Posts

চিন্তা

ইরান সংকট: লেবু বেশি কচলালে তেতো হয়ে যায়!

January 11, 2026

ফারদিন ফেরদৌস

142
View

ভুলভাবে হিজাব পরার দায়ে ইরানের সো কলড নীতি পুলিশ ২০২২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাশা আমিনিকেনিরাপত্তা হেফাজতে মেরে ফেলবার পরই টের পাওয়া গিয়েছিল ওখানকার ক্ষমতা কাঠামোর অবস্থা ভীষণ নড়বড়ে। 

ধর্মীয় আইনের বাধ্যবাধকতার নামে শান্তিপূর্ণ দেশটা বিদেশির হাতে ঠেলে দিচ্ছে একগুঁয়ে খামেনি রেজিম। ইরানের মুদ্রার ধস ও লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ইরানিরা এবার পথে নেমেছেন। জোরদার আন্দোলন চালিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসানে স্লোগান দিচ্ছেন প্রায় সবাই। বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনির শাসন এবার হয়ত টিকতে পারবে না। 

ক্রমাগত বিদেশি চাপে নাস্তানাবুদ দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এতটাই ভঙ্গুর যে, ওখানকার সাধারণ মানুষ ধর্মীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা না থাকার ভাবনার চেয়ে পেটের খাবার জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছে। রীতিমতো ফুঁসে উঠেছে ইরানবাসি। শৃঙ্খলাবাহিনীর গুলি ও নিপীড়নে রোজই মারা যাচ্ছেন শত মানুষ। এখন বলা হচ্ছে সেনাবাহিনী দিয়ে নাকি বিদ্রোহ দমন করা হবে। 

ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে -ক্ষিপ্ত জনগণ অনেক তেহরানের সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি মসজিদেও আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। 

নারী অধিকার, হিজাব আইন, অর্থনৈতিক সংকট বা রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় প্রতিবাদি গোষ্ঠী প্রতীকী স্থাপনায় হামলা চালায়। মসজিদে আগুন দেওয়া সেই চরম প্রতিবাদের একটি রূপ। প্রটেস্টাররা বলতে চাইছে, ধর্মের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার আমরা মানি না! মানব না! 

ইরানে মসজিদে আগুন ধরানোর এই ঘটনা ধর্মবিদ্বেষের কারণে নয়, বরং তা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ ও রাষ্ট্র–ধর্ম সম্পর্কের টানাপোড়েনের ফল হিসেবে দেখা যায়। 

ইরানে মসজিদ শুধু উপাসনালয় নয়, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার প্রতীক। বহু মসজিদ, বিশেষ করে বড়গুলো -সরকারি প্রচারণা, শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ভাষণ বা ন্যারেটিভ নির্মাণ, বিক্ষোভ দমনে নৈতিক বৈধতা তৈরির জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের কাছে মসজিদ অনেক সময় রাষ্ট্রীয় দমননীতির প্রতীক হয়ে ওঠে। 

সেখানকার মসজিদে আগুন ধরানো তাই ইসলাম বা সাধারণ ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং রাষ্ট্র–ধর্মের মিলিত কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এটি রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি চরম ও সহিংস রূপ, যা ইরানের গভীর সামাজিক বিভাজনের লক্ষণ। 

আমাদের দেশে যারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নামে দেশের অর্ধেকেরও বেশি জনগোষ্ঠী নারীর অধিকার রহিত করতে চান, ঘরবন্দি রাখতে চান, জনগণের ওপর ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দিতে চান -তারা ইরানের পরিস্থিতি নোটিশে রাখতে পারেন। লেবু কচলানোর নীতিটাও ভালোভাবে মনে রাখতে পারেন। বিপ্লবী সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক বা ধর্মীয় -কোনো ঘেরাটোপই পছন্দ করেন না। 

লেখক: সাংবাদিক 
১০ জানুয়ারি ২০২৫

Comments

    Please login to post comment. Login