পার্ট–১ : শেষ ঘরের ডাক
গ্রামটার নাম চন্দ্রপুর।
গ্রামটার একদম শেষ প্রান্তে একটা পুরোনো মাটির বাড়ি ছিল—
লোকজন একে ডাকত “নামহীন ঘর” বলে।
কারণ কেউ জানত না ওই ঘরের আসল মালিক কে ছিল।
আর কেউ জানতে চেষ্টাও করত না।
আমি—রাশেদ—এই গ্রামে নতুন স্কুলে মাস্টারি করতে এসেছি।
স্কুলের পাশেই থাকার জায়গা খুঁজছিলাম।
গ্রামের লোকজন সবাই এক সুরে বলল—
“মাস্টার সাহেব, শেষ ঘরটা বাদে যেকোনো জায়গায় থাকেন।”
আমি হেসে বলেছিলাম,
“শেষ ঘর মানে কোনটা?”
ওরা তখন চুপ করে গেল।
একজন বুড়ো ফিসফিস করে বলল—
“ওখানে রাত হলে… কেউ একা থাকে না।”
আমি এসব কুসংস্কারে বিশ্বাস করি না।
কম ভাড়ায় থাকার জায়গা দরকার ছিল।
তাই সেই নামহীন ঘরেই উঠলাম।
প্রথম রাত
রাত প্রায় ১২টা।
চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা।
হঠাৎ মনে হলো—
কেউ যেন ঘরের ভেতর নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
আমি উঠে লাইট জ্বালালাম।
কেউ নেই।
আবার শুতে গেলাম।
ঠিক তখনই—
টুক… টুক… টুক…
ঘরের ভেতরের দেয়ালে শব্দ।
আমি ভাবলাম, ইঁদুর হবে।
কিন্তু শব্দটা ধীরে ধীরে কান্নার মতো হয়ে গেল।
একটা কণ্ঠ ফিসফিস করে বলল—
“রাশেদ… দরজাটা খুলো…”
আমার শরীর বরফ হয়ে গেল।
কারণ—
এই গ্রামে আমার নাম কেউ জানে না।
দরজার নিচ দিয়ে তখন ধীরে ধীরে
একটা কালো ছায়া ঢুকতে শুরু করল