শীতের কুয়াশা দিনে দিনে গ্রামটাকে যেন ঢেকে রাখেছিল সাদা চাদরের নিচে। অল্পবয়সী রাকিব ঘুম ভাঙার সাথে সাথে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো। আকাশ ধূসর, বুকে ঠাণ্ডা বাতাসের ছোঁয়া, আর চারপাশে পাতাগুলো যেন কাঁপছিলো ঠাণ্ডায়। রাকিব জানতো, আজ স্কুলে যাওয়া কঠিন হবে, কারণ তার গরম জামা-মোজা তার ছোট কক্ষের চারপাশে সাজানো ছিল।
রাকিবের মা রান্নাঘরে গরম চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। “রাকিব, উঠে খাও, বাইরে শীত বেশ কড়া।” রাকিব কুঁচকে চেয়ে বললো, “মা, আজ কি শীত আরও বেশি?” মা হেসে বললেন, “হ্যাঁ, আজ সূর্যও যেতে চায়নি, তাই পুরো দিন কুয়াশা থাকছে।”
রাকিব চায়ের গরম কাপ নিয়ে জানালার পাশে বসলো। বাইরে মাঠে শিশুরা শীতের খেলায় মেতে উঠেছে। কেউ শালিকা লাফাচ্ছে, কেউ গলদা কাঁকড়ার মতো হিমবাহের ওপর হাপিস করছে। রাকিব ভাবলো, “আমিও কি একদিন ওদের সঙ্গে খেলতে পারবো?”
তার ভাবনা ছিন্ন করে এল বড়ো ভাই আরিফ। আরিফের হাতে ছিল একটি স্লেজ। “রাকিব, এসো! বরফের ওপর স্কিড করতে হবে, খুব মজা হবে।” রাকিব প্রথমে ভয় পেলো, কিন্তু আরিফের উচ্ছ্বাস দেখে তার সাহস বেড়ে গেলো। দুজনে বাইরে বের holo। ঠাণ্ডা বাতাস তাদের গালের রঙ লাল করে দিলো, আর হাতের আঙুলে গরমের জন্য মোজা কতটা দরকার তা অনুভব হলো।
মাঠে গিয়ে তারা স্লেজে চড়া শুরু করলো। রাকিব প্রথমবার স্লেজে চড়ার সময় বেশ কাঁপছিলো, কিন্তু আরিফ হাত ধরে ধরে বললো, “ভয় করো না, আমি আছি।” হঠাৎ স্লেজটি দ্রুত নামতে শুরু করলো। রাকিব চিৎকার করল, আর ঠাণ্ডা বাতাস তার চোখে পড়লো। কিন্তু একবার ঢেলে যাওয়ার পর সে হাসতে শুরু করল, “আরে, কত মজা!”
দিনের শেষের দিকে তারা গরম চায়ের কাপ নিয়ে বাড়ি ফিরলো। মা হাসতে হাসতে বললেন, “দেখলে, শীতের আনন্দটা কত মজার?” রাকিব মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। আজ সে বুঝলো, শীত শুধু ঠাণ্ডা নয়, আনন্দ, বন্ধু এবং পরিবারকে আরও কাছে আনার সময়ও।
রাত আসতেই কুয়াশা আরও ঘন হয়ে এলো। রাকিব নিজের চাদরের নিচে গা জড়িয়ে ভাবতে লাগলো—আজকের দিনটি তার মনে চিরকাল থাকবে। শীতের সেই ঠাণ্ডা দিনও তাকে শিক্ষা দিলো, যে জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে মূল্যবান।