কিশোরগঞ্জের এক ছোট্ট গ্রামে বাস করত রুদ্র। শান্ত, চুপচাপ, নিজের জগতে থাকা এক কিশোর। বাবা-মা দু’জনেই কৃষিকাজ করতেন, সংসার খুব সচ্ছল ছিল না, তবে ভালোবাসায় ঘেরা ছিল প্রতিটি দিন।
রুদ্র ছোটবেলা থেকেই আলাদা ছিল। তার চোখে ছিল স্বপ্ন—সে একদিন শহরে গিয়ে বড় হবে, অনেক কিছু শিখবে, পরিবারকে গর্বিত করবে। স্কুলে সে খুব ভালো ছাত্র ছিল, কিন্তু গ্রামের স্কুলে সুযোগ-সুবিধা ছিল সীমিত। তারপরেও রুদ্র হাল ছাড়েনি।
একদিন স্কুলে একটা বিজ্ঞপ্তি এলো—"জেলাভিত্তিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা"। রুদ্রের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল। সে নিজের তৈরি করা ছোট একটি সৌরচালিত ফ্যান নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিল। সবাই মুগ্ধ! রুদ্র প্রথম হলো।
এই বিজয় ছিল তার জীবনের মোড় ঘোরানো এক মুহূর্ত। সেই প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই এক শিক্ষক তাকে শহরের একটি বড় স্কুলে পড়ার জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে দিলেন।
শহরে এসে রুদ্র প্রথমে খুব কষ্ট পেল। নতুন পরিবেশ, কেউ চেনে না, আর্থিক দিক থেকেও দুর্বল। অনেকেই তাকে তাচ্ছিল্য করত, ব্যঙ্গ করত তার গ্রামের উচ্চারণ ও পোশাক নিয়ে। কিন্তু সে কারও কথায় ভেঙে পড়েনি।
দিন গেল, রুদ্র পরিশ্রম করল, পড়াশোনায় মন দিল, ধীরে ধীরে সবার সম্মান অর্জন করল। এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ডে মেধা তালিকায় নাম উঠল তার। খবর ছড়িয়ে পড়ল গ্রামে, শহরে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করল। এরপর বিদেশে স্কলারশিপে গেল গবেষণার জন্য। গ্রামের সেই ছেলেটি একদিন প্রযুক্তিবিদ হয়ে ফিরে এল দেশে।
সে ঠিক করল, তার গ্রামের জন্য কিছু করবে। সে নিজ গ্রামে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করল—যেখানে দরিদ্র ছাত্রছাত্রীরা বিনামূল্যে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শিখতে পারবে।