শরৎচন্দ্র বলিয়াছিল দেবদাসের মতো করে মৃত্যু যেন কারো না হয়। মৃত্যুর সময় কারো স্নেহকর স্পর্শ না পাওয়ায় সে নাকি হতভাগ্য। তবে আমি চাই তার মতোই হতভাগ্য হতে, কেননা সে জীবদ্দশায় পেয়েছিল এক সমুদ্র ভালোবাসা, পার্বতী তার চরণে ভালোবাসার জন্য লুটিয়াছিল। এমন হতভাগ্য সবাই হতে পারে না, যে পার্বতীর ভালোবাসা আর চন্দ্রমুখীর আকাঙ্ক্ষার ছোঁয়া পেয়েছিল। জীবদ্দশায় এমন ভালোবাসা তো সবাই পায় না, কেউ কেউ একটুখানি ভালোবাসা পাবার লোভে কত লাঞ্ছনা নিয়েই বেঁচে থাকে। মানুষটা মারা গেলে আমাদের কত কান্না, কত দুঃখ, কত আফসোস। আচ্ছা বেঁচে থাকতে তার জন্য একটুখানি কেউ যদি কাঁদত, একটুখানি ভালোবাসা দিত তাহলে কী খুব ক্ষতি হতো? আমরা কেন এই সত্য বুঝি না মারা গেলে আমাদের দেওয়া ভালোবাসা তাদের আর কোনো কাজে লাগে না, তারা আর অনুভব করতে পারে না। মৃত্যুর সময় কে আমার পাশে থাকলো না সেই কষ্ট আমি পরপারে নিয়ে যেতে পারবো না। তবে জীবদ্দশায় কে আমাকে কতখানি অবহেলা করলো তার কষ্ট সারা জীবনই বয়ে বেড়াতে পারব। দেবদাস জীবনে যতো ভালোবাসা পেয়েছে সেই ভালোবাসা পেলে তার মতো করুন মৃত্যুতেও আমার কোনো ক্ষতি নেই। ভালোবাসা তো সবাই পাই, কেউ জীবনে বেঁচে থাকতে আর কেউ মৃত্যুর পর। কী এমন হয় সবার প্রাপ্য ভালোবাসাটা বেঁচে থাকতেই দিলে?