রাত একটা।প্রচুর কুয়াশা পড়েছে। বাঁশগুলো পুরো রাস্তা জুড়ে শুয়ে আছে। কাদের জানে, ওগুলো বাঁশ না।বাঁশ ভুত। রাস্তার পাশে ছলিম বুড়োর বাধানো কবরটাও দেখা যাচ্ছে।
কাদেরর হাতে বাবলার লাঠি।
- এই তোরা সরবি? মা অসুস্থ। শাহেদ ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। সর। নাহলে দিলাম বাড়ি।
কোনো উত্তর নেই। বাঁশ ভুত ভয় পেলো না। তারা ঘাতি মেরে আছে। ডিঙিয়ে পার হতে গেলেই বিপদ।তড়াক করে তাকে সহ উঠে যাবে উপরে। তারপর আছাড়। তারপর মৃত্যু। কাদের আবার বললো," এই, সরবি তোরা?"
কোনো উত্তর নেই। একটু হাসির শব্দ হলো শুধু। শোয়ান্ত বাঁশের পাতা চুয়ে চুয়ে কুয়াশার পানি টুপটাপ পড়ছে।কাদের ভয় পেলো না। ভয় পেলে তার চলবে না। ওষুধ নিয়ে তাকে আবার এই পথেই ফিরতে হবে।
সে বললো," ঠিক আছে। আমি তোদের সাথে ঝগড়া করবো না।"
কথা শেষ করে সে শোয়ান্ত বাঁশের শেষ প্রান্ত দিয়ে রাস্তার প্রায় নিচ দিয়ে পার হতে গেলো।তড়াক করে একটা বাঁশ আকাশে উঠে গেলো।আরেকটু হলেই সব শেষ হয়ে যেতো।সে বাঁশের সাথে উপরে উঠে যেতো।পায়ের তলে একটা কঞ্চি পড়েছিলো।তার পাতাগুলো ছিড়ে গেছে। কাদের ভয় পায়নি।
- নিচ দিয়ে যাবো?
না,না।
ঠেসে মেরে ফেলবে।
কাদের রেগে গেলো।আর উপায় নেই। সে হাতের বাবলার ডাল দিয়ে কষে একটা শোয়ান্ত বাঁশে চালালো কষে বাড়ি।আর কোথায় যাবি।হাউমাউ করে ভুত বাঁশগুলো চড়চড় করে আকাশে উঠে গেলো।
সে বুক উচু করে হাসতে হাসতে জায়গাটা পার হয়ে এলো।কিন্তু শাহেদ ডাক্তারের কাছ থেকে ময়ের জন্য ওষুধ নিয়ে ফেরার পথে পড়লো বিপদে।
ছলিম বুড়োর কবরের কাছে এসে, ভুত বাঁশগুলো দেখে এইবার তার হাত পা কাঁপতে লাগলো।কাঁপতে কাঁপতে হাত থেকে বাবলার লাঠিটা পড়ে গেলো। সেটা গড়গড় করে গড়িয়ে রাস্তার নিচে চলে যাচ্ছে। যাচ্ছে সলিম বুড়োর কবরের দিকে।কাদের এখন কী করবে?সে কি লাঠির পিছু নেবে?
ভুত বাঁশ
হুমায়ূন কবীর
১৪/১/২৬