বন্ধুর আমানত
জুমআর দিন খতিব সাহেব মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বললেন-
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, প্রিয় মুসল্লিগণ,
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আমানতদার হওয়ার তাওফিক দান করুন—আমিন।
আজ আমি আপনাদের সামনে একটি ছোট কিন্তু গভীর শিক্ষামূলক ঘটনার কথা তুলে ধরতে চাই।
সিরিয়ার এক যুবকের কথা—নাম তার সালমান।
মানুষ তাকে চিনত আমানতদার, সৎ ও ধার্মিক হিসেবে।
তার কাছে মানুষ নিশ্চিন্তে টাকা-পয়সা, ধন- সম্পদ আমানত রাখত।
সে নিজেও অত্যন্ত সততার সাথে আমানত রক্ষা করত। ”
একদিন তার এক বন্ধু সফরে যাওয়ার সময় কিছু স্বর্ণমুদ্রা তার কাছে আমানত রাখল।
সালমান তা গ্রহণ করল আল্লাহকে সাক্ষী রেখে।
কিন্তু প্রিয় মুসল্লিগণ, দুনিয়ার অভাব যখন আসে, তখন ঈমানের পরীক্ষা শুরু হয়।
হঠাৎ সালমানের ব্যবসায় বড় ধরণের ক্ষতি হলো।
ব্যবসায় ক্ষতি, দেনার চাপ—এসবের মাঝে এক রাতে শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল।
তার বন্ধুর রেখে যাওয়া স্বর্ণমুদ্রার কথা স্মরণ হলো এবং সেখান থেকে কিছু স্বর্ণমুদ্রা নেওয়ার চিন্তা করলো।
সে বলল,
“আমি তো একটু নিচ্ছি, পরে ফিরিয়ে দেব।”
কিন্তু এই ‘একটু’-ই তাকে বিশ্বাসঘাতক বানাল, আমানতের খিয়ানতকারী বানাল।
হঠাৎ একদিন বন্ধু ফিরে এসে সালমানের কাছে আমানত চেয়ে নিল এবং স্বর্ণমুদ্রার ঘাটতি বুঝতে পারলো।
কিন্তু সে কিছু বলল না, শুধু বলেছিল একটি কথা—
“এই আমানত আল্লাহর নামে দেওয়া হয়েছিল।”
এই কথাটি সালমানের অন্তর কাঁপিয়ে দিল, হৃদয়ে ঝড় তুলল।
সেই রাতে সে আল্লাহর এই আয়াত স্মরণ করল—
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না
এবং জেনে-শুনে নিজেদের আমানতের খেয়ানত করো না।”
(সূরা আল-আনফাল: ২৭)
এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সেই হাদিস—
“যখন কোনো ব্যক্তির কাছে আমানত রাখা হয়
আর সে তাতে খেয়ানত করে—এটাই তার মুনাফিকির আলামত।”
(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
প্রিয় ভাইয়েরা,
সালমান বুঝে গেল—সে শুধু বন্ধুর সাথে নয়, আল্লাহর সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
ফজরের আগেই সে তাওবা করল। বন্ধুর কাছে গিয়ে সত্য স্বীকার করল, আমানত ফিরিয়ে দিল এবং ক্ষমা চাইল।
বন্ধুটি বলল,
“আমি সম্পদ নয়, তুমি যে তোমার ঈমান হারাতে বসেছিলে তার জন্য ভয় পাচ্ছিলাম। আল্লাহ আজ তা তোমাকে ফিরিয়ে দিলেন।”
শিক্ষাঃ
হে মুসল্লিগণ,
আমানত শুধু টাকা নয়—কথা, দায়িত্ব, পদ, সময়—সবই আমানত
বিশ্বাসঘাতকতা ঈমানকে দুর্বল করে
আর আমানত রক্ষা করা জান্নাতের পথকে সহজ করে
আল্লাহ তাআলা যেন আমাদেরকে আমানতদার বানান,
মুনাফিকির সব আলামত থেকে হেফাজত করেন।
আমিন।