এদেশের মেয়েরা সেক্সচুয়াল ফ্যান্টাসিকে পারসোনাল অ্যাটাক হিসেবে দেখে। তাকে যদি আপনি বলেন ভিন্ন কোনো নারীর চরিত্রে রোল প্লে করতে, তার নার্ভাস সিস্টেম আপনাকে থ্রেট হিসেবে নিবে। সে ধরেই নেবে আমি অযোগ্য, আমাকে ইনসাল্ট করা হয়েছে। কারণ এদেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্র্যান্ডিওস ডিল্যুশন ও নার্সিসিজমে আক্রান্ত। সেক্স কেবল ফোরপ্লে অথবা পেনিট্রেশন নয়। সেক্স একটি মেন্টাল টাইম ট্রাভেল। সেক্স মানুষের ভেতরের অবদমিত ইচ্ছার প্রকাশ। আমাদের যে সব অবদমিত ইচ্ছা আমরা সমাজের মানুষের কাছে প্রকাশ করি না, তা আমরা আমাদের সঙ্গীর কাছে প্রকাশ করি। আমাদের অবদমিত ইচ্ছাগুলো আমাদের মধ্যে স্ট্রেস ও পেইন তৈরি করে, আমাদের মস্তিষ্কে ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ তৈরি করে, আমরা মহাবিশ্বের দিকে ফোকাস করতে পারি না। আমাদের প্রতিটি ইচ্ছা বিবর্তনের তৈরি, আমাদের প্রতিটি আবেগ ও অনুভূতির পেছনে ইভল্যুশনারী লজিক আছে। আমরা যদি আমাদের ফ্যান্টাসি আমাদের ভালোবাসার মানুষের কাছে শেয়ার করতে না পারি, সে আর আমাদের ভালোবাসার মানুষ থাকে না, সে আমাদের জন্য একটি থ্রেট। যে মানুষ আপনাকে ইমোশনাল সেফটি ও সিকিউরিটি দিতে পারে না, সে আপনার শত্রু, বন্ধু নয়। আমরা বন্ধুর কাছে সব প্রকাশ করতে পারি। একজন বন্ধু হলো সে, যে আমাদের প্রোটেকশন দেয়, যার কাছে স্বাধীনভাবে তথ্য শেয়ার করা যায়, স্ট্যাটাস শেয়ার করা যায়, আবেগ শেয়ার করা যায়, এবং যে আমাদের ফিউচার ব্যাকআপ। এদেশের মেয়েদের সাথে প্রেম করার সাথে সাথেই তারা ফ্রেন্ডশিপ নষ্ট করে ফেলে, টক্সিক ও জাজমেন্টাল হয়ে যায়। সে আপনাকে তার পারসোনাল প্রোপার্টি ভাবতে শুরু করে। আপনি যদি আপনার ভালোবাসার মানুষের প্রতিটি চিন্তা ও অনুভূতির সাথে কানেক্ট হতে না পারেন, আপনি তার মনের জটিলতা প্রেডিক্ট করতে পারবেন না। আর আপনি যার মনের ম্যাপ জানেন না, আপনি তাকে ট্রাস্টও করতে পারেন না। এদেশের অসংখ্য সম্পর্ক ভেঙে যায় সংকীর্ণ ও অবৈজ্ঞানিক মেন্টালিটির কারণে। এরা মানুষের অত্যন্ত সাধারণ আবেগ-অনুভূতিগুলোকে নিজের অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ থ্রেট মনে করে। দুজন মানুষ যখন একে অন্যের কাছে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারে, তখন তাদের নার্ভাস সিস্টেম সাইলেন্ট হয়। তাদের মধ্যে গভীর ভালোবাসার বন্ধন তৈরি হয়। পরকিয়া কোনো ক্রাইম নয়, এটা রিলেশনশিপ সিস্টেমের ত্রুটি। আপনি আমার মাইন্ড রিড না করতে পারলে, অন্য কোনো নারী বা পুরুষ আমার মাইন্ড রিড করবে, এটাই স্বাভাবিক। প্রেম টিকে মাইন্ড রিড করার ক্ষমতায়। ডাক্তারের কাছে যেমন কোনো ইনফরমেশন গোপন করা ঠিক নয়, সঙ্গীর কাছেও কোনো ইনফরমেশন গোপন করা ঠিক নয়। বিশ্বাসঘাতকতা তখনই জন্ম হয় যখন আমরা একে অন্যের চিন্তার উপর সেন্সরশিপ বসিয়ে দেই।