আলতা - পরী
———————
বিথী আক্তার খাদিজা
আলতা পরী - ৫
এই দিকে হারুন সাহেব শহরে চলে গেলো। গিয়ে তার বউ কে বলতে ছিলো কাজল। আমি গ্রামে একটা পরী মতো মেয়ে দেখে এসেছি, নাম ও পরী।কাজল বললো ভালো তো। হারুন বলল, শুধু ভালো না, গুনে, দেখতে, কাজে, চুল, সব দিক দিয়ে। কাজল বললো। কার মেয়ে? আরে আমার যে চাচা তো ভাই আছে না? ওই যে ফজর, হ্যা!ওর ই মেয়ে। গ্রাম থেকে উঠে আশা সহজ সরল। তা তুমি কি ভাবলে এখন? হারুন বললো! চিন্তা করে দেখলাম। আমাদের নহর বউ করে আনবো!কি বলো? ও গ্রামের মেয়ে বিয়ে করবে? ও শহর থেকে বড় হইছে। গ্রামের মেয়ে ও বিয়ে করতে চাইবে না।কেনো করবে না? কি নেই ওই মেয়ে মধ্যে তুমি গিয়ে দেখে আসিও,নরম - ভদ্র সব দিক দিয়ে। আমি ফজর কে কথা দিয়ে এসেছি। নহর কে বুজিয়ে বলিও।আমার কথাই শেষ কথা। আচ্ছা নহর আসলে আমি বুজিয়ে বলবো।দেখি ও কি বলে? এই শুনে হারুন চলে গেলো। নহর বিকেলে বাসায় আসলো। রুমে চলে গেলো কাজল। নহর তোর সাথে কিছু কথা আছে। কি কথা মা? তোর বাবা যে কিছুদিন আগে গ্রামে গিয়েছিলো?
হ্যা মা তো, জমি দেখার জন্য গিয়ে ছিলো। হ্যা ওটা জন্য তো গিয়ে ছিলো। আর একটা কাজ ও করে এসেছে! কি কাজ মা?
তোর বাবার চাচাতো ভাই আছে না ফজর? হ্যা কাকা কে তো চিনি তারপর?তোর ফজর চাচার মেয়ে আছে নাম শুনছি পরী,তার মেয়ে কে তোর আব্বু পছন্দ হইছে এখন তোর বাবা চায় যে তোর জন্য বউ করে আনতে! এবং কথা ও দিয়ে এসেছে! কি বলল্লে বাবা ? নহর এর চোখ লাল হয়ে গেল, রাগে টক টক করতে ছিলো! আমি শহরে একটা বড় হওয়া ছেলে আমি কিভাবে একটা গ্রামের মেয়ে নিয়ে সংসার করবো। আমার বন্ধু বান্ধবের ভিতরে কিভাবে নিব তুমি বুঝতেসো তুমি কি বলতেছো? শোন বাবা রাগ করিস না তোর বাবা কথা দিয়ে আসছে। যানিস তো তোর বাবার এক কথা লোক।এখন তুই না করিস না বাবা তোর বাবা কথা দিয়ে আসছে । না মা আমি এই বিয়ে করতে পারব না তুমি বাবাকে বলে দিও । এই বলে নহর রুম থেকে বেরিয়ে গেলো!শোন বাবা কথা শোন। আমি এখন কি করি? রাতে খাবার সময় বললো কাজল বিবি
বললো! ছেলে কে বলছি কিন্তু ছেলে রাজি না। নহর আসলে আমার সাথে কথা বলতে বলিও।নহর ফুফু থাকে নহর বাসায়, কারন তার ফুফা থাকে বিদেশে, তার ছেলে - মেয়ে আছে ২ টা। ফুফি এসে বললো নহর জন্য দাদা যে মেয়ে দেখছে, তা কি হলো। কথা দেওয়া আগে নহর কে জিজ্ঞেস করে নিতো।
আমি তো এটা ই বললাম নহর বাবা কে, কে শুনে কার কথা। আচ্ছা শোন শিমলা তুমি নহর কে একটু বুজিয়ে বলিও।
নহর চলে গেলো তার প্রেমিক সাফার কাছে। সে বার বার বলতে চেয়ে ছিলো যে তার বাবা গ্রামের একটা মেয়ে সাথে আমার বিয়ে ঠিক করছে। কিন্তু তার মনে হলো যদি আমি এটা বলি তাহলে ও যদি আমাকে রেখে ছেড়ে চলে যায় । বলতে গিয়েও আটকে গেল।
সাফার বলো নহর! কি জন্য ডাকলে? না এমনি ভাবলাম দেখা করি! ও, তোমাকে নহর চিন্তিত দেখাচ্ছে। আমতা আমতা করে নহর বলল আরে না কিছু হয়নি এমনিতেই। নহর আর সাফাকে কিছু বললো না। ডিনার শেষে করে বাসায় রহনা দিলো সাফাকে বাসায় নামিয়ে দিলো।বাসায় এসে দেখে তার বাবা সামনে বসে আছে। বললো নহর এতো রাত হলো কেনো কোথায় ছিলে তুমি? এমনি একটু বন্ধু দের সাথে আড্ডা দিয়ে ছিলাম। তোমার মা কিছু বলছে তোমাকে ? হ্যা বাবা বলছে! কিন্তু বাবা আমি রাজি না। আমি ওখানে নহর কথা দিয়ে এসেছি। বাবা তুমি বুজো আমি একটা গ্রামের মেয়ে নিয়ে কি ভাবে সংসার করবো?
আমি একজন কে পছন্দ করি, ওর নাম সাফা। আমার সাথে এক সাথে ই পড়তো। কি বললে, তুমি যা শুনছো তাই বলছি বাবা । কাজল শুনছো তোমার ছেলে কি বলছে এতো সাহস পেয়েছে কোথায় থেকে? তুমি কিছু যানো না?
কাজল বললো কি বলো নহর। হ্যা মা আমি সাফাকে বিয়ে করবো। নহর বাবা বললো আমি কোনো শহর মর্ডান মেয়ে বিয়ে করাবো না।আমি যেখানে কথা দিয়ে আসছি ওটাই আমার শেষ কথা। তুমি যদি ওই মেয়ে বিয়ে না করবো,আমাকে বাবা হিসাবে কখনো পাবে না। এটাই আমার শেষ কথা। মা এটা কি বললো বাবা? আমার কি কোন চাওয়া পাওয়া নেই, না নেই নহর। আমি তোমার বাবা আমি, সব সময় ভালো জন্য করি তোমার সব। কাজল বললো বাবা তুই রাজি হয়ে যা, ফুফু এসে বললো রাজি হয়ে যা।
ঠিক আছে তোমরা এত করে বলছো আমি রাজি।আমার সবকিছু বিসর্জন দিলাম তোমাদের জন্য।
এই দিকে, প্রতিদিন আবির পরী স্কুলে পথের কাছে দাড়িয়ে থাকে। যে পথ দিয়ে পরী স্কুলে যায়,পরী অনুমান করলো যে আবির তাকে পছন্দ করে। পরী সে দিন স্কুলে থেকে আসার পরে, তার দাদি বলো! আয় পরী তোর চুলে তেল দিয়ে দি,ক্যা দাদি? মোর চুলো তো তেল আছে। বেশি দিলে ভিজা ভিজা লাগে। এই দিকে আয় তো, চুল তেল কই তোর, চুপ করে ব এখানে। একটু ও তেল নেই কয় তেল আছে মাথায়,আচ্ছা তাইলে দিয়ে দেও। বস বস,"শোন পরী কও দাদি। তোকে তো বলা হয় নাই। তুই কি জানো তোর বিয়ে ঠিক কইরা রাখছি মোরা।কি কও দাদি মজা কইরো না তো, মজা না মজা না পরী সত্যি কথা , ওই যে তোর হারুন কাকা ছিল না শহর থেকে তার ছেলে জন্য, কি বলো দাদি মিথ্যা কথা, না ছেলে দেখতে অনেক সুন্দর। আর ছেলে বিশাল চাকরি করে। আর তোর বাবা কথা দিয়েছে তো , তারা এক মাস পর এসে তোকে বউ করে নিয়ে যাবে। কি কও দাদি এই তো মোরে আগে কও নাই। এখন কইলাম, মুই মা কাছে জিজ্ঞেস করবো। পরী তার মার কাছে দৌড় দিয়ে গেল!
