Posts

উপন্যাস

Dark Site Of Love Part 3

January 3, 2026

Anu Popy

Original Author Popy

Translated by Popy

27
View

৩.
#ডার্ক_সাইড_অফ_লাভ 
"কোথায় যাচ্ছো?"

থেমে যায় তরু। পা দুটো কেঁপে উঠে। চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে।
মৃন্ময় দুই হাত পকেটে গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে। করিডোরে তার কয়েক হাত দূরে তরু। পালানোর চেষ্টা করছে?এত সাহস। মৃন্ময় শান্ত থাকলো। দূর থেকেই টের পাচ্ছে তরুর কাপাকাপি।

"কো-কোথাও না"

ভয়ে গলায় কথারা সব জরিয়ে যাচ্ছে।অনেক কষ্টে মৃন্ময়ের চোখে ধুলো দিয়ে রুম থেকে বেরিয়েছিল।মৃন্ময় যখন খাবার হাতে রুমে ঢুকেছিল তখন তরু ছিলো দরজার আড়ালে।ওয়াশরুমের কল ইচ্ছে করেই ছেড়ে রেখেছিল। মৃন্ময় ওয়াশরুমের দিকে যেতেই সে বেরিয়ে আসে। এই কান্ড করে এখন খুব আফসোস হচ্ছে তরুর। বোকার মত একটা কাজ করে বসলো। কতটা বলদ সে।

হাসলো মৃন্ময়। একপা দুপা করে এগিয়ে গেলো তরুর কাছে। ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে নিশ্বাস ছাড়লো।

"পালাচ্ছিলি...."

তরু মাথা দু'দিকে নাড়ালো।বুঝাতে চাইলো না।মৃন্ময় পিছে থেকে তরুর পেটে হাত রাখলো।

"মিথ্যে "
"না..না"
আর কিছু বলার সুযোগ পেলো না তরু।তার আগেই গলা পিছে থেকে চেপে ধরলো মৃন্ময়। ঘাড়ে নাক ঘষতে ঘষতে বলল,

"তুই পালাচ্ছিলি আমার থেকে! আমার থেকে!"

ঠান্ডা,সাধারণ শব্দগুলো তরুর কানে তীরের মতো লাগছে। তার সাথে এখন কি হবে আন্দাজ করতে পারছে। 
তরু যা ভাবছিল তা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেলো।মৃন্ময় কামড় বসালো তরুর গলায়।কামড় গুলো জোরে ছিল না। খুবই আস্তে আস্তে।তবে প্রতিবারই সামান্য ব্যথা দিচ্ছিল।কিন্তু হঠাৎ.... হঠাৎই প্রচন্ড জোড়ে দাঁত বসিয়ে দিলো মৃন্ময়।তরু ছিটকে সরে গেলো তার থেকে।ভাগ্যিস মৃন্ময় আলগা করে ধরেছিল তাকে।

চোখে পানি জমলো তরুর।মৃন্ময় হাত দিয়ে মুখ মুছে ফেললো।তরুকে টেনে রুমে নিয়ে গেলো। এতটুকুতেই ছেড়ে দিবে? পালানোর সাহস দেখিয়েছে?শাস্তি দিতে হবে না?

তরু কি হবে ভেবে থেমে থেমে কেঁদে উঠছে।বছর তিনেক আগের একটা মাত্র ভুল।তাকে এই সাইকোটার সাথে জড়িয়েছে।বন্ধু বান্ধবের সাথে ট্রুথ ডেয়ার খেলতে গিয়ে ডেয়ার নিয়েছিল। ফাজিল বন্ধুরা এমন এক ডেয়ার দিছিলো যার জন্য এখনো আফসোস হচ্ছে।

"চোখ বন্ধ করে সামনে এগিয়ে যাবি।যে প্রথম সামনে পরবে তাকেই কামড় মেরে পালাবি"

বন্ধুদের খপ্পড়ে পরে রাজি হয়ে যায় তরু।চোখ বেঁধে দেয় সবাই মিলে ওর। তরু এগিয়ে যায় সামনের দিকে।কয়েক কদম হাঁটতেই শক্ত একটা শরীরে ধাক্কা খায়। হাত দিয়ে শরীর ছুঁতে থাকে সে।

তরুর বন্ধু বান্ধবরা সামনে থাকা মানুষটাকে দেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে ভয়ে।কুহুর কথা বেমালুম ভুলে যায় তারা।

তরু কোনো কিছু না ভেবেই খুঁজে খুঁজে সামনে থাকা মানুষটার হাত বের করে।শক্ত করে কামড় বসায় তাতে। কে জানতো এই কামড় তার উপর সারাজীবনের জন্য ফেরত আসবে। জানলে হয়তো তরু কখনোই এই কাজ করতো না।

এতো জোড়ে কামড় বসানোর পরেও তরু কোনো প্রতিক্রিয়া বুঝলো না সামনের মানুষটার।আশ্চর্য হয়ে চোখের বাঁধন খললো।এতক্ষন বাঁধা থাকায় ঝাপসা দেখছিল। কয়েকবার চোখের পলক ফেলতেই,সামনে দৃশ্যমান হলো সুঠামদেহী একজন পুরুষ।তরুর যেনো চোখ ধাঁধিয়ে গেলো।মুখ দেখার জন্য তাকে চোখ উপরে তুলতে হচ্ছে।লোকটা এতটাই লম্বা।তরু আন্দাজ করে ফেললো লোকটা ৬ ফুট হবে।

লোকটার গায়ের রং উজ্জল শ্যামলা। পূরুষ মানুষকে যে রঙে মানায় সেটাই। চওড়া কাঁধে কালো রঙের শার্টটা টানটান হয়ে আছে, হাতা গোটানো। যে হাতে তরু কামড় বসিয়েছে, সেখানে দাঁতের দাগ স্পষ্ট, কিন্তু লোকটার ভ্রু পর্যন্ত কুঁচকায়নি। বরং অবাক করার মতো শান্ত।

মুখটা লম্বাটে। ঘন ভ্রু দুটো চোখের ওপর ছায়া ফেলে রেখেছে। চোখ দুটো গভীর কালো, এমন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে যে তরু অকারণেই একটু অস্বস্তি বোধ করলো। ঠোঁট টা তরুর নজরে পড়লো। সব থেকে বেশি নজরকাড়া।

চুল ঘন,আর গোছানো। গলায় এডামস অ্যাপল টা স্পষ্ট। 
সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপারটা হলো, এত কিছুর পরেও লোকটার মুখে কোনো রাগ নেই।কৌতূহল নিয়ে তাকিয়েছে তরুর পানে।ঠিক যেন তরু সেই কাঙ্ক্ষিত জিনিস, যাকে সে হঠাৎ করে খুঁজে পেয়েছে।

তরু মাফ চাইলো।লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারছে না সে।আশেপাশে খুঁজে দেখলো কোথাও বন্ধুরা নেই।কি বিপদ।মুখটা কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো।

তাঁকে অবাক করে দিয়ে লোকটা কিছু না বলেই তার গন্তব্যে চলে গেলো।তরু যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো।এতকিছু হয়ে গেলো,তারপরেও একটা মানুষ এতটা শান্ত।
তার বন্ধুবান্ধব রা কোথা থেকে যেন ঝড়ের বেগে বেরিয়ে এলো।

"এই তুই কাকে কামড় মেরেছিস জানিস?"
"ঐযে লোকটা গেলো ওনাকে"
"তুই জানিস উনি কে?"
"কে?"
"মৃন্ময় আবরার খান কে চিনিস?"
"হ্যাঁ"
"ওই লোকটাই উনি"

বন্ধুর শেষ কথাটা কানে যেতেই তরুর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো। যেন হৃদপিণ্ডটা এক মুহূর্ত থেমে আবার চলতে শুরু করলো। মাথার ভেতর একসাথে অনেক চিন্তা হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো।এই নামটা সে আগেও শুনেছে।

মৃন্ময় আবরার খান শহরের পরিচিত একটা নাম। ব্যবসা আর প্রভাব,দুটোর সাথেই তার যোগাযোগ আছে। প্রকাশ্যে কেউ তার সম্পর্কে বেশি কথা বলতে চায় না। সে নিজে খুব একটা সামনে আসে না, কাজগুলো লোকের মাধ্যমেই চলে।

সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয়টা তার স্বভাব। সে শান্ত। অকারণে উত্তেজিত হয় না। কথা কম বলে, শুনে বেশি। আজ এত কিছু হয়ে যাওয়ার পরেও সে কিছু না বলেই চলে গেছে, সেটাই অস্বাভাবিক লাগছে তরুর কাছে।
শোনা যায়, মৃন্ময় সহজে কাউকে ক্ষমা করে না। আবার হঠাৎ করে কিছু করেও বসেও না।তরুকে এই জিনিসটাই বেশি আতঙ্কিত করলো।

____

তরুকে এনে বিছানায় বসালো মৃন্ময়।তরু ফট করে ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো।সেদিনের পরের ঘটনা গুলো মনে করার সময় পেলো না।তার আগেই খাবারের প্লেট একটা রাখলো মৃন্ময় তার সামনে।নিজেও বসলো।

" খাইয়ে দে"

তাকালো তরু মৃন্ময়ের দিকে।খাইয়ে দিবে?ভুল শুনলো নাকি? খেতে বললো মনে হয়।

"এরকম ভ্যাবলার মত তাকিয়ে আছিস কেন?বললাম না খাইয়ে দিতে?"

তরু হাত রাখলো প্লেটে। খাওয়াতে গিয়ে টের পেলো হাত কাপছে।একই সাথে তার পেটেও ক্ষুধা। এই সেই ক্ষুধা না। প্লেট পুরো সাবার করে দেয়ার মতো।সেই যে কোরিয়ায় খেয়েছে,আর এখন সামনে খাবার দেখছে। লোকটা এতটা নিষ্ঠুর?তাকে একবারও খেতে বলছে না।

তরু কাপা হাতে খাবার তুলে দিলো মৃন্ময়ের মুখে। খেলো মৃন্ময়।তরুর হাতের কাঁপুনি মৃন্ময়ের চোখ এড়ালো না। তবু সে কিছু বললো না। চুপচাপ খেয়ে গেল।

একটু পর সে নিজেই প্লেটটা টেনে নিলো তরুর দিক থেকে। কাঁটা চামচে খাবার তুলে এবার তরুর সামনে ধরলো।

"এবার তুমি খাও"

তরু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। এতক্ষণ যে মানুষটাকে নিষ্ঠুর মনে হচ্ছিল, সে এখন শান্ত গলায় এমনভাবে বলছে।

"চুপ করে খাও"

মৃন্ময় আবার বললো।
তরু আর কিছু বললো না। ক্ষুধাটা তখন আর চেপে রাখা যাচ্ছে না। ধীরে ধীরে খেতে শুরু করলো। প্রথম কয়েক লোকমা গলায় আটকে আসছিল, তারপর শরীরটা একটু শান্ত হলো।

ঘরে নিস্তব্ধতা। শুধু চামচের হালকা শব্দ আর দুজনের নিঃশ্বাস।
খাওয়া শেষ হলে মৃন্ময় উঠে দাঁড়ালো। যাওয়ার আগে একবার তরুর দিকে তাকালো।

"নাউ, আমি তোমাকে খাবো"

চলবে....

(নোট: ২k রিয়েক্ট না আসলে নেক্সট পার্ট আসবে না। আর নেক্সট পার্টে কিছু একটা হতে চলেছে👀 পর্ব টাও এর দ্বিগুন বড় হবে।)

Comments

    Please login to post comment. Login