ভ্রমণটা হঠাৎ করেই শুরু হয়েছিল। কোনো পরিকল্পনা ছিল না, শুধু বুকের ভেতর জমে থাকা অজানা এক অস্থিরতা। শহরের কোলাহল, পরিচিত মুখ, প্রতিদিনের একই সকাল—সবকিছু থেকে দূরে যেতে ইচ্ছে করছিল। তাই এক ভোরে ব্যাগে দু’টা জামা আর কিছু স্বপ্ন ভরে বেরিয়ে পড়লাম।
বাসটা পাহাড়ের দিকে ছুটছিল। জানালার বাইরে সবুজ গাছ, আঁকাবাঁকা রাস্তা আর মেঘে ঢাকা আকাশ—সবকিছু যেন আমাকে ডাকছিল। যত দূরে যাচ্ছিলাম, তত হালকা লাগছিল মনটা। মনে হচ্ছিল, আমি শুধু জায়গা বদলাচ্ছি না—আমি নিজেকেও খুঁজতে যাচ্ছি।
একটা ছোট পাহাড়ি গ্রামে নামলাম। সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, কিন্তু মানুষের চোখে আছে এক অদ্ভুত শান্তি। সন্ধ্যায় আগুন জ্বালিয়ে বসে তারা গল্প করে, হাসে—কেউ তাড়া দেয় না সময়কে। সেই রাতে আকাশে এত তারা দেখলাম যে মনে হলো, শহরে থাকাকালীন আমি আকাশটাই ভুলে গিয়েছিলাম।
পরদিন ভোরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠলাম। সূর্য ওঠার মুহূর্তটা ছিল নিঃশব্দ, অথচ ভীষণ শক্তিশালী। সেই আলোয় দাঁড়িয়ে হঠাৎ বুঝলাম—আমি এতদিন অন্যদের প্রত্যাশা পূরণ করতে করতে নিজের ইচ্ছেগুলো হারিয়ে ফেলেছিলাম। এই ভ্রমণ আমাকে জায়গা নয়, সাহস উপহার দিয়েছে।
ফেরার সময় ব্যাগটা আগের মতোই হালকা ছিল, কিন্তু মনটা আর খালি ছিল না। আমি জানতাম, আবার শহরে ফিরব, আবার ব্যস্ত হব—কিন্তু ভেতরে কোথাও এই পাহাড়, এই নীরবতা, এই আমি—চিরদিন থেকে যাবে।
ভ্রমণটা শেষ হয়েছিল ঠিকই,
কিন্তু নিজেকে খোঁজার পথটা সেদিনই শুরু হয়েছিল।
50
View
Comments
-
Ruma Rozario
1 month ago
নিজেকে খুঁজে পাওয়ার জন্য কখনো কখনো সবকিছু থেকে একটু দূরে যাওয়াই সবচেয়ে জরুরি ভ্রমণ।”