মাই_ডেভিলিশ_লাভার
পরিচ্ছেদ_০৩
বাতাস তখন সবেগে বয়ে চলেছে, যার উন্মত্ত চিৎকারে জানালার পর্দাগুলো ছন্দহীন নাচের ভঙ্গিতে উড্ডীন। আকাশের বুক চিরে মুহুর্মুহু বিদ্যুৎ-এর তীক্ষ্ণ ঝিলিক দেখা যাচ্ছে, যা প্রতিবারই সমগ্র কক্ষকে এক লহমার জন্য আলোকিত করে দিচ্ছে। সেই ক্ষণস্থায়ী আলোতে স্পষ্ট দেখা যায় ঘরের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা একজন লোক। তার দুই হাত পেছনে এমনভাবে বেষ্টনী করা, যেন সে কোনো কঠিন শপথের ভার বহন করছে। লোকটি অচঞ্চল দৃষ্টিতে চেয়ে আছে কক্ষের দেওয়ালে ঝোলানো প্রাচীন কোনো শৈল্পিক নিদর্শনের দিকে।
সহসা ঘরের ভেতরে ঝলসে ওঠে এক কৃত্রিম বৈদ্যুতিক দীপ্তি যা যেন কোনো আকস্মিক ঝলক। এই আলো ঘরটিকে সম্পূর্ণ উদ্ভাসিত করে তোলে; সেই উজ্জ্বলতা প্রতিফলিত হয় বিপরীত দিকের একটি সুদৃশ্য ছবির ক্যানভাসের উপর। সেখানে ফুটে ওঠে এক পুরুষের যৌবনকালের মধুময় প্রতিচ্ছবি। সেই শ্যামবর্ণের পুরুষের চেহারায় এক অসাধারণ মায়াবী আকর্ষণ এবং শান্ত দীপ্তি। স্তব্ধতা ভেঙে দিয়ে লোকটি এক তীক্ষ্ণ, বিদ্রূপাত্মক হাসির রেখা টেনে ফিসফিসিয়ে উঠল,
—“তোর অতি-প্রেয়সী সম্রাজ্ঞীকে তোর কাছে চিরতরে পাঠিয়ে দিলাম, কায়সার খান। পরপারে তোরা একসাথে থাকবি!”
কথাগুলো শেষ হতেই তার মুখমণ্ডলে এক বিধঘুটে, বিকট হাসি ছড়িয়ে পড়ে; সেই হাসিতে যেন ভয়ংকরতার কালো ছায়া। হাসতে হাসতে লোকটি পুনর্বার তাকায় ছবির সেই মৃত ব্যক্তি অর্থাৎ কায়সার খানের মুখের দিকে। অবাক করা বিষয় হলো, মৃতের মুখের আদলের সাথে জীবিত লোকটির চেহারার এক অলৌকিক সাদৃশ্য বিদ্যমান!
—“তোর সম্রাজ্ঞীর মতোই আমি তোর কাছে পাঠিয়ে দেবো তোর অতি-আদরের পুতুল কন্যা রুবাইয়া বিনতে শূন্যতাকে। তোর মেয়েটি দেখতে সত্যিই বড়ই লাস্যময়ী ও অনবদ্য সুন্দরী!”
লোকটির চোখে ফুঁটে ওঠে এক নোংরা, ঘৃণ্য কামনার ঝলক, যা নিশ্চিত করে দেয় তার লিপ্সা এখন শূন্যতার দিকে ধাবিত। ঠিক সেই মুহূর্তেই, সেখানে এক আগন্তুক হন্তদন্ত ও শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় কক্ষে প্রবেশ করে।
—“আরমান ভাই, দেখুন, দেখুন! সংবাদমাধ্যমে কী দেখাচ্ছে!”