Posts

উপন্যাস

আলতা পরী

January 15, 2026

Iftia Bithi

132
View

                      আলতা পরী 

               —————————

                  বিথী আক্তার খাদিজা 

         

‎আলতা পরী -৬
 

‎এই দিকে, প্রতিদিন আবির পরী স্কুলে পথের কাছে দাড়িয়ে থাকে। যে পথ দিয়ে পরী স্কুলে যায়,পরী অনুমান করলো যে আবির তাকে পছন্দ করে। পরী সে দিন স্কুলে থেকে আসার পরে, তার দাদি বলো! আয় পরী তোর চুলে তেল দিয়ে দি,ক্যা দাদি? মোর চুলো তো তেল আছে। বেশি দিলে ভিজা ভিজা লাগে। এই দিকে আয় তো, চুল তেল কই তোর, চুপ করে ব এখানে। একটু ও তেল নেই কয় তেল আছে মাথায়,আচ্ছা তাইলে দিয়ে দেও। বস বস,"শোন পরী কও দাদি। তোকে তো বলা হয় নাই। তুই কি জানো তোর বিয়ে ঠিক কইরা রাখছি মোরা।কি কও দাদি মজা কইরো না তো, মজা না মজা না পরী সত্যি কথা , ওই যে তোর হারুন কাকা আসছিলো না  শহর থেকে তার ছেলে জন্য, কি বলো দাদি মিথ্যা কথা, না ছেলে দেখতে অনেক সুন্দর। আর ছেলে বিশাল চাকরি করে। আর তোর বাবা কথা দিয়েছে তো , তারা এক মাস পর এসে তোকে বউ করে নিয়ে যাবে। কি কও দাদি এই তো মোরে আগে কও নাই। এখন কইলাম, মুই মা কাছে জিজ্ঞেস করবো। পরী তার মার কাছে দৌড় দিয়ে গেল! 
 

‎মা বললে হ্যা," পরী শুনে মনে মনে ভালো ই লাগছিলো। মনে মনে হাসলে সে। পরে পরের দিন সকালে উঠে চলে গেলে গেলো স্কুলে। ও মা মুই স্কুলে যাই। পরী বান্ধবী সাথে গেলো স্কুলে। পথে দেখা হলো আবির সাথে,আবির আজ কোনো মতে থাকতে পারে না, তার সাথে আবির আজ কথা বলবে। এতদিনে শুধু আবির তাকে তাকিয়ে দেখতো। পরী কে তার বান্ধবী ই বলে। ওই দেখ আজ ও ওই ছেলে টা বইসা রইছে তোর জন্য। আরে দূর তাকাইস না তো ভালো লাগে না।আর ছেলেটা মোরে পছন্দ করে এটা কি বলছে নাকি। সব সময় বেশি বুজো তুই। আবির বললো, ওই শুনো? পরী কিছু না বলে নাফিয়া বললো কাকে ডাকেন। পরী কি তোমার বান্ধবী? হয় তো কি হইছে? তাকে একটু কথা শুনতে বলেন। না যা বলার আমাকে বলেন। আচ্ছা, "আমি এতো ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলতে পরি না,আমি পরী কে ভালোবাসি । কি কি? যা শুনেছেন ওটাই বলছি। এটা শুনে নাফিয়া চলে গেলো পরী সামনে হাঁটতে আছে। এই পরী শোন?  কি হইছে বল? তোকে আমি কি কইছিলাম তোরে ওই পোলাডায় পছন্দ করে। করলে করতো পারে মুই কি করবো। আর হ্যাছাড়া ও মোর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আব্বা বিয়ে ঠিক করে রাখছে। কি বলো পরী? কবে এটা হলো আমাকে তো বললি না। কাল রাতে দাদি কই লো। তুই কি বিয়ে রাজি। আব্বা মা যা বলে। স্কুল শেষ করে বাড়ি ফিরলো পরী। আবির এই দিকে পরী কে দেখার জন্য তার বাড়ি সামনে ঘুরা ঘুরি করতে ছিলো।
 

‎হঠাৎ পরী চোখ পরলো, পরী ঘরে ভিতর চলে গেলো। 
 

‎মেলাদিন হলো ফজর বললো।হারুন কেনো চিঠি দেয় নায় তাহলে কি হারুন শহরে গিয়ে ভুলে গেলো। না এটা হতে পারে। হাফেজা বানু মা কোথায় ডাক দেও। আম্মা কি ঘরের মধ্যে ডাকে আপনার ছেলে কি হলো ফজর বল? হারুন তো এখনো চিঠি দিলো না। দিবে দিবে ফজর চিন্তা করিস না। এর ভিতর পার হয়ে গেলো কিছু  সপ্তাহ। এদিকে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলো পরী। পরীক্ষা আর একটা আছে এমন সময় হারুন চিঠি পাঠালো ফজর মিয়া কাছে। ফজর মিয়া বাড়ি উঠানে এসে ডাক দিলো পোস্ট অফিস লোক। ফজর সাহেব কি বাড়ি আছেন? একটা চিঠি আসলো? হাফেজা বানু গিয়ে বললো। সে তো বাড়ি নায় আপনি মোরে দিন সে আইলে মুই তাকে দিমু আনে।ঠিক আছে এই নেন।ফজর সাহেব বাড়ি ফিরলো স্কুল শেষ করে। হাফেজা বানু চিঠি টা দিলো।কে দিলো এই চিঠি হারুন? কইলো চিঠি আসছে। দেখি কি লেখা?চিঠিতে লেখা ছিলো। হারুন সামনে শুক্রবার সহ পরিবার সবাই কে নিয়ে আসবে তারা। ফরজ মিয়া খুব খুশি। তার মাকে ও হাফেজা বানু কে বললো। পরী বৃহস্পতিবার পরিক্ষা শেষ হবে ভালো ই হলো পরীক্ষা শেষ আর তারা দেখতেও আসবে। 
 

‎এই দিকে হাফেজা বানু খুব চিন্তা হয় মোর মেয়ে টা ছোট ও সব বুজবে তো। নূরজাহান বানু এসে বলে চিন্তা করিও না বউ মা। পরী কে তো বিয়ে দিতেই হবে।
 

‎ পরী যখন আজ পরীক্ষা দিতে গেলো আবির ও আজ দাড়িয়ে ছিলো পরী বান্ধবী বললো দাড়িয়ে কোনো কাজ হইবো না পরীর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আবির এ মাথায় মনে হলো এক আকাশ ভেঙে পরলো আবির চোখে পানি অথচ আবির সাথে পরী চোখে চোখ পরতো কিন্তু কখনো ই কথা হতো না। তাতেই আবির পরী জন্য পাগল ছিলো। তখন পরীর বান্ধবী কে ডাক দিলো আবির বললো সত্যি কথা বলেন। পরী কি সত্যি ই বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে? পরী বান্ধবী বললো হয়। পরী কানে আসতে ছিলো হয় শব্দ টা শুনে আবির নিস্তব্ধ । পরী পিছনে ফিরে তাকালো আবির চোখে চোখ পরলো। এক পলক তাকিয়ে পরী চলে গেলো আর আবির পরী দিকে তাকিয়ে ছিলো। আবির মনে মনে বলে  __
 

‎     ",মানুষ যা নিয়ে স্বপ্ন দেখে তা কি সত্যি হয় সবসময়? ভালোবাসা দূর থেকে সুন্দর থাকবে। সব সময় যে তাকে পেতে হবে তার সাথে কথা বলতে হবে এমন তো না। ভালোবাসা দূর থেকে সুন্দর। ", 
 


 

‎আবির চলে গেলো বাড়িতে সে আজ ই শহরে চলে যাবে। তার আর মন টিকতে আছে না। আবির বিকেলে শহর উদ্দেশ্য রহনা হলো ভারাক্রান্ত মন নিয়ে । আর যেতে যেতে ভাবতে ছিলো গ্রামে না আসলেই ভালো হতো। পরী কথা তার বার বার মনে পরে। মনে পরে সেই দিন এর কথা যে দিন পরী কে প্রথম সে দেখে ছিলো। পরী চোখ দুই টা তার সামনে বার বার আসে। 
 


 

‎  
 


 


 

‎
 

Comments

    Please login to post comment. Login