আজকেই আমার বহু পুরনো দু'জন বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছিল। সর্বপ্রথম মেহেদী, এরপর সুমন। মেহেদী যদিও বেশিক্ষণ ছিল না। সুমনের সাথে অপূর্ব নামে একটা ছোটভাই এসেছিল। আমরা কথায় কথায় বাগেরহাট রেল রোড পর্যন্ত চলে এলাম। সেখানে কিছুক্ষণ জমিয়ে আড্ডা দেবার পর রাত আটটা নাগাদ উঠে পড়লাম। শীতকালে আটটা বাজলেই অনেক রাত মনে হয়। একা ফিরছি। বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি, ঠিক এস্কিমোদের মতো পোশাক পরা একটা ছেলে ব্যাটারি চালিত খোলা ভ্যান চালিয়ে যাচ্ছে। ওর ভ্যানে উঠে পড়লাম। ব্রীজের ওপর থেকে যাবার সময় খেয়াল করলাম, ওর মিটারে ঘন্টায় চল্লিশ শো করছে। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর মনে হচ্ছিল, আমি হয়তো এখন রাশিয়ার সাইবেরিয়ার মধ্যে থেকে যাচ্ছি। ঠান্ডা বাতাস আমার মুখে কামড় বসাচ্ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে আমার চশমার কাচে শিশির জমে ঘোলা হয়ে গেল। বুঝলাম, এইভাবে গেলে কিছুক্ষণের মাঝে জমে যাবো। বাধ্য হয়ে ফতেপুর হাটখোলা বাজারে নেমে পড়লাম। আহা, শান্তি। ওখানে একটা দোকান থেকে এক কাপ গরম চা খেয়ে শরীরের মধ্যে কিছুটা উষ্ণতা অনুভব করলাম। এরপর হাটখোলা থেকে চন্দ্রপাড়ার মধ্যে থেকে হাঁটতে শুরু করলাম। রাত পৌনে নয়টা, অথচ রাস্তা পুরোপুরি নির্জন। একটা কুকুর পর্যন্ত নেই। জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে সমস্ত চরাচর। পুরো রাস্তায় আমি একা। আমার রিসেন্ট কেনা অ্যাপেক্সের জুতোজোড়া আমার পায়ের সঞ্চালনে রাস্তায় অদ্ভুত এক আওয়াজ তুলছে। একটা সময়ে এই রাস্তা ধরেই আমি বহুবার হেঁটে গিয়েছি। বহু স্মৃতিবহুল, বহু মুগ্ধতায় ভরা ছিল সেই জীবন। এরপর কেটে গেছে কতো কতো ভরা পূর্ণিমা। আমার আর আসা হয়নি এই মুল্লুকে। অনেকদিন পর এই নির্জন রাত, এই ভরা পূর্ণিমা, এই তুমুল রহস্যময় কুয়াশা আমাকে ভীষণ ভাবে মোহগ্রস্ত করে তুললো। এই মুগ্ধতাটুকু থাকুক। সত্যি বলতে কি, ভীষণই সংকটময় একটা সময় অতিক্রম করছি। অধিকাংশ সময়ে মন খুবই বিক্ষিপ্ত থাকে। দুঃসময় কেটে যাবার জন্য প্রায় দমবন্ধ হয়ে বসে আছি। হয়তো, আর একটু। তারপরেই!
০২.০১.২০২৫ খ্রিঃ
শুক্রবার।