Posts

প্রবন্ধ

২০ বছর পরও ক্যারাম: মোশাররফ করিমের গল্প এখনও আমাদের সাথে

January 13, 2026

সুমন বৈদ্য

Original Author সুমন বৈদ্য

53
View
Bangla Natok Carrom (ক্যারাম) l Mosharraf Karim & Tisha | Full Episode l  Drama & Telefilm
'ক্যারাম' নাটকের একটি পোস্টার

মোশাররফ করিমের অভিনয়ের জাদু হলো-তিনি কোনো ঘরানায় বাঁধা পড়েন না। হাস্যরস হোক, ট্র্যাজেডি হোক, কিংবা ব্যঙ্গ-সব চরিত্রেই তিনি অদ্ভুত স্বাভাবিকভাবে মিশে যেতে পারেন।মোশাররফ করিমকে আলাদা করে তোলে তার চরিত্রের উদ্দেশ্যবোধ। তার প্রতিটি চরিত্রই শুধু গল্পের ভেতরে হাঁটে না, বরং কিছু পেতে চায়-স্বীকৃতি, ভালোবাসা, সম্মান, অথবা নিছক টিকে থাকার অধিকার। এই “চাওয়া”টাই তার অভিনয়ের মেরুদণ্ড। দর্শক টের পায়, চরিত্রটা শুধু কথা বলছে না, সে ভেতরে ভেতরে লড়াই করছে।

Mosharraf Karim in home quarantine after shooting for 'Dictionary' | The  Business Standard
মোশাররফ করিম

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো-তিনি চরিত্র অভিনয় করেন না, চরিত্রের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। তাই মোশাররফ করিমকে কখনোই “অভিনয় করতে দেখা যায়” না; বরং মনে হয় লোকটা সত্যিই এভাবেই বাঁচে। এই আত্মবিস্মরণই তাকে আলাদা করে।মোশাররফ করিমের কমেডি কখনোই হালকা নয়, আর সিরিয়াস অভিনয় কখনোই ভারী করে তোলা নয়।মোশাররফ করিমের কমেডি কখনোই নিছক হালকা হাসির খোরাক নয়। তার হাসির ভেতরে থাকে চাপা দীর্ঘশ্বাস, না-বলা কথা আর জীবনের অপ্রস্তুত মুহূর্তগুলো। তিনি আমাদের হাসান ঠিকই, কিন্তু সেই হাসি শেষ হওয়ার আগেই কোথাও একটা খচখচানি রেখে দেন-যেন মনে করিয়ে দেন, এই হাসির পেছনে একটা জীবন ঝুলে আছে।অন্যদিকে, তার সিরিয়াস অভিনয় কখনোই ভারী হয়ে দর্শকের ওপর চেপে বসে না। তিনি দুঃখকে জোর করে আর্তনাদ বানান না, বেদনাকে বাড়তি আবেগে সাজান না। বরং নীরবতা, চোখের দৃষ্টি আর সংলাপের মাঝের ফাঁকটুকু দিয়ে তিনি যন্ত্রণাকে ধীরে ধীরে আমাদের কাছে পৌঁছে দেন।এই কারণেই মোশাররফ করিমের অভিনয়ে কমেডি ও ট্র্যাজেডির মাঝখানে কোনো শক্ত দেয়াল নেই। দুটো একে অপরের ভেতর দিয়ে হাঁটে।হাসি এখানে পালানোর রাস্তা নয়, আবার কষ্টও প্রদর্শনের বস্তু নয়-দুটোই জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।আর ঠিক এই জায়গাতেই তিনি আলাদা; কারণ তিনি চরিত্রকে হাসাতে বা কাঁদাতে চান না-তিনি চরিত্রটাকে বাঁচতে দেন।

মোশাররফ করিম যে নাটকের মাধ্যমে 'মোশাররফ করিম' হয়েছিলেন, যে নাটকটি মোশাররফ করিমের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল; সেই নাটকের নাম হল ক্যারাম।ক্যারাম নাটকটি দেখেননি, এমন দর্শক হয়তো কমই আছেন। নাটকটি গল্প ভাবনা ছিল কচি খন্দকারের, রচনা করেছিলেন আনিসুল হক। পরিচালনায় মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী আর এই নাটকের সহকারী পরিচালক হিসেবে ছিলেন মারজুক রাসেল,আশুতোষ সুজন,শরাফ আহমেদ জীবন,রেদওয়ান রনি,ইফতেখার আহমেদ ফাহমি,আশফাক নিপুণ,আদনান আল রাজীব। তখন হয়তো এই নামগুলো স্বল্প পরিচিত বা অপরিচিত ছিল, তবে এই সবগুলো নামের সাথেই এখন আমরা বেশ ভালোভাবেই পরিচিত।ক্যারাম নাটকের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই নাটকের সবগুলো ক্যারেক্টর আইকনিক হয়ে গিয়েছিল। শফিকুল, বিউটি, ঘেডি ব্যাকা মজিদ, তপন, সন্টু মামা- সবগুলো ক্যারেক্টরকে দর্শক আপন করে নিয়েছিল। ক্যারাম খেলায় বারবার হেরে যাওয়া একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে এই ধরনের প্রোডাকশন তখনও কেউ দেখেনি।

'রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি গতিশীল বিজ্ঞান' এই নাটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংলাপ। এই নাটকের সাথে জড়িত সবার ক্যারিয়ারই গতিশীল হয়েছিল পরবর্তীতে। ২০ বছর আগে এই ক্যারাম আমাদের পরিচয় করিয়েছিলো শফিকুলের সাথে; শফিকুলের সঙ্গে পথচলা শুরু হতেই টের পেলাম-এই যাত্রা শুধু তার নয়, আমাদেরও। কোথাও গিয়ে আমরা সবাই এক সুতোয় গাঁথা পড়ে গেলাম।তার জীবনটা ছিলো ক্যারাম খেলার মতো। ক্যারাম শুধু একটি খেলা নয়-এটা জীবনের রূপক। যেমন স্ট্রাইকার ঠিকঠাক চালালেও গুটি ঢোকে না, তেমনি এখানে মোশাররফ করিমের চরিত্রটি চেষ্টা করে, কিন্তু সফল হয় না। তবু খেলা ছাড়ে না-কারণ হার নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়।

ক্যারামে অভিনীত মোশাররফ করিমের চরিত্রের নাম ছিলো শফিকুল। যিনি কিনা পায়ের জুতোর ফিতা বাঁধা থেকে শুরু করে, হাতের কর গুণতে পারে না। টাকার হিসাব কসতে দ্বারস্থ হতে হয় অন্যের কাছে। সেইসাথে অপবাদ এবং হেনস্থাও সহ্য করতে হয় তাকে‌।মোশাররফ করিম ক্যারাম-এ যে চরিত্রটি করেছিলেন, সেটি শুধু আরেকটি নাট্যচরিত্র ছিল না-ওটা ছিল আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা এক অসহায় মধ্যবিত্ত মানুষের প্রতীক, যে মানুষটি প্রতিদিন হারে, তবু খেলা ছাড়ে না। এই জায়গাটাই তাকে মোশাররফ করিমের পরবর্তী সব চরিত্র থেকে আলাদা করে দেয়। ক্যারাম বোর্ডে যেমন বারবার গুটি ঠিকঠাক বসেও শেষ মুহূর্তে স্ট্রাইকারের ধাক্কায় সব ভেস্তে যায়, ঠিক তেমনই তার জীবনের প্রতিটি চেষ্টা। শফিকুল চরিত্রটি কোনো বড় কোনো স্বপ্ন দেখে না;বড় কোনো বিদ্রোহ করে না; শুধু চায়, একদিন যেন না হারে।মোশাররফ করিমের চরিত্রটি কোনো প্রচলিত নায়ক নয়। সে স্মার্ট নয়, সফল নয়, এমনকি বিশেষ বুদ্ধিমানও নয়। ক্যারাম খেলায় যেমন সে বারবার হারে, জীবনেও তেমনি।কিন্তু এখানেই চরিত্রটির শক্তি-সে পরাজয়ের মধ্যেই বেঁচে থাকে।আমাদের সমাজে এমন মানুষই সংখ্যাগরিষ্ঠ। যারা প্রতিদিন অফিসে অপমান সহ্য করে, সংসারে সিদ্ধান্তহীন থাকে, সমাজে উচ্চস্বরে কথা বলতে পারে না, কিন্তু তারপরও বেঁচে থাকে, হাসে, গল্প করে।মোশাররফ করিম শফিকুল চরিত্রে কোনো “অভিনয়” করেননি; বরং তিনি নিজেকে মুছে দিয়ে চরিত্রটিকে সামনে এনেছেন। পরবর্তীকালে তাঁর অনেক জনপ্রিয় চরিত্রেও দেখা গেলেও, ক্যারাম-এ এটি ছিল সবচেয়ে নির্মম ও খাঁটি।

Carrom l Part 01 l Mosharraf Karim | Nusrat Imroz Tisha | ক্যারাম | Bangla  Natok - YouTube
'ক্যারাম' নাটকে মোশাররফ করিম ও নুসরাত ইমরোজ তিশা

তাছাড়াও ক্যারাম-এ মোশাররফ করিম ও তিশার প্রেম কোনো “লাভ স্টোরি” নয়; বরং এটি ছিল ভদ্র, লাজুক ও নীরব আকর্ষণের এক সামাজিক দলিল। এমন এক প্রেম, যা উচ্চস্বরে প্রেম ঘোষণা করে না-বরং চোখ নামিয়ে রাখে, কথা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়, আর সুযোগ পেলেই বিষয় বদলে ফেলে। মোশাররফ করিমের টিউশন মাস্টার চরিত্রটি তিশার প্রেমে পড়ে কোনো নাটকীয় মুহূর্তে নয়। না আছে হঠাৎ হাত ধরা, না আছে সংলাপের ফুলঝুরি।এই প্রেম জন্ম নেয় দৈনন্দিনতায়-পড়া বোঝানো, খাতায় চোখ রাখা, একটু দেরিতে চলে যাওয়া, প্রেম করার সময় দরজার আশেপাশে কেউ আসছে কিনা সংকোচ করা, এটা এমন প্রেম, যেখানে ভালোবাসা প্রকাশের চেয়ে লুকিয়ে রাখাটাই বড় ঘটনা।আমাদের সমাজে-বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পুরুষের প্রেম ঠিক এমনই হয়। সে জানে, সে নায়ক নয়; সে জানে, তার সীমা আছে। সেই সীমার ভেতরেই সে ভালোবাসে।

এই প্রেমের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো-তিশা এখানে “দেখার বস্তু” নয়।ক্যামেরা তার শরীরের দিকে তাকায় না, তার পোশাক নিয়ে ব্যস্ত হয় না। তাকে আলাদা করে “নারী” বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়নি- সে একজন মানুষ,একজন শিক্ষার্থী, একজন মেয়ে যে সামনে বসে আছে।এখানে মোশাররফ করিমের দৃষ্টিও সংযত।সে তাকায়, কিন্তু স্থির হয়ে তাকায় না।সে ভালোবাসে, কিন্তু অধিকার দাবি করে না।এই সংযমই প্রেমটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। টিউশন মাস্টার-ছাত্রীর প্রেম; ক্ষমতার নয়, সংকোচের সম্পর্ক।এই সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-এখানে ক্ষমতার ভারসাম্য উল্টো।টিউশন মাস্টার হয়েও মোশাররফ করিমের চরিত্রটি আত্মবিশ্বাসী নয়। সে ভয় পায়-নিজের অবস্থান, সমাজ, নিজের ব্যর্থতা।তিশার সামনে সে “পুরুষ”(ট্র্যাডিশনাল ম্যাসকুলিনিটি) প্রমাণ করতে চায় না।বরং সে আরো ছোট হয়ে যায়, আরো নরম হয়ে যায়। আর এই প্রেমে পুরুষত্ব কোনো আধিপত্য নয়, বরং দ্বিধা ও লজ্জার ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা এক এক আবেগ। আজকের অনেক নাটকে যেখানে প্রেম মানে “বলতেই হবে”, ক্যারাম সেখানে দেখিয়েছে-প্রেম অনেক সময় না বললেই সবচেয়ে সত্যি থাকে। অনেকটাই প্রথম প্রেমের মতো। মোশাররফ করিম এখানে কোনো রোমান্টিক হিরো নন। তিনি একজন মানুষ, তিনি নিজেকে নিয়ে ভাবেন বা তৈরি করেছেন-এই প্রেম হয়তো তার জীবনের মতোই হয় সম্পূর্ণ না হয় অসম্পূর্ণই থাকবে। কিন্তু এই দ্বৈত বিষয়ের প্রেমটাকে তিনি সুন্দর করে তুলেছেন। 

তাছাড়াও ক্যারাম নাটককে ঘিরে মজার মূহুর্ত‌ রয়েছে মোশাররফ করিমের। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন তবে ক্যারাম নাটকে অভিনয়ের জন্য তাঁকে ছাড়তে হয়েছিল থাইল্যান্ডে গিয়ে ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের সুযোগ। সেই ঘটনা মনে করে মোশাররফ বললেন, ‘আমার তখন থাইল্যান্ডে একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকে অভিনয় করতে যাওয়ার কথা। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওই সময় ফোন আসে ক্যারাম নাটকে অভিনয়ের জন্য। কচি খন্দকারের গল্প থেকে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মাণ করবেন। শুটিং হবে কুমিল্লায়। আমি দোটানায় পড়ে যাই। থাইল্যান্ড যাব নাকি কুমিল্লা! এ নিয়ে কথা বলি স্ত্রীর সঙ্গে। ও আমাকে কুমিল্লায় গিয়ে ক্যারাম নাটকে অভিনয়ের ব্যাপারে উৎসাহ দেয়। তারপর তো সবই ইতিহাস।’ক্যারাম নাটকে অভিনয়ের আগে মোশাররফ করিম মাত্র একটি নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। সৈয়দ আওলাদের পরিচালনায় হেফাজ ভাই নাটকে। এরপরই ক্যারাম নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। ক্যারাম ২ নাটকেও অভিনয় করেন তিনি।কিন্তু ক্যারামের শফিকুল চরিত্রকে আপন করে নিতে বেশি সময় নেয়নি দর্শক। তিনি সেই সাক্ষাৎকারেই বলেন,‘ক্যারাম নাটকটি প্রচার হয় ঈদুল আজহার দিন দুপুরবেলা। ওই সময় তো সবাই ব্যস্ত থাকে। ওই দিন বিকেলবেলা রিকশায় আমি শান্তিনগর দিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ একজন রিকশার সামনে দাঁড়ালেন। তারপর বললেন, “আপনি এত দিন কোথায় ছিলেন ভাই।” ওই দর্শকের কথা খুব মনে পড়ে। আর নাটকটি প্রচারের পর নির্মাতাদের নজরে পড়ে যাই আমি।এরপর মোশাররফ করিম কয়েকটি চলচ্চিত্র আর অসংখ্য নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন। পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার।

কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন কমেডি মানে শুধু হাসি নয়-ছিল অস্বস্তি, আত্মসমালোচনা, আর সমাজের দিকে তাকিয়ে একটু থেমে যাওয়ার সুযোগ। ক্যারাম সেই সময়ের প্রতিনিধি। আজ ফিরে তাকালে মনে হয়, এই ধরনের কমেডি বা সমাজভিত্তিক ধারাবাহিক না হওয়ার পেছনে কিছু নির্দিষ্ট বাস্তবতা কাজ করছে। আমার দৃষ্টিতে, প্রধানত তিনটি কারণেই আজ ক্যারাম আর জন্মায় না।

এক. আমরা এখন দ্রুত হাসি চাই

আজকের দর্শক ধৈর্য হারিয়েছে-এটা অভিযোগ নয়, সময়ের লক্ষণ। ক্যারাম ছিল ধীর, পর্যবেক্ষণধর্মী, সংলাপনির্ভর। এখানে হাসি আসত চোখের কোণে, পরিস্থিতির ফাঁকে ফাঁকে। চরিত্রগুলো কথা বলার আগেই অনেক কিছু বলে দিত তাদের নীরবতা। কিন্তু আজকের দিনে দর্শক চায় স্কিট(ব্যঙ্গাত্মক নাটক বা অভিনয়), চায় তাৎক্ষণিক পাঞ্চলাইন, চায় এমন কনটেন্ট যা স্ক্রল থামানোর আগেই হাসিয়ে দেয়। ভাবনার জন্য সময় কম, পর্যবেক্ষণের জন্য ধৈর্য আরও কম। এই দ্রুততার ভিড়ে ক্যারাম-এর মতো ধীর কমেডি টিকে থাকা কঠিন।

দুই. নির্মাতারা এখন ‘নিরাপদ’ কনটেন্টে অভ্যস্ত

ক্যারাম কোনো পক্ষ নেয় না-এটাই তার সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট।এই নাটক কাউকে আক্রমণ করে না, কিন্তু সবাইকে অস্বস্তিতে ফেলে। দর্শক নিজেকে চিনে ফেলে চরিত্রগুলোর ভেতর-আর সেই চেনাটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।আজকের নির্মাণ বাস্তবতায় এই অস্বস্তি ঝুঁকিপূর্ণ।নিরাপদ হাসি, অনুমোদিত ব্যঙ্গ, নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরের কনটেন্ট-এই পথটাই এখন বেশি জনপ্রিয়। ফলে যে কমেডি দর্শককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়, সে কমেডির জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

তিন. চরিত্র নয়, এখন তৈরি হয় গৎবাঁধা চরিত্র বা গতানুগতিক চরিত্র।

আজকের কমেডিতে আমরা মানুষ দেখি না, দেখি অতিরিক্ত যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ চরিত্র, নির্দিষ্ট আঞ্চলিক ভাষার অতিনাটকীয় ব্যবহার। সেক্সুয়াল কমেডি বা অতিরঞ্জিত আঞ্চলিকতা দিয়ে দর্শককে বুঁদ করে রাখার চেষ্টা চলে।ফলে চরিত্রগুলো ধীরে ধীরে ফাঁপা হয়ে যায়। তারা মানুষ থাকে না-কার্টুনে রূপ নেয়। অথচ ক্যারাম-এর শফিকুল, বিউটি, ঘেডি ব্যাকা মজিদ-এরা ছিল জীবন্ত মানুষ।তাদের হাসি ছিল জীবনের, ভুল ছিল বাস্তবের, আর দুর্বলতা ছিল আমাদেরই মতো। এরা কাউকে হাসানোর জন্য তৈরি চরিত্র নয়-এরা বাঁচার চেষ্টা করা মানুষ। 

২০ বছর পরেও ক্যারাম নাটকটি এখনোও প্রাসঙ্গিক, তখন বুঝতে হয়-আমরা খুব বেশি বদলাইনি। শুধু ক্যারাম বোর্ডের চারপাশটা একটু বড় হয়েছে।

লেখক: আমি সুমন বৈদ্য বর্তমানে ঢাকার স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য অধ্যয়ন করছি।পাশাপাশি একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় রয়েছি।

Comments

    Please login to post comment. Login