ব্যালট বাক্স থেকে বায়তুল মাল
সম্মানিত মুসল্লিগণ,
আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি,
যখন রাজনীতি আমাদের ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে—
মোবাইলের পর্দায়, খবরের শিরোনামে, মানুষের দীর্ঘশ্বাসে।
আপনাদের এক শহরের কথা বলি।
সেই শহরে মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছিল।
গরম,রোদ, বৃষ্টি—সব সহ্য করে তারা বলেছিল, “আমরা একজন সৎ প্রতিনিধি চাই।”
নির্বাচনের দিন ভোটের কাগজ বাক্সে পড়েছিল, কিন্তু প্রিয় মুসল্লিগণ—
আসলে তা পড়েছিল আল্লাহর কাছে আমানত হিসেবে।
নির্বাচনের পর সেই শহরের বিজয়ী ব্যক্তি (নেতা)শপথ নিল— আল্লাহকে সাক্ষী রেখে।
ক্যামেরার সামনে সে বলল, “আমি জনগণের সেবক। আপনাদের সেবাই আমার ব্রত ।”
কিন্তু সময় বদলে গেল।
আজ আমরা দেখি—
রাস্তা হয় না, কিন্তু প্রকল্পের টাকা শেষ হয়ে যায়।
হাসপাতাল আছে, কিন্তু ওষুধ নেই।
স্কুল আছে, কিন্তু শিক্ষক নেই।
আইন আছে, কিন্তু ন্যায় বিচার নেই।
আর এখন সে নেতা বলে,
“পরিস্থিতি খুব কঠিন।”
প্রিয় ভাইয়েরা,
পরিস্থিতি কঠিন নয়—আমানত ভারী।
একদিন এক সাধারণ মানুষ তার কাছে বলেছিল,
“আমরা ভোট দিয়েছিলাম আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের জন্য, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য।
কিন্তু আপনি.......।”
এই কথাটি যেন বজ্রপাতের মতো নেতার উপর পড়লো।
সে রাতে তার কানে কুরআনের এই আয়াত বাজতে থাকল—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন,
আমানত তার যোগ্য ব্যক্তির কাছে ফিরিয়ে দিতে এবং
যখন মানুষের মধ্যে ফয়সালা করবে—ন্যায়ের সাথে করবে।”
(সূরা আন-নিসা: ৫৮)
এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সতর্কবাণী—
“নেতৃত্ব কিয়ামতের দিন লজ্জা ও অনুশোচনার কারণ হবে—
যদি তা হক আদায় ছাড়া গ্রহণ করা হয়।”
(সহিহ মুসলিম)
সে (নেতা) বুঝে গেল—
টিভির ক্যামেরা বন্ধ হলে হিসাব বন্ধ হয় না।
আদালত এড়িয়ে গেলে আল্লাহর আদালত এড়ানো যায় না।
শিক্ষা (আজকের বাস্তবতা)
হে মুসল্লিগণ,
ব্যালট একটি আমানত
ক্ষমতা একটি পরীক্ষা
রাষ্ট্রীয় সম্পদ এতিমের সম্পদের মতো
চুপ থাকা অনেক সময় খেয়ানতের অংশ হয়ে যায়।
আমরা সবাই কোনো না কোনো জায়গায় দায়িত্বশীল—
ভোটার হিসেবে, কর্মকর্তা/কর্মচারী হিসেবে, নাগরিক হিসেবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের শাসকদের ন্যায়পরায়ণ করুন।
আমাদের সকলকে দ্বায়িত্বশীল করুন।
আর আমাদেরকে মিথ্যার সাথে আপস না করার তাওফিক দিন।
আমিন।