Posts

চিন্তা

আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন গানের প্রয়োজন নেই: প্রয়োজন যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা

January 14, 2026

Hajrat Hania

Original Author Hajrat Hania

55
View

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যহীন গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে; যা প্রতিনিয়ত একাদিক ট্রায়ালের প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা একটা দীর্ঘ সময় পর কেবল সনদ নিয়ে বের হয়। আর সাথে থাকে বিগত সময়ের অস্পষ্ট স্মৃতি ও কাটানো সময়ে অনার্জিত দক্ষতা নিয়ে হতাশা আর ভবিষ্যত নিয়ে কেবল অস্পষ্ট শঙ্কা। এই ব্যবস্থার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়ে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার বাস্তবতা। 

ব্রিটিশ আমল থেকে আজ পর্যন্ত এই খাতে কেবল উন্নয়ন আর উন্নয়নের গল্পে বিভোর ক্ষমতাশীনরা; বাস্তবতা চোখে দেখে না আর দেখলেও পাশকাটিয়ে যায়। দেশের হাতেগুনা গুটিকয়েক বিদ্যালয়ের অর্জনের আড়ালে বাস্তবতাকে লুকানোর চেষ্টা প্রতিনিয়ত লক্ষণীয়। আমাদের এখানে 

৯৪.৫৫% শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এবং সর্বশেষ হিসাব মতে ৮৩.৭৫% শিক্ষার্থী প্রথমিক বিদ্যালয় পাশ করতে পারে। 
সরকারের হিসাব অনুসারে সকল ধরণের প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলিয়ে মোট প্রাথমিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২,০১,৮৩,০৪৮ যা কিনা জনসংখ্যায় ছোট মোট ৮০টি স্বাধীন দেশের জনসংখ্যার সমান।

আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে গত সরকারের আমলে কম জলগোলা হয় নি। পাঠ্যসূচিতে বাস্তবতা বিবর্জিত বিভিন্ন আধেয়ে সংযোজন এবং পাঠসূচির নিম্নমান আলোচনায় এসেছে বারংবার। সাম্প্রতিক কালে , অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগের পদ সৃজন ও সংশোধনের মাধ্যমে। সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২৫০০ ক্লাস্টারে সমসংখ্যক শরীর চর্চা শিক্ষক ও সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।  কমিটি মনে করছে, প্রকল্পটির পরিকল্পনায় ত্রুটি ছিল। এত অল্প সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে কার্যকর কোনো সুফল বয়ে আনবে না এবং এতে বৈষম্যের সৃষ্টি হবে। সারা দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশেই প্রস্তাবিত নিয়োগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। ক্লাস্টার ভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলে একই শিক্ষককে ২০টির অধিক বিদ্যালয়ে যুগপৎভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর ফলে তার পক্ষে কর্মঘণ্টা ম্যানেজ করা সম্ভব হবে না।

এখন আসা যাক বাস্তব চিত্রে, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএসের) এক গবেষণা বলছে আমাদের প্রাথমিক বিদ্রালয়ের তৃতীয় শ্রেণির প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী বর্ণ (অক্ষর) ও শব্দ ঠিকঠাক চিনতে পারছে না আর চতুর্থ শ্রেণির ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী সাধারণ শব্দ চিনতে পারে না। আর পড়ার (রিডিং) ক্ষেত্রেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে গলদঘর্ম হতে দেখা যায়। তৃতীয় শ্রেণির ৭৬ শতাংশ ও চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকমতো মাত্রভাষা বাংলা পড়তে পারছে না। আর ইংরেজির কথা না বলাই ভালো। কারণ শেষ উচ্ছ মাধমিক পরীক্ষা-২০২৫ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফেল করেছে ইংরেজিতে। যার হার ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ। 

এখন কথা হলো আমাদের শিক্ষার্থীরা ৩ থেকে ৪ বছর বিদ্যালয়ে পাঠগ্রহন করার পরও ঠিকঠাক বাংলা পড়তে পারছে না, বাংলা শব্দ চিনতে পাড়ছেনা। এই অবস্থার কারণ কী? শিক্ষার্থীরা ১২ বছর ইংরেজি পড়ার পরও কেন ৩৩ শতাংশ নাম্বার অর্জন করেতে পাছে না? একটা ভাষার শিখতে বা অন্তত পাশ নাম্বার পেতে এক যুগ লাগার কথা না কোনোভাবেই এতো বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীদের? এর পেছনে আছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার হজারো সমস্যা। 

বিশ্ব যখন কম্পিউটার প্রযু্ক্তির নতুন রূপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে ৪র্থ শিল্পবিপ্লবের পত্তন ঘটাচ্ছে তখনও আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তির মৌলিক বিষয়াবলীতে ফেল করছে (আইসিটিতে) ২৭ দশমিক ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। যে বিষয় কিনা তারা অধ্যয়ন করে মোট ৭ বছর। এর পেছনে আছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দূর্বল কাঠামো, চর্চা ও শিক্ষার নিম্ন মান। যেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে প্রশিক্ষানের বিপরীতে পাঠহুলো মুখস্ত করণের প্র্রতি নজর দেওয়া হয় সর্বদায়। যা আমাদের শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেওয়া ব্যিাতিরেকে কিছুই দিতে পারছে না। 

বিশ্ব শ্রমের বাজার  প্রতিণিয়ত প্রতিযোগীতামূলক হচ্ছে। যেখানে শিক্ষাঙ্গনগুলো উন্নত বিশ্বের বিনিয়োগ,িআধুনিক বিশ্বের দীর্ঘস্বায়ী শক্তিশালী অর্থনীতির ঘটি হয়ে উঠছে সেখোনে আমাদের শিক্ষার্থিীরা নূন্নতম মৌলিক দক্ষতা, প্রশিক্ষন, জীবনমুখী জ্ঞান, সৃষ্টিশীলতা, বা কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শি হতে পারছে না। 

আমাদের অর্থনীতি এখনো দুটি শ্রমনিভির কাঠামোতে দাড়িয়ে আছে কেবল শস্তা শ্রম ও ব্যাপক জনসংখ্যার হাড় ভাঙ্গা খাটুনির উপর। আমাদের এখানে মোটাদাগে আমাদের নারীরা সর্বনিম্ন মুজুরিতে ১২ ঘন্টা কর্ম করে। আর আমাদের পুরুষের মধ্যপ্রচ্চে্য কায়িক শ্রম দিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখে। এখানে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে কখনো গার্মেন্স শিল্পে কাজে লাগাতে পারবে েএমন কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। শিক্ষা দেওয়া হয় না কোনো ভাষা যা প্রবাসে গিয়ে তাদের কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারবে। পাশাপাশি এমন কোনো জীবনমুখী প্রশিক্ষণও অনুপুস্থিত যা আমাদের শ্রমিকদের কায়ীক শ্রমের দক্ষতার উপর সনদ প্রদান করবে; যেটি কিনা বহিবিশ্বে তাদের কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারবে। আর শিক্ষা ক্ষেত্রে সবচেয়ে অবহেলিত আমাদের কৃষি ব্যবস্থা। কৃষকের সন্তানদের তাদের শিকর থেকে উপরে ফেলে দিবা স্বপ্নের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আর উচ্ছ শিক্ষার কথা বলতে গেলে বলা কাম্য, েএখানে যে শিল্প গড়ে উঠে নাই সেই বিষয়গুলো নিয়ে এখানে পশ্চিমা তত্ব, দর্শন আর চিন্তা বাম্পার ফলন হচ্ছে এই হারে যার কোনো বিষয় ভিত্তিকি ইন্ডাস্টি নাই এই দেশে। আর থাকলে ও তার নাজাহেল অবস্থা; যেখানে স্নাত্বক বা স্ন্তকউত্তর পাস কেউ ডুকতে চাই না। শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেতের ফারাক এখানে সিনায় থেকে পারস্যের মতো। 

আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে পাঠগুলো এমনভাবে মুখস্ত করানো হয় যা কিনা তাদের পরীক্ষার খাতায় ছাড়া জেীবনে আর  কোথাও কাজে লাগে েনা। উলে্লখ্য, সারাদেশের বিদ্যালয়গুলোতে মোটাদাগে পাঠগুলো মুখস্ত করায় বিরামচিহ্ন সহকারে; শিক্ষার্থীদের বুঝতে দেওয়া হয় না তাদের পাঠে কী বলা হয়েছে। আর মুখস্ত ব্যাতিরেকে কিছু খাতায় উপস্থাপিত হলে পরীক্ষার নাম্বার কর্তন তো স্বাভাবিক বাস্তবতা। আমাদের িএখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় না কীভাবে সাতার কাটতে হয়। যদিও নদীমাতৃক বাংলাদেশে এই বিষয়টি অতি জীবনমুখী শিক্ষা; যেখানে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু নিরব মহামারীর আকার ধারণ করছে। নদীমাত্রৃক েএই দেশে প্রাকিৃতিক দূযোগ নিত্যদৈমত্কি ঘটনা যাতে জলবায়ু পরিবর্তন বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। এখানে শিক্ষার্থীদের এই অবস্থায় অভিযোজন ও নিজেদের অসত্বিত্ব কীভাবে বজায় রাখাহয় সে কথা খুব কমই শেখানো  হয়। 

আমাদের শিক্ষার ব্যভস্থার আরেকটি মহামারী হলো ছাত্র রাজনীতি। যেখনে শিক্ষাক্ষেতে্রর কল্যাণ অপেক্ষা নেতিবাচক প্রবাবই বেশি বলা মুখ্য। কারণ তা শিক্ষর্থীদের পড়ালেখার মান বৃদ্ধি ব্যাতিরেকে সকলধরণের কাজকির্মিই এখারে মুখ্য ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের আরেকটি মৌলিক সমস্যা হলো শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈতিকতা পাঠদানের ব্যর্থতা। যেখানে উন্নত বিশ্বের শিক্ষা কেত্রে শৈশব থেকে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা শিক্ষাদানের ক্ষেত্র গুরুত্ব দেওয়া হলেও আমাদের দেশে সেই চর্চা নেহায়েত সামান্য। উল্লেখ, জাপান, ফিনল্যান্ড, সুইজারলেন্ড, ইংল্যোন্ড সহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে জাতীয়, সামাজিক ও সার্বিক কল্যালের লক্ষ্যে নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়ে যা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় অনুপুস্থিত। যা আমাদের শিক্ষার্থীদের সামাজিকরণের প্রক্রিয়ায় দীর্য় স্বায়ী ন্যাতিবাচক প্রভাব রাখছে। আর দেশকে দূর্ণীতিতে শীর্ষস্থানীয় করার বিষয়ে এই আধেয়ে ব্যবর্থা কমবেশি ভূমিকা রাখছে বৈকি। 

আমাদের শিক্ষার্থীদের এখন প্রত্যাহিক জীবনে কীভাবে আচরণ কেরতে হয় তা শেখার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যম বা সিইবার স্পেচে কীরকম আচরণ করবে, সামাজিক মাধ্যমে  যোগাযোগের নৈতিকতা, মিডিয়া স্বক্ষরাতা ইত্যাদি আধেয়েও সমানভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত। কেননা, সামাজিক মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা দিনের একাটা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে যা তাদের সামাজিকরণ প্রক্রিয়া একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম। যেখানে তাদের এই আধেয়ে শিক্ষিত করা জরুরি হয়ে উঠচে। তাদের সামাজিক মাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ইতিবাচক পাথেয় উনে্মাচন ও ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনকরা এখনই সময়।

সর্বোচরি আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে এখনই সঙ্গীত চর্চার বিষয় অপেক্ষা আমাদের মৌলিক সংস্কার করা জরুরী। যেখানে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আগাগোরায় সমস্যা নিমজ্জিত। সর্বদায় আমাদের শিক্ষার্থীদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও জাতীয় অর্জনের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকায় আবর্তিত হবাব ইতিহাস আছে তবে তা তাদের কল্যাণে ব্যবহৃত হবার ইতিহাস নাই । আমদের শিক্ষাক্ষেত্রে এখন প্রয়োজন আমূল পরিব্তন করে আধুনিক ও যুগোপযোগী ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা। যেখানে বিদেশী দাতা গোষ্ঠী ও সংঘটনগুলোর প্রেসকিবশনের বিপরীতে আমাদের সমাজের ভেতর থেকে উঠে আসা সমস্যার সমাধান কল্পে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষা পরিকল্পনা। যা আমাদের শতবর্ষী কামনা। যা আমাদের শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ দিবে। যা আমাদের শিক্ষার্থীদের দূর্চিন্তার কারণ না হয়ে সহসের হাতিয়ার হবে। 

Comments

    Please login to post comment. Login