Posts

উপন্যাস

ক্যাম্পসাপ্রেম,পর্ব১৯

January 10, 2026

Humayun Kabir

125
View

 আমি বললাম, সেটা তো নকল হয়ে গেল

-  হোক নকল। আপনাদের এই দেমাগওয়ালা স্যারদের কাছে তো আর আসতে  হলো না।

রাশমিনের কন্ঠে তীব্র ক্ষোভ।

 আমি বললা, তা অবশ্য ঠিক। এদের এই বাড়াবাড়ির জন্য, এই ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য-  এদের শেষমেষ ২০/২৫ টাকায় ফুটপাতে নামতে হয়েছে। 

তারপর থেমে বললাম, শোনো। সব স্যার এক রকম নয়। চলো তার প্রমাণ দেব। কিন্তু হাঁটাহাঁটি বা কেন করছো হাটাহাটি না কইলে ভর্তি হব কি করে ফাটাফাটি না করলে ভর্তি হব কি করে 

বাংলা ডিপার্টমেন্টের সহজেই কাজটা হয়ে গেল। প্রথমে বাংলা ডিপার্টমেন্টে এলে এত ঝামেলা করা লাগত না।

 আমি তোমাকে ভালোবাসি।

 কিভাবে এই কথাটা বলা যায়? কিভাবে এই কথাটা বলা যায়? কত গল্প, কত উপন্যাস, কবিতায়  ভালোবাসার কত কথা আছে। কিভাবে বলতে হয় তাও বলা আছে। কিন্তু বলতে গেলে যখন হার্টবিট বেড়ে যায়, গলা আটকে আসে তখন কী করতে হয় তা বলা নেই। আমার মত এইরকম পরিস্থিতিতে কখনো কেউ কি পড়েছে? কিন্তু সময় তো চলে যাচ্ছে। এখনই সময় ভালোবাসার কথাটি বলে ফেলার। 

সময় গেলে সাধন হবে না। এই সুযোগ কি আর কখনো আসবে? আসবে না। যেভাবেই হোক আজ বলতেই হবে, রাসমিন, আমি তোমাকে ভালোবাসি। 

আমরা বসে আছি মহিলা হোস্টেলের দিকে পেছন ফিরে, গাছের শিকড়ের উপর। গাছটির অসংখ্য শেখড় পানির উপর ঝুলে আছে। এতদিন দেখেছি, শহীদ আসাদ হলের সামনের পুকুরের উপর ঝুঁকে  থাকা এই গাছের শিকড়ের উপর জোড়ায় জোড়ায় ছেলে মেয়েরা বসে গল্প করে, বাদাম খাই-  ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটায়। কত দেখেছি, কত ভেবেছি,  কত আফসোস করেছি। আজ আমার একটি স্বপ্ন পূরণ হল, কিন্তু সবকিছু  তো বাকি থেকে গেল। আজ আমি  কেন বলতে পারছি না, রাসমিন আমি  তোমাকে ভালোবাসি। 

মনের মানুষটাকে তো এখনো আপন করে পেতে পারলাম না। শঙ্কা মুক্ত হয়ে মনের কথাটা বলতে পারলাম না।

বাদাম চিবাতে চিবাতে রাসমিন বলল-   কি ব্যাপার তুষার ভাই, আপনি এত ঘামছেন কেন? 

- আমি, ঘামছি, কই? 

কপালে হাত দিয়ে দেখি ঘামে কপাল ভিজে জবজবে হয়েগেছে।  একটা ফ্যাকাশে হাসি হাসলাম। রাশসমিন মিটমিট করে হাসছে। তারমানে সে কি আমার অবস্থা বুঝে ফেলেছে? বুঝতে পারে, বুঝুক। পরিস্থিতির সামলে বললাম, আচ্ছা তুমি মেডিকেলে ভর্তির জন্য কোচিং করছো, অথচ জাতীয়বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে কেন? 

একটু হেসে রাসমিন বললো, দৌড়ঝাঁপ কোথায় করলাম? আমি  তো হাটাহাটি করছি।

 রিনিঝিনি হাসিতে রাসমিন দুলে দুলে উঠছে। আমি বললাম, ওই একই কথা। 

- না দুই কথা।

-  আচ্ছা, তাই। দুই কথা।কিন্তু হাটাহাটিই বা কেন?

-  হাঁটাহাঁটি না করলে ভর্তি হব কিভাবে?

- কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন? তুমিতো যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে পারো।

-  তা পারি। বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছি। এইবছর আমার ইন্টারমিডিয়েটে রেজাল্ট ভালো হয়নি, তাই ইমপ্রুভমেন্ট দিচ্ছি। সামনের বার মেডিকেলে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো করে  চেষ্টা করব। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ইংরেজিতে চান্স পায় তাহলে পড়বো, না হলে পড়ব না। আপনি ইংরেজিতে ভর্তির ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন না? আপনি তো ছাত্র নেতা। 

- হ্যাঁ অবশ্যই পারবো। তোমার তো ইংরেজিতে এমনিতে চান্স হয়ে যাবে। আমি ব্যবস্থা করে দেবো। 

- আমি জানি আপনি পারবেন। সেই জন্যই তো আপনার কাছে আসা। 

আমার স্বপ্নের সুনিল আকাশে কোথা থেকে জানিনা একটু একটু করে কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। একদিন এই কালো মেঘ থেকে প্রচন্ড ঝড় উঠবে। আর সেই ঝড় আমার  জীবনটা পুরোপুরি তছনছ করে দিবে।তারপর নেমে আসবে অন্ধকার, ঘোর অন্ধকার। অন্ধকার আর অন্ধকার। 

মানুষ প্রেমে পড়লে প্রেমিকার মঙ্গল চায়, তার সাফল্য কামনা করে কিন্তু আমি করছি তার উল্টো। আমি চাচ্ছি, ওর রেজাল্ট যেন ভালো না হয়, তাহলে ও অন্য কোথাও যেতে পারবেনা। 

Comments

    Please login to post comment. Login