ক্যাম্পাস-প্রেম,পর্ব২০
হুমায়ূন কবীর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজিতে যেভাবেই হোক আমি তাকে ভর্তি করে দেবো। সে সারা জীবন আমার থাকবে। চোখের সামনে থাকলে মনেরও গভীরে ঢোকা যাবে। চোখের আড়াল হলে মনের আড়াল হয়ে যেতে পারি।কি হীন স্বার্থপর এর মত আমার চিন্তাভাবনাগুলো নিজেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। আমার কান্না পাচ্ছে। বুকের ভেতর ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কেন আমি ভালবাসতে গেলাম। ভালোবাসা আমার জন্য না। আমার জন্য ভালো গলা বাজি, অস্ত্রবাজী।ভালোই তো ছিলাম। কেন বুকের ভিতর এই আগ্নেয়গিরির অগ্নি পাতের জন্ম জিতে গেলাম?
- আপনি মনে হয় কিছু বলবেন?
রাশমিন হেসে বলল। সে প্রতিটি কথাতেই হাসে। হাসি তার কথার একটি অঙ্গ। এইরকম হাসি হাসি কথা জনম জনম ধরে শোনা যায়।
- হ্যাঁ, একটি কথা বলি বলি করে বলতে পারছিনা। কথাটা অতি ছোট কিন্তু তা বলার জন্য বিস্তার অবসর আর ব্যাপক পরিসর দরকার, তুমি শুনবে?
-হ্যাঁ, বলেন একটা কেন হাজার কথা শুনবো। আপনার কথা শুনতে ভালই লাগে। এমন নেকা নেকা ভাবে কথা বলেন যেন, ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানেন না।
- আসলেই জানে না। সত্যি ভাজা মাছ আমি কখনো উল্টি খাইনি।
রসিকতা করে বললাম।
রাশমিন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
- কেনো?
আমি আবার হেসে বললাম, কারণ ভাজা মাছ আমি খাই না।
রাশমিন চটপট জবাব দিল, আমিও।
- বাহ, তাহলে তো আমাদের ভিতর একটা মিল খুঁজে পাওয়া গেল।
-আরো কিছুদিন যেতে দিন দেখবেন, আরো কত মিল পাওয়া যাচ্ছে।
- রাসমিন একটা জায়গায় বেড়াতে যাবে?
-কোথায়? বলেন।
- তোমার সময় হবে কিনা বল?
-কেন হবে না? বলেই দেখেন।
- চলো বারোবাজার যাই।
- সেখানে কী?
- তুমি কখনো যাওনি?
-না।
বারোবাজার জায়গাটি রাসমিনদের বাড়ি থেকে বেশি দূরে না। জায়গাটি বিখ্যাত এবং পবিত্র। আমি বিস্মিত হয়ে বললাম -
- বল কি, এত বিখ্যাত জায়গা, একটা পবিত্র জায়গা, ঐতিহাসিক জায়গা। তুমি যাওনি? সেখানে গাজী কালু চম্পাবতীর মাজার আছে। এবং আরো অনেক কিছু আছে । শোনোনি মাটি নিজ থেকে বড়বাজার মসজিদ বের হয়েছে?ওই পবিত্র জায়গাতেই তোমাকে পবিত্র কথাটি বলতে চাই। যাবে?
রাসমিন ঘাড়ে ঝাকি দিয়ে বললো - হ্যাঁ যাবো। কবে?
- আজ, এখন।
-এখনি?
- হ্যাঁ।
-চলেন।
আমরা উঠে পড়লাম। রাসমিন আর আমি পাশাপাশি হাঁটছি। ওর শরীর থেকে ভেজা পদ্ম ফুলের ঘ্রাণ ভেসে ভেসে আসছে। সবকিছু কি সুন্দর লাগছে। চারিদিকে কি পরিচ্ছন্ন। আমরা পুকুরের পাড়ের উপর দিয়ে ঘাসের রাস্তা ধরে হাঁটছি। পুকুরে একটা হাঁস আনন্দ করে সাঁতার কাটছে। কি দারুন লাগছে আজ সবকিছু। মনে মনে একটা ছক রেখে ফেললাম। বারবাজার যেয়ে কী কী করব।
গাজীর পবিত্র মাজার সামনে রেখে রাসমিনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলবো- রাসমিন, আমি তোমাকে ভালোবাসি।
তারপর যা হবার হবে। গান-বাজনার আয়োজন করব। মাজারে রান্না বান্না করে খাবার আয়োজন করব। উৎসব চলবে। আর একদিকে আমরা দুইজন নির্জনে বসে মনের কথা আলোচনা করব।আজকের দিনটি হবে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মরণীয় দিন।
কলেজ বাউন্ডারী ছাড়িয়ে, আসাদ হলের গেট পার হয়ে স্টেডিয়ামের কাছাকাছি চলে এসেছি। খালি রিক্সা পাচ্ছিনা। রিকশায় করে পাল পাড়ি যেয়ে বাসে উঠব ব্যাস। ঐ তো একটা খালি রিক্সা আসছে। ডাক দিলাম - ঐ খালি?
হঠাৎ মাটিফুড়ে কাল সাপের মত, রাসমিন আর আমার মাঝখানে, একেবারে আমার নাকের ডগায় একটি হ্যাংলা পাতলা ছেলের উদয় হলো।সে উচ্ছ্বাসে আবেগে চিৎকার করে বলল, আরে রাসমিন, এখানে?
ছেলেটির উচ্ছ্বাসের চেয়ে আরো বেশি আনন্দিত হয়ে, উচ্ছ্বসিত হয়ে, হ্যান্ডশেক করার উদ্দেশ্যে হাত বাড়িয়ে আবেগে চিতকার করে রাশমিন বললো, আরে হ্যাটট্রিক, যশোরে? কী সৌভাগ্য আমার। একটা কল পর্যন্ত করলে না?