Posts

গল্প

ফিরে দেখা সোনালী দিন: পর্ব ২

January 15, 2026

Md. Robiul islam

21
View

ফিরে দেখা সোনালী দিন: পর্ব ২ 

শৈশবের সেই সোনালী স্মৃতিগুলো আসলে এক অন্তহীন সমুদ্রের মতো। যতই ডুব দেওয়া যায়, ততই নতুন নতুন মণি-মুক্তো উঠে আসে। প্রথম পর্বে আমি বৃষ্টি আর রোদের গল্প বলেছিলাম, কিন্তু আমার সেই গ্রামের দিনগুলোতে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আনন্দের ধরণগুলোও বদলে যেত। 

সেই স্কুলের দিন ও টিফিনের ঘণ্টা

 শহরের স্কুলগুলোতে এখন অনেক কড়াকড়ি, কিন্তু আমাদের গ্রামের স্কুলটা ছিল একদমই আলাদা। টিনের চালের সেই আধাপাকা দালান, আর সামনে বিশাল এক কৃষ্ণচূড়া গাছ। চৈত্র মাসের গরমে যখন গাছের নিচটা লাল ফুলে ঢেকে যেত, তখন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম। স্কুলের সেই জরাজীর্ণ ঘন্টাটা যখন টিফিনের সংকেত দিত, মনে হতো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুর শুনছি।টিফিনের সময়টা ছিল ভাগ করে নেওয়ার উৎসব। কারো বাড়ি থেকে আনা মুড়ি মাখা, কারো নুন দিয়ে মাখা পেয়ারা—সবই আমরা গোল হয়ে বসে খেতাম। সেই ভাগ করে খাওয়ার মধ্যে যে তৃপ্তি ছিল, আজ দামী ক্যাফেটেরিয়ার স্যান্ডউইচ বা বার্গারে তা খুঁজে পাওয়া ভার। ফেরার পথে পুকুরপাড়ে শাপলা তোলা কিংবা ফড়িং ধরার সেই অদম্য জেদ আজ কেবল ডায়েরির পাতায় বন্দী।

মেলা ও নাগরদোলার স্মৃতি 

বছরের একটা বিশেষ সময়ে আমাদের গ্রামে মেলা বসত। বৈশাখী মেলা কিংবা রথের মেলা। মেলা মানেই ছিল জমানো মাটির ব্যাংক ভাঙার আনন্দ। দুই টাকা, পাঁচ টাকার সেই খুচরো পয়সাগুলো আমাদের কাছে তখন লাখ টাকার সমান ছিল।মেলায় গিয়ে সেই কাঠের ঘোড়া দেওয়া নাগরদোলায় চড়া, রঙিন বাতাসা কেনা আর বাঁশি বাজাতে বাজাতে বাড়ি ফেরা—সে এক অন্যরকম উন্মাদনা। মাটির তৈরি পুতুল আর টিনের তলোয়ার ছিল আমাদের শ্রেষ্ঠ খেলনা। এখনকার দামী রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি বা প্লে-স্টেশন সেই মাটির পুতুলের মতো গভীর আবেগ তৈরি করতে পারে না। মেলার ধুলোমাখা সেই গন্ধটা আজও যেন নাকে ভাসে।"," 

Comments

    Please login to post comment. Login