উ*হু...আ*হ.. প্লিজ এবারের মতো আমায় ছেড়ে দিন..প্রায় দু'বার করেছে..ন! আর পা*রছি না আমি!”
মেয়েটির কথায় তার সাথে দৈ*হিক মিলনরত অবস্থায় থাকা লোকটির মাঝে কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপের দেখা মিলেনি। নিজের কাজ আরো দে*হের সর্বোচ্চ শ*ক্তি দিয়ে করার এক পর্যায়ে মেয়েটির মুখে থেকে আবারো বেরিয়ে আসে ব্য*থা*তুর শব্দ-- “আ*হ..প্লিজ এবারের মতো রেহাই দি...!”
মেয়েটির বাকি কথা বাকিই থেকে যায়। লোকটি মেয়েটির মু*খ চে*পে ধরে এক হাত দিয়ে আর রাগী কিন্তু হ*র্ণি ভয়েস দ্বারা বলে,
—“তুমি আমার টাকায় কেনা এক রাতের প*তি*তা। সো,আই অ্যাম হাঙরি ফর বডি*লি প্লে*জার রাইট নাও। ডো*ন্ট আটার আ সিঙ্গল ওয়ার্ড!”
লোকটি মেয়েটির মু*খ আরো শ*ক্ত করে চে*পে ধরে কার্য অতিবাহিত করতে থাকে। সারা ঘরে তাদের ওঠা-নামা করা শ্বা*স ঘনীভূত হয়ে চার দেয়ালের সংস্পর্শে এসে কানে আরো জোরে টোকা নাড়ছে।
—“আ*হ… ইটস কা*মিং।টেক ইট, মাই প্র*স্টি*টিউ*ট!”
পুরুষটি নিজের স্পা*র্ম মেয়েটির দে*হে বিসর্জন দিয়ে ক্লান্ত দে*হ নিয়ে মেয়েটির উপর ঢলে দিয়ে ধীরে শ্বাস ফেলল। মেয়েটি নিঃশব্দে পড়ে রইল শীতল, নি*র্লিপ্ত, আ*ত্মা-শূন্য। পাশে থাকা গ্লাস থেকে পানি তুলে পুরুষটি ঢকঢক করে খেয়ে আবার মেয়েটির শরী*রের উপর ভ*র দিয়ে শুয়ে পড়ল। ঘরের বাতাসে একটি তীব্র ভারী নীরবতা জমে উঠল।
মেয়েটির চোখ বেয়ে একে একে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। নিয়তির নি*ষ্ঠুর হাত আজ তাকে ঠিক কোন প্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে, সে নিজেও জানে না। বাবা-মায়ের আদরের সন্তান—আজ তাকে জীবনধারণের তাগিদে যে পথ বেছে নিতে হয়েছে, সেটির নাম সমাজ ঘৃণাভরে উচ্চারণ করে ‘প*তি*তা’ ‘বে*শ্যা’ ।
পুরুষটির ভা*রী শরীর নিজের উপর রেখেই মেয়েটি স্মৃতির ভেতর ডুবে যাচ্ছিল মাত্র ছয় ঘণ্টা আগের মুহূর্তটিতে।
*
*
*
ছ' ঘন্টা পূর্বের মুহুর্ত,
হাসপাতালের লম্বা করিডোরের একপাশে উদ্বি*গ্নভাবে পায়চারি করছিল বছর উনিশ-বিশের এক তরুণী। সাধারণ ঘরের মেয়েদের মতই সাদামাটা একটি থ্রিপিস পরনে অথচ চোখে-মুখে ছিল গভীর উৎ*কণ্ঠা। সে বারবার তাকাচ্ছিল ২০৯ নম্বর কেবিনের দিকে সেখানে তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, তার মা, শুয়ে আছেন।
—“মিস রুবাইয়া বিনতে শূন্যতা!”
ডাক শুনে মেয়েটি ভড়কে সামনে তাকায়। ডাক্তারি কোট পরা এক যুবক এগিয়ে আসছে, হাতে রিপোর্টের ফাইল।ডাক্তার আসিফ সামনে এসে নরম কণ্ঠে বললেন,
—“আপনার মা কেমন আছেন তা নিয়েই কথা বলতে এসেছি।”
রুবাইয়া কাঁ*পা কণ্ঠে প্রশ্ন করে,
—“ডাক্তার আসিফ… আমার মা এখন কেমন আছেন?”
তার চোখে তখন এতটুকু আ*লোও নেই শুধু ভ*য়, আ*কু*তি আর এক অনন্ত আশার স*ন্ধান।
শূন্যতার প্রশ্ন শুনে ডাক্তার আসিফের মুখে মুহূর্তেই এক অ*দ্ভুত গাঢ় ছায়া নেমে এলো। হাতে থাকা ফাইলটি সে শূন্যতার দিকে এগিয়ে দিয়ে গ*ভীর নিশ্বাস ফেলল।
—“দেখুন, মিস রুবাইয়া আপনার মায়ের অব*স্থা খুবই ক্রি*টি*কাল। কালকের মধ্যে অপা*রেশন না হলে আমরা তাকে আর বাঁ*চাতে পারব না।”
মুহূর্তেই শূন্যতার পায়ের নিচের মাটি যেন ভে*ঙে গেল। সে দু’কদম পিছিয়ে গেল চ*মকে, আর তার হাত থেকে ফাইলটি সশব্দে পড়ে গেল ঠা*ন্ডা হাসপাতালের মেঝেতে। শূন্যতা নি*র্বাক চোখে তাকিয়ে রইল ডাক্তার আসিফের মুখের দিকে যেন শব্দ হারিয়ে যাওয়া এক পা*থর-হয়ে-যাওয়া মেয়ে।
তার এমন ভে*ঙে পড়া অবস্থা দেখে ডাক্তার আসিফের বুকে অদ্ভুত এক ব্যথা খেলে গেল। সেটা নিছক মা*নবি*কতার জন্য, নাকি আরেক কোনো কারণে সে নিজেও হয়তো বলতে পারবে না।নিজেকে সামলে নিতে চেষ্টা করে শূন্যতা কেঁপে ওঠা গলায় বলল,
—“কত… কত টাকা লাগবে, ডাক্তার?”
দৃষ্টিতে তখন অদ*ম্য চে*ষ্টা নিজেকে শ*ক্ত দেখানোর, বু*কের ভেতরের ঝ*ড় লুকিয়ে রাখার।আসিফ কিছুক্ষণ ইত*স্তত করল। যেন এই সংখ্যা উচ্চারণ করাও তার জন্য ক*ঠিন। তবুও বলল,
—“মোট… সাত লাখ টাকা লাগবে। কালকের ভেতর টাকা জমা না দিলে অপারেশন সম্ভব হবে না। আর না হলে…”
বাকি কথাগুলো সে আর বলতে পারল না।সাত লাখ।
এই একটি শব্দ যেন শূন্যতার মা*থার উপর ভেঙে পড়ল পুরো আসমান হয়ে। যার কাছে সাত টাকাও অ*ভাব সে কোথায় পাবে সাত লাখ টাকা তাও মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে! মাকে হারানোর ভ*য় তার নিঃ*শ্বাস পর্যন্ত কে*ড়ে নিতে লাগল।
কোন দিকেই যেন আলোর রেখা নেই।আত্মীয়-স্বজন বহু আগেই হাত গু*টিয়ে নিয়েছে।দরজার ওপাশে কোনো আশার মুখও নেই।তবুও সে দাঁত চেপে, চোখের জল মুছে আসিফকে বলল,
—“আপনি… আপনি অপারেশনের ব্যবস্থা করুন। টাকার ব্যবস্থা আমি… আমি করে ফেলব।”
কথাগুলো বলা মাত্র সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াতে পারল না। দিশেহারা পায়ের শব্দ ফেলতে ফেলতে দ্রুত বেরিয়ে গেল হাসপাতালে থেকে।
হাসপাতালের দরজা পেরিয়ে বাইরে এসে রাস্তার ধুলো-মাখা ফুটপাতে ধপ করে বসে পড়ল। তার হাত কাঁপছে, বু*ক ধড়*ফড় করছে, চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে অশ্রু*জলে।
সে মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাল মনে হলো যেন ওপরে কোথাও থেকে কারো সাহায্য নামবে।অথবা হয়তো সে শুধু চেয়েছিল তার মায়ের মতো প্রিয় কারো জীবন বাঁচানোর শ*ক্তি যেন নিজের ভেতরেই কোথাও খুঁজে পায়।
—“আমি এখন কী করব, বাবা? কিভাবে বাঁচাবো তোমার অর্ধাঙ্গিনীকে? এত টাকা আমি কোথায় পাবো?”
রাস্তার ধুলোমাখা ফুটপাতে বসে শূন্যতা হা*উমা*উ করে কেঁদে উঠল। চারপাশে মানুষজন হাঁটছে, গাড়ির হ*র্ন বাজছে, শহর তার নিজের তালে ছুটে চলছে কিন্তু কেউ থেমে তাকায় না। কেবল দু’একজন পথচারী কৌ*তূহলী দৃষ্টি*তে তাকিয়ে চলে যায়। ঢাকার ব্যস্ত শহর যেন কারো ব্যক্তিগত দুঃ*খ বয়ে নেওয়ার সময় রাখে না।কান্না করতে করতে শূন্যতার হাত অন্যমনে চলে গেল গলার ওপর সেখানে ঝুলে আছে তার বাবার দেওয়া শেষ স্মৃতি, একটি ছোট লকেট পরিবারের পুরনো ছবিটি ভেতরে রাখা।আঙুল ছুঁ*তেই তার বুকের ভেতর ধাক্কা দিয়ে উঠল স্মৃতিগুলো।
স্বর্ণের দাম আজকাল আকাশছোঁয়া।এই চেইনটা বিক্রি করলে অন্তত দু’লাখ টাকা পাওয়া উচিত।ভাবনাটি মাথায় আসতেই শূন্যতা আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না। অশ্রু সামলে দাঁড়িয়ে পড়ে দ্রুত দৌড় দিল কাছের একটি স্বর্ণের দোকানের দিকে।
বাবার দেওয়া শেষ স্মারক বিক্রি করার সময় বু*কের ভেতরটা যেন ফাঁ*কা হয়ে যাচ্ছিল।কিন্তু মায়ের জীবন তার চেয়েও বড় কিছু কি আছে?দোকান থেকে দুই লক্ষ টাকা হাতে নিয়ে বেরোল সে।কিন্তু এখনো পাঁচ লক্ষের পাহাড় বাকি।কোথায় পাবে?কার কাছে চাইবে?কোনো দরজাই কি তার জন্য খুলবে আজ?
রাস্তা দিয়ে এসব ভাবতে ভাবতে হাঁ*টার এক পর্যায়ে সে দেখতে পেল বিপরীত দিকের একটি বিশাল বিলবোর্ড।একজন মানুষকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে যার মুখ সর্বত্র আইজান শুভ্র।বিশ্বজোড়া খ্যাতিমান তরুণ ব্যবসায়ী ।মিডিয়া-ঢেউয়ে ভেসে থাকা বিত্ত*শালী, বেপ*রোয়া, আলোচিত একটি নাম।
শূন্যতার চোখে সেই মুখ দেখেই মনে পড়ে গেল বহু শোনা একটি কানাঘুষা - "এক রাতের জন্য তার বেডে কারো স*ঙ্গ চাইলে আইজান শুভ্র নাকি ছয় লক্ষ টাকা দিতে পারে।
আর যদি সে খুশি হয় তবে সেই অর্থ বাড়তে বাড়তে আট লক্ষ পর্যন্তও যায়।" যদিও তা শোনা কথা তবে অসম্ভব পরিস্থিতিতে এই কথাটি হঠাৎই বিদ্যুতের মতো নেমে আসে তার মনে।
মায়ের মুখ এবং মৃত্যুর কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষের শেষ আশার চি*হ্ন।হয়তো তাই দ্বি*ধা ভুলে শূন্যতা দৌড়ে চলল আইজান শুভ্রর রেস্ট হাউজের দিকে। ঠিকানাটি সে জানে তার বান্ধবীর কাছ থেকে বহুদিন আগেই শুনেছিল।
এরপরের পথটি ছিল কণ্টকা*কীর্ণ, অ*স*হায়, নি*র্মম।
নিজের জমে থাকা স্বপ্ন, স্বচ্ছতা, আত্ম*মর্যাদাসবকিছু গুটিয়ে রেখে সে যে সিদ্ধান্ত নিল, তা কোনো মেয়েরই নেয়ার কথা নয়।
শূন্যতা নিজের সমস্ত অর্জিত স*তি*ত্ব, সমস্ত গর্বসবকিছু ত্যাগ করল শুধু একটি মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য। নিজের অতিপ্রিয় একজন মানুষ যে কিনা তার জন্মদাত্রী, তার মাকে বাঁচানোর জন্য।
*
*
*
রাতের আঁধার পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই বিছানা থেকে ধীরে উঠে বসল শূন্যতা। সারা রাতের শুভ্রর দেওয়া দৈ*হি*ক সম্পর্কের ক্লান্তি, শ*রী*রজুড়ে অসহ্য ব্যথা, ভেতরে জমে থাকা আতঙ্ক সব মিলিয়ে নিজের দে*হ যেন নিজেরই আর মনে হচ্ছে না।তবু সে নিজের য*ন্ত্র*ণাকে উপেক্ষা করে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল ওয়াশরুমের দিকে, মেঝেতে পড়ে থাকা গত রাতের পোশাকগুলো তুলে নিয়ে।
সাদা বিছানার চাদরে এখনো রক্তের ছোঁ*প ছোঁ*প দা*গ স্পষ্ট । যা কোনো শব্দ ছাড়াই বলে দিচ্ছে রাতটি শূন্যতার জীবনে কেমন ঝড় বয়ে গেছে।ওয়াশরুমে পানি ছুঁতেই তার শরীর কেঁপে ওঠে।চা*মড়া জ্ব*লে উঠছে কিন্তু য*ন্ত্র*ণার তুলনায় সেই জ্বা*লা যেন কিছুই নয়। দেয়াল ধরে বসে পড়ল সে ঝরনার নিচে, আর হঠাৎই অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়ল।
দুই হাত দিয়ে বারবার নিজের শ*রী*র ঘষ*তে লাগল যেন কলঙ্কের স্প*র্শগুলো মুছে ফেলতে চাইছে, যেন স্মৃতি মুছে যাবে,যেন রাতের অন্ধকার আর তাকে ছুঁ*তে পারবে না।
_“এই কলঙ্ক কি কোনোদিনও মুছবে না?”
বহুক্ষণ পর ধীরপায়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এল শূন্যতা।
চুল ভেজা, চোখ ফু*লে ওঠা।দরজা পেরোয় মাত্র তার দৃষ্টি গিয়ে থামে বিছানার দিকে সেখানে উপুড় হয়ে নি*শ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে আইজান শুভ্র।
তার নিশ্বাস শান্ত, মুখাবয়ব প্রশান্ত যেন রাতটি তার কাছে একেবারে সাধারণ।কিন্তু শূন্যতার কাছে রাতটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে নি*র্মম পরীক্ষা।মুহূর্তেই সমস্ত স্মৃতি আবার মাথায় ঝ*ড় তো*লে,আর সে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
নিজের চুল মুছতে মুছতে শূন্যতা হাতে তুলে নিল বেডসাইড টেবিলে রাখা ব্যাংক চেকটি আইজান শুভ্রের সই করা চেক চেকের অঙ্ক দেখে সে স্তব্ধ হয়ে গেল। লেখা আছে আট লাখ টাকা মাত্র। এক রাতের বিনিময়ে এই পরিমাণ দুঃ*খ, অপ*মান, য*ন্ত্র*ণা সবকিছু কিছুক্ষণের জন্য চা*পা পড়ে গেল সেই অঙ্ক দেখে। মায়ের অপারেশন,মায়ের জীবন, সব কিছুই এখন সম্ভব।
ওড়নাটা কাঁ*ধে ফেলে শূন্যতা দ্রুত দরজার দিকে এগিয়ে যায়।
এক মুহূর্তও পিছনে তাকায় না।তার কাছে আজ শুধু একটাই সত্য। বাকিটা সে নিজেই হয়তো কোনোদিন ভুলতে পারবে না।
*
*
*
অপারেশন থিয়েটারের সামনে স্থি*র দাঁড়িয়ে আছে শূন্যতা।
কিছুক্ষণ আগেই শুরু হয়েছে তার মায়ের দী*র্ঘ ও ঝুঁ*কিপূর্ণ অপারেশন। নগদ টাকা জমা দিতেই হাসপাতালের লোকেরা তড়িঘড়ি করে নিজেদের প্রস্তুতি নেয়। অর্থ জমা দেওয়ার সময় শূন্যতার দিকে তাকিয়ে থাকা ডাক্তার আসিফের মুখ*ভঙ্গি আশ্চ*র্য, কৌ*তূহল, সন্দে*হ সব মিলেমিশে এক অজানা প্রশ্ন ছুঁ*ড়ে দিচ্ছিল।মেয়েটি মাত্র রাতে কেঁদে ভে*ঙে পড়ছিল কীভাবে এত দ্রুত এত অর্থের ব্যবস্থা করল?
দু’ঘণ্টার দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে অপারেশন থিয়েটারের লাইট নিভে যায়। তার হৃদ*পিন্ড যেন থেমে আসে।দরজা খুলতেই সার্জনদের দল ধীরে বাইরে আসে। শূন্যতা দৌড়ে এগিয়ে যায় তাদের কাছে।
—“আপনার মা এখন বিপদমুক্ত।”
কথাটুকু শোনার সাথে সঙ্গেই শূন্যতার চোখে ঝাপসা পানি চলে আসে। ভারী বোঝা যেন ভেঙে পড়ে যায় তার বু*ক থেকে।
মায়ের জন্য সে নিজের জীবনও ত্যা*গ করতে পারত এটাই তার শেষ সত্য। ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে পাশে থাকা বসার জায়গায় গিয়ে বসে পড়ে শূন্যতা। ক্লা*ন্ত, নিঃ*শেষ, কিন্তু হৃদ*য়ের গভীরে তীব্র কৃ*তজ্ঞ*তা।সে দুই হাত তুলে ফিসফিস করে বলে,
—“হে আল্লাহ! লাখো শুকরিয়া। আমার মা-কে আবার আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন।”
*
*
*
এইদিকে,
একজন লোক ফোনে বলছিল,
—“স্যার, মেয়েটির কথা সত্যি ছিল। ওর মায়ের আজই অপারেশন হয়েছে। এখন. ”
কথা শেষ করার আগেই ফোন লাইন কেটে যায়। লোকটির মুখে তবু ভ্রুক্ষেপ নেই।সে আগেই জানত এটাই হবে।
কালো-রঙা দেওয়ালে সজ্জিত, অন্ধকার আলোর বিলাসবহুল একটি অফিসরুম।সেখানে লেদারের চেয়ারে আধশোয়া ভঙ্গিতে বসে আছে আইজান শুভ্র।
তার দৃষ্টি সবে রাখা একটি ফাইলের পাতায়।লোকটি খবর দিয়েই যখন ফোন কেটে যায়, শুভ্র হালকা হেসে চেয়ারটিতে কিছুটা হেলে পড়ে।টেবিলের ওপর রাখা কাঁচের কিউব আঙুলে ঘুরাতে ঘুরাতে ফিসফিস করে বলে,
—“আই লাইক ইউর বে*ড পার*ফর*ম্যান্স!”
ঠোঁটে উঠে আসে এক তী*ক্ষ্ণ ঠা*ন্ডা হাসি।দেশ-বিদেশের অগুনতি তরুণীর স্বপ্নপুরুষ সে আইজান শুভ্র মাতামাতির কেন্দ্রবিন্দু, আলোচনার ঝড়, গ্ল্যামারের দেবতা।তার মনে এখন ঘুরছে একটি নাম 'রুবাইয়া বিনতে শূন্যতা'।যে নামটি যদি বাইরের মেয়েরা শুনত তাহলে ঈ*র্ষা, ঘৃ*ণা, ক্রো*ধে হয়তো শূন্যতাকে ছিঁ*ড়ে খে*য়ে ফেলতে চাইত সবাই। সে কেবল অর্ধহেসে তাকিয়ে আছে আলোর নিচে চকচক করা সেই কাঁচের কিউবটির দিকে যেন তার কাছে সবকিছুই কেবল আরেকটি খেলা।
*
*
*
অপারেশনের পরদিন।
হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ফুটপাত ধরে হাঁটছে শূন্যতা। তী*ব্র রোদের ভেতর হাতে ছোট একটা ব্যাগ মায়ের প্রয়োজনীয় পোশাক আছে তাতে। হাঁটতে হাঁটতে ঠিক হাসপাতালের মোড়ে পৌঁছাতেই তার সামনে হঠাৎ করে থেমে যায় একটি দামি গাড়ি 'শেভ্রোলেট।'
অ*প্রস্তুত হয়ে থমকে দাঁড়ায় শূন্যতা। এত কাছাকাছি গাড়ি থামানোয় তার বির*ক্তি চেপে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আর একটু হলেই দুর্ঘটনা হতে পারত! গাড়ির দিকে এগোতে যাচ্ছিল সে, ঠিক তখনই দরজা খুলে নেমে আসে এক স্টাইলিশ যুবক। তাকে দেখে শূন্যতার পা যেন মাটিতে গেঁথে যায়। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আইজান শুভ্র।শুভ্র এগিয়ে আসতে আসতে ঠোঁটে কঠিন এক হাসি টানে,
—“মা*ই ওয়া*ন না*ইট, প্র*স্টি*টি*উট!”
কথাটা শুনে শূন্যতার মুখ ল*জ্জা আর ঘৃ*ণায় পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়। যাকে ভুলে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল, ভাগ্য তাকে আবার সেই মানুষটার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।শুভ্র ঠান্ডা গলায় বলে
—“গো অ্যান্ড সিট ইন দ্য কার।”
শূন্যতা অস*হায়ের মতো জিজ্ঞেস করে,
—“বাট হোয়াই?”
তার অগোচরে নিজেরই প্রশ্নে বির*ক্তি ছড়িয়ে পড়ে নিজের ভেতরেই। কিন্তু শুভ্রের ঠোঁটে ততক্ষণে সূ*ক্ষ্ম এক হাসির রেখা।হাতে থাকা লাইটারটা ঘোরাতে ঘোরাতে সে নিচু স্বরে বলে
—“টু রো*ম্যা*ন্স উ*ইথ ইউ, বে*বি।”
শব্দগুলো শূন্যতাকে আরও অ*স্থির করে তোলে। সে কিছু বলার আগেই শুভ্র হঠাৎ তার হাত ধরে টেনে নেয় নিজের দিকে। চারপাশের মানুষজনের চোখের সামনে শূন্যতার ঠোঁ*টের মাঝে নিজের ঠোঁ*ট ডু*বিয়ে দেয় শুভ্র। চু*ষে নিতে থাকে শূন্যতার ঠোঁ*টের মাঝে থাকা সমস্ত সু*ধা। শূন্যতা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তার হাতে থাকা ব্যাগটাও মাটিতে পড়ে যায়। শুভ্রের শক্ত উপস্থিতিতে নিজেকে আলগা করার চেষ্টা করেও ব্য*র্থ হয় সে।
গাড়ির কাছে নিয়ে গিয়ে শুভ্র এক হাতে দরজা খুলে দেয়, আর অনায়াস শ*ক্তিতে শূন্যতাকে বসিয়ে দেয় পিছনের সিটে। নিজেও গাড়িতে উঠে সিটে হেলান দিয়ে তাকায় তার দিকে।নিচু, ভারী কণ্ঠে বলে,
—“আই রিয়ালি লাইক ইয়োর বিউটিফুল ব*ডি। আই ওয়ান্ট টু ফি*ল ক্লো*জ টু ইউ এ*গেইন অ্যান্ড এ*গেইন।”
❌ এই গল্পের সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত। লেখকের অনুমতি ছাড়া কপি, শেয়ার বা পুনঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ❌
আদ্যোপান্তের_শুরু
#মাই_ডেভিলিশ_লাভার