কলম্বিয়ার কার্তাজেনা শহরে অনুষ্ঠেয় হে ফেস্টিভ্যাল থেকে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট লাতিন আমেরিকান লেখক তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে এই সাহিত্য উৎসবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি এক চিঠিতে অন্তত তিনজন লাতিন আমেরিকান লেখক কার্তাজেনায় অনুষ্ঠেয় হে ফেস্টিভ্যাল থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণার প্রতি মাচাদোর সমর্থন এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে তার মন্তব্যের প্রতিবাদে আমরা হে ফেস্টিভ্যাল বয়কট করছি।
হে ফেস্টিভ্যাল বয়কট করা লেখকদের মধ্যে রয়েছেন কলম্বিয়ার প্রখ্যাত লেখক লরা রেস্ট্রেপো। তিনি মাচাদোকে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের একজন সক্রিয় সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বিদেশী আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন তিনি।
আরেক কলম্বিয়ান লেখক জিউসেপ্পে ক্যাপুটো এই উৎসবে মাচাদোকে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনাকে দক্ষিণ আমেরিকায় চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় ৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, কার্তাজেনার ভৌগোলিক এবং প্রতীকী অবস্থান বিবেচনা করে মাচাদোকে আতিথেয়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, আমি মনে করি, সাম্রাজ্যবাদী সহিংসতা বৃদ্ধির এই সময়ে ক্যারিবিয়ান সাগরের তীরে অনুষ্ঠেয় একটি উৎসব থেকে সরে আসাই ভালো। এছাড়া এখানে এমন একজনকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যিনি তার নোবেল শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের মত ফ্যাসিস্ট একজনকে উৎসর্গ করেছেন।
ডোমিনিকান রিপাবলিকের লেখক এবং অ্যাক্টিভিস্ট মিকায়েলাহ ড্রুলার্ডও হে ফেস্টিভ্যাল থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় মাচাদোকে এই উৎসবে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে তার রাজনৈতিক এজেন্ডাকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।
মারিয়া কোরিনা মাচাদো লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলের নেতা এবং বেসরকারি ভোট পর্যবেক্ষণ গ্রুপ সুমাতে এর সহ প্রতিষ্ঠাতা। তিনি কর্তৃত্ববাদী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একজন কট্টর সমালোচক। ৫৮ বছর বয়সী এই নেতা গত বছর শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রচারে তার অক্লান্ত পরিশ্রম এবং একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ রূপান্তর অর্জনের সংগ্রামের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, কলম্বিয়ার কার্তাজেনায় ২৯ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হে ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে। এবারের উৎসবে ২৫টি দেশের ১৮০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করবেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান