দরজার নিচ দিয়ে কালো ছায়াটা ঢুকতেই
ঘরের বাতি নিজে নিজে নিভে গেল।
চারপাশে অন্ধকার।
শুধু শুনতে পাচ্ছি—
কেউ হেঁটে বেড়াচ্ছে, কিন্তু পায়ের শব্দ নেই।
আমি গলা শুকিয়ে ফেললাম।
মুখ দিয়ে শব্দ বের হলো না।
হঠাৎ আমার কানের একদম কাছে কেউ ফিসফিস করে বলল—
“তুমি দেখছো আমাকে…
কিন্তু আমাকে চিনতে পারছো না…”
আমি চোখ বন্ধ করলাম।
মনে মনে আয়াত পড়তে লাগলাম।
ঠিক তখনই
ঘরের মাটিতে কিছু একটা ভেজা পড়ে যাওয়ার শব্দ।
চোখ খুলে দেখি—
মেঝেতে পায়ের ছাপ।
কিন্তু ছাপগুলো উল্টো দিকে হাঁটছে।
আয়নায় যা দেখলাম
ভয়ে ভয়ে আয়নার দিকে তাকালাম।
আর তখনই—
আমি নিজেকেই দেখলাম।
কিন্তু আমার চোখ কালো,
মুখে একটা বিকৃত হাসি।
আয়নার ভেতরের “আমি” বলল—
“আমার নাম নেই,
কারণ আমার নাম কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।”
আমি চিৎকার করে বললাম—
“তুমি কে?”
আয়না ফেটে গেল চিড় ধরে।
আর তার ভেতর থেকে ভেসে এলো একটা দৃশ্য—
১২ বছর আগের ঘটনা
এই ঘরে এক পরিবার থাকত।
একজন বাবা, মা আর একটা ছোট ছেলে।
ছেলেটা কথা বলত না।
কিন্তু প্রতিদিন রাতে
সে এই ঘরের কোণায় বসে
কারো সাথে কথা বলত।
এক রাতে
গ্রামের লোকজন শুনল—
ছেলেটা চিৎকার করছে।
পরদিন সকালে
ঘরের দরজা ভাঙা হলো।
ভেতরে—
বাবা-মা মৃত।
আর ছেলেটা?
সে নেই।
শুধু দেয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা—
“আমার নাম ফেরত দাও।”
🩸 ভয়ংকর সত্য
গ্রামের মানুষ ভয় পেয়ে
ছেলেটার নাম আর কখনো নেয়নি।
ধীরে ধীরে সবাই তার অস্তিত্ব ভুলে গেল।
কিন্তু—
যে নাম ভুলে যায়,
সে আত্মা নামহীন হয়ে যায়।
আর নামহীন আত্মা
১২ বছর পরপর
একজন জীবিত মানুষের
নাম কেড়ে নেয়।
হঠাৎ আমার কানে আবার সেই কণ্ঠ—
“এবার তোমার পালা, রাশেদ…”
ঘরের দেয়ালে
আমার নামটা ঝরে পড়তে লাগল,
অক্ষরগুলো যেন গলে যাচ্ছে ।