দেয়ালের ওপর আমার নামটা
একটা একটা করে খসে পড়ছিল—
রা… শে… দ…
শেষ অক্ষরটা পড়তেই
আমার বুকের ভেতর থেকে যেন কিছু একটা টেনে নেওয়া হলো।
আমি হঠাৎ বুঝলাম—
আমি নিজের নামটা মনে করতে পারছি না।
আমি কে?
কেন এখানে আছি?
এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর মাথায় আসছে না।
আয়নার সামনে ভয়ংকর সত্য
আমি দৌড়ে আয়নার সামনে গেলাম।
আয়নায় আমার মুখ নেই।
শুধু একটা অস্পষ্ট ছায়া।
চোখ নেই, মুখ নেই—
কিন্তু সে আমার মতোই দাঁড়িয়ে আছে।
ছায়াটা বলল—
“নাম চলে গেলে
স্মৃতি যায়,
পরিচয় যায়,
আর শেষে… শরীরও।”
হঠাৎ আমার হাতটা ধীরে ধীরে
স্বচ্ছ হয়ে যেতে লাগল।
আমি চিৎকার করতে চাইলাম—
কিন্তু গলা থেকে কোনো শব্দ বের হলো না।
শেষ চেষ্টা
হঠাৎ মনে পড়ল—
আমার মা ছোটবেলায় বলতেন,
“নাম শুধু ডাক নয়,
নাম হলো আত্মার দরজা।”
আমি চোখ বন্ধ করে
নিজের নামটা মনে করার চেষ্টা করলাম।
কিন্তু নামটা আসছে না।
ঠিক তখনই
ঘরের কোণ থেকে ভেসে এলো
একটা শিশুর কণ্ঠ—
“আমার নামটা বলো…
তাহলেই তোমারটা ফেরত পাবে…”
আমি বুঝে গেলাম।
এই নামহীন আত্মা
ওই নিরুদ্দেশ শিশুটাই।
গ্রামের লোকজন
তার নাম ভুলে গিয়ে
ওকে এই অভিশাপ বানিয়েছে।
ভয়ংকর সিদ্ধান্ত
যদি আমি তার নাম বলি—
সে মুক্তি পাবে।
কিন্তু—
নামটা কেউ জানে না।
হঠাৎ দেয়ালের রক্তে লেখা
আস্তে আস্তে বদলাতে লাগল।
রক্ত নিজে নিজে লিখল—
“আমার নাম…
রায়হান…”
নামটা পড়তেই
ঘরটা কেঁপে উঠল।
একটা বিকট চিৎকার।
আর তারপর—
সব অন্ধকার।
সকাল
আমি জেগে উঠলাম
গ্রামের মাঠে।
লোকজন আমাকে ঘিরে আছে।
একজন বলল—
“মাস্টার সাহেব, আপনি গতরাতে শেষ ঘরে ছিলেন কেন?”
আমি মুখ খুলে বললাম—
“আমি… আমি রাশেদ…”
কিন্তু নিজের কণ্ঠটা
আমার মনে হলো না।
কারণ—
আমার ছায়াটা
আমার পায়ের সাথে নড়ছে না।