"এই পথে যাওয়া ঠিক হবে?" নাজেম থমকে দাঁড়িয়ে একটু ভাবলো।তার ডান হাতে প্যাকেট।প্যাকেটে ইলিশ মাছ।ইলিশ মাছ ভুতের সবচেয়ে পছন্দের জিনিস। এর জন্য তারা খুনখারাবি পর্যন্ত করে ফেলে।
হাতেমদের বাঁশঝাড়ে দিনের বেলায়ও ভুত থাকে।থাক।এখন তো দুপুর বেলা, আর পথও কম।
একটা কাশির শব্দ।
" কে কাশে?"
" আমি কাসেম।"
"ও কাশেম ভাই? "
",হু।"
" এই গভীর বাঁশ বাগানে কী করছো দুপুর বেলা? আর একটু হলে ভয় পেতাম।"
"ভুতের ভয়?"
" হ্যা।তুমি কী করছো ওখানে?"
" স্যান্ডেলে গোবর লেগেছে, তাই ধুচ্ছি।বাজার থেকে আসলে, প্যাকেটে ইলিশ মাছ? "
"হু।"
"আমার খুব পছন্দ। যাও। তোমার মাকে তাড়াতাড়ি রান্না করতে বলো আমি আসছি।আসবো?"
"এসো, এসো।তুমি কি আমার পর?চলো,চলো। ঐ পঁচা ডোবায় আর তোমার পা ধুতে হবে না।"
"ঠিক আছে। আসছি।"
দুজন হাঁটতে হাঁটতে বাঁশ বাগান পার হচ্ছে। নাজেম পকেট থেকে সিগারেট বের করে আগুন চাইলো।
"তোমার কাছে আগুন আছে কাশেম ভাই?"
কোনে উত্তর নেই। নাজেম পেছন ফিরে তাকালো।না কাশেম নেই। ভয় পেলো।ভয়ে ভয়ে দ্রুত হেঁটে বাড়ি চলে আসলো।একটু পর রান্না হলে নাজেম মা'কে ডেকে ভাত দিতে বললো।
"মা,দুইজনের ভাত তরকারি দাও।"
মা জিজ্ঞেস করলো, " আর একজন কে?"
" কাশেম ভাই। উত্তর পাড়ার সকিনা ফুফুর ছেলে কাশেম ভাই?"
"কি"
"কানে কম শোনো?কাশেম ভাই।হাতেমদের বাঁশ বাগানের ভিতর পঁচা ডোবার কাছে দেখা। বললো,ইলিশ মাছে দিয়ে ভাত খাবে।"
"কী?"
"কানে কম শোনো?"
মা তাড়াতাড়ি রান্না ঘর থেকে পিয়েজ হাতে বেরিয়ে এলেন।
"এই পিয়েজ চাবা?"
"কেন?"
" চাবাতে বলছি চাবা।"
" তুমি ইলিশ মাছ রান্না করোনি? আমি দুপুর বেলা ঝাল পিয়েজ দিয়ে ভাত খাবো? খাবো না ভাত।চললাম। "
"কুত্তার বাচ্চা। যা বলছি কর।বাচতে চাইলে পিয়েজ চাবা।পায়ে স্যান্ডেল দেখেছিস?সকিনার ছেলে কাশেম পাঁচ বছর আগে ক্যান্সারে মারা গেছে না? আগে পিয়েজ চাবা।"
" ও তাই তো।আমি যে দেখলাম।কথা বললাম।"
"তুই আগে পিয়েজ চাবা। আমি দোয়া দুরুদ পড়ে গা ঝেড়ে দিচ্ছি। "
নাজেমের দুপুরে খাওয়া বন্ধ। ভয়ে তার জ্বর এসে গেছে। সে বসেবসে পিয়েজ চাবাচ্ছে। মা দোয়াদরুদ পড়ে গা ঝেড়ে দিচ্ছে। মায়ের চোখে অঝোর ধারায় পানি ঝরছে।হাতেমদের বাঁশ ঝাড়ের ভুত সাংঘাতিক। যাকে ধরেছে সেই মরেছে।
# নাজেমের কি দুপুর বেলা ঐ পথে আসা ঠিক হয়েছে?
# তাকে বাচানোর কোন পথ আছে?
ইলিশ ভুত
হুমায়ূন কবীর