অদম্য সেই পথিক
সৌম্য আচার্য্য
নদীর কিনার, নুন-আনতে-পান্তা ফুরায় ঘর,
দারিদ্র্য যার নিত্যসাথী, জগৎ বড় পর।
বাবার চোখে লড়াই ছিল, মা-র আঁচলে টান,
তবুও কেন সমাজ করে শিশুর অপমান?
কঠিন মুখে বলেছিল— "এতিমখানায় দাও,"
সেই আঘাতে তপ্ত হলো অবহেলিত নাও।
রক্তে সেদিন শপথ নিলো এক কিশোর অভিমানী—
"আমার জয়ই মুছে দেবে সকল তুচ্ছ গ্লানি।"
বইয়ের পাতায় রাত জাগে সে, চোখে জয়ের নেশা,
বিজ্ঞান আর গণিত হলো প্রাণের পরম পেশা।
বজ্রশিখা মেধার বলে ছুটলো জয়ের রথ,
রোবট গড়ে কাঁপিয়ে দিলো অনিশ্চিত সেই পথ।
নিজের বুকের কষ্ট চেপে ধরলো পরের হাত,
মানবতার সেবায় কাটলো কত নির্ঘুম রাত।
শীতের চাদর, ঈদের হাসি, বন্যায় ভালোবাসা—
সংগঠনের হাত ধরে সে জাগায় নতুন আশা।
অনলাইনে বিশ্বজয়ের উঠলো কতো ঝড়,
বিশ্ব নাগরিকের চ্যালেঞ্জে সে হয় না কভু নড়।
দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের সেই মস্ত বড় ডাক—
অর্থে বাধা পড়লে কী হয়, মেধা অটুট থাক!
তাচ্ছিল্যে যাকে সমাজ চেয়েছিল বিদায় করে দিতে,
সে-ই আজ শ্রেষ্ঠ আসন নিচ্ছে লড়াই জিতে।
দুঃখগুলোই শক্তি তাহার, জেদটা তাহার আলো,
অদম্য সেই পথিক এখন বাসবে জগৎ ভালো।