বাংলা আমার জন্মভূমি, বাংলা আমার প্রাণ।
বাংলাই আমার মাতৃভূমি, বাংলাই আমার গান।
এখানেই জন্ম আমার, এইটাই আমার মান।
এখানেতেই বেড়ে উঠা, এখানেই যেন যায় জান।
আমার দেহে বাংলার মাটি, বাংলারই জল,
আমি খেয়ে বড় হয়েছি, বাংলার খাদ্যশস্য ও ফল।
সারাদিন শ^াস নিয়েছি, বাংলার বাতাস,
বাংলাতেই প্রকাশ আমার আনন্দ কিংবা হতাশ।
আমার নাচ, আমার গান আনন্দ উৎসব
বাংলাই জীবন আমার বাংলায় আমার সব।
বাংলাতেই কর্ম আমার, বাংলাতেই সব ধর্ম
বাংলা ভাষা দিয়েই বুঝি সকল ধর্মেও মর্ম।
সারাদিন পেতে চাই বাংলার বায়ু
বাংলার বায়ুতেই বাড়ে বাঙালির আয়ু
বাংলার ভূমি সবুজ আর বৃক্ষ তলে শীতল
বাংলার প্রতি মায়র সাগর, যা অতল।
গ্রীষ্মের কালে, কাঠ ফাটা রোদ কী যে গরম
বাংলার প্রতি ভালোবাসা, হৃদয়ে পরম।
বর্ষাকালে তুমুল ঝড়, মুষল বৃষ্টির ধারা,
হালকা জলেই ডুবে যায়, বাড়ির উঠুন থেকে পাড়া।
শরতের সাদা মেঘ, আকাশেতে বাস,
ভরে উঠে শস্য খেত, টানা দুই মাস।
হেমন্তের উৎসবেতে কী যে সুন্দর দিন
মেলাতে দেখতে পারো, সাপ নাচে যখন বাজে বিণ।
বাংলার শীতকালে সে যে কী শীত
উনুনের পাশে বসে চল বাঁধি গীত।
বসন্তের পরিবেশ সুষম শান্ত
আমার কাছে তখন খোদার বেহেস্ত ভ্রান্ত।
বাংলার মেটু পথে বাউলের সুর
হেঁটে হেঁটে চলে যায় বাজে সুদূর ।
বাংলার মোড়ে মোড়ে চায়ের সংসদ
গেরামের সর লোক তাদের সাংসদ।
পৃথিবীর নাই কিছু এখানে হয় না বলা
তার কথাই ঠিক যার চলে ভালো গলা।
নদীতে ছিপ ফেলে, নাইতে যায় সব ছেলে
হাটুপনিতে সারাদিন চাল ঠেলে জেলে।
সারাদিন সুতা দিয়ে বাধে নকশি কাঁথার মাঠ
বাংলার নারীদের চলাচল এখন ঘর-খেত থেকে ঘাট।
তুমি কি খেয়েছো কবু বাঙালিদের হাতের রান্না?
তোমাতে, তবে মূলহীন হবে সব হীরা মুক্তা পান্না।
তুমি কি শুনেছ কবু, বাংলার মসজিদের আজান,
কিংবা গীর্জার ঘণ্টা, মন্দিরের সুর আর গান?
কী অপরূপ দৃশ্য, সবই খোদা তায়লার দান।
গবাই এক হয়ে করে বাস, যেন এক প্রাণ।
নদীর জলের শান্ত কলকল,
আর হরেক পাখির বিশাল দল,
আমাকে পটানো হাজারো ছল
পৃথিবীর স্বর্গ খুঁজতে বাংলায় চল।
বাংলার মাটি, বাংলার জল।
বাংলার শস্য, বাংলার ফল।
বাঙালি সত্তাই আমার সবচেয়ে বড় দল।
সবাই জয় বাংলা, জয় বাংলা, বল।