ভাঙাচোরা পরিত্যক্ত পুরাতন দোতলা দালান- জমিদার বাড়ি।জঙ্গল ঘেরা।জমিদার শরৎ ঘোষ বহু আগে ইন্ডিয়া চলে গেছে। সে নেই। কালিন আছে।কালিন মানুষ না।সে পেত্নী।ছাদের বটগাছটাতে সে আরাম করে বসবাস করে।কালিন একা।তার বাচ্চারা এখানে থাকে না।থাকে বাপের কাছে। সে কাউকে ডিস্টার্ব করে না। মাঝে মাঝে দুপুর বেলা ঝামেলা হয়ে যায়।
জমিদার বাড়ির দক্ষিণে ঘাট বাঁধানো জঙলা পুকুর।কালিন দুপুর বেলা গোসল করে গাছে বসে চুল শুকায়।গতবারের ঘটনা-
গফুর গাজির মেয়ে শামেলা, বয়স ২০।বিয়েধারি মেয়ে।দুপুর বেলা পাতো চোকি দিচ্ছিলো জমিদার বাড়ির পশ্চিমে। হঠাৎ তাকিয়ে দেখে, কালিন।বট গাছের মাথায় বসে আছে। এক পা মাটিতে, এক পা কাঁচামিঠা আমগাছটার মাথায়।কালো কুচকুচে এলো চুল মাটি ছুঁই ছুঁই।
এতে ভয় পাওয়ার কী আছে? শামেলা অজ্ঞান হয়ে গেলো।দুই মাস ভুগে মৃত্যু।
আজও দুপুর বেলা।
শামিম এসেছিলো ডাব চুরি করতে।হঠাৎ পেটে মোচড়।পায়খানা বেরিয়ে গেলো বলে।বাড়ি যাওয়ার সময় নেই। সে ছুটলো কালিন পেত্নীর আস্তানার দিকে।জায়গাটা নিরাপদ। চারিদিকে জঙ্গল। কেউ দেখতে পাবে না। আরাম করে কাজ সারা যাবে।
শামিম জমিদার বাড়ির দিকে পেছন ফিরে প্যান্ট খুলে ভয়ে ভয়ে বসে পড়লো।আহ্! শান্তি। না। একটু বাকি আছে। ঝিরিঝিরি বাতাস হচ্ছে। হঠাৎ গুঞ্জন। দালানের ভিতর থেকে আওয়াজ আসছে।আসুক। আর ভয় নেই। দালানের ভিতর লোকজন আছে। যাক কালিন পেত্নীর হাত থেকে বাঁচা গেলো।
কালিন বেশি লোকের সামনে দেখা দেয় না।একা থাকলে হাজির হয়।
আবার গুঞ্জন।
- কে নেটাম চা?
শামিম লজ্জিতভাবে জিজ্ঞেস করলো।কোনো উত্তর নেই।
হ্যা,নেটাম চা'ই হবে।তার একপাল ছাগল আছে। মাঝেমধ্যে সে এদিকে ছাগলের পাল নিয়ে আসে।বটের পাতা পেড়ে পেড়ে খাওয়াই। ছাগল থাকলে ভুতপ্রেত সামনে আসে না। শামিম আরও আস্বস্ত হলো।
কিন্তু আবার শব্দ। কয়েকজন লোকের মিলিত গুঞ্জন।
নাহ।আর নয়।শামিম দ্রুত ঢেলা ব্যবহার করলো।প্যান্ট পরলো।ধুলোয় হাত ঘষলো।তারপর কয়েকটি ইটের টুকরো কুড়িয়ে নিলো।নেটাম চা'কে শিক্ষা দিতে হবে।সে কথা বলছে না কেন?
শামিম আস্তে আস্তে ভাঙা দালানের কপাটহীন খোলা দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়লো।না।ভিতরে কেউ নেই। শুধু একটা বটগাছ ছাদ থেকে কালিন পেত্নীর মতো তার একটা পা মেঝেতে নামিয়ে রেখেছে। এছাড়া কেউ নেই, কিছু নেই।
শামিম ভয় পেলো।মানুষ নেই, ছাগল নেই, কালিন পেত্নী নেই। শব্দ কে করলো? পেত্নীটার ছেলেমেয়েগুলো ফিরে এসেছে? সে খসে পড়া বড় একটা ইট কুড়িয়ে নিলো।
হঠাৎ আবার শব্দ। কয়েকজন মানুষের সম্মিলিত গুঞ্জন।
শামিম হাতের ইট ছুড়ে মারলো দক্ষিণ দেয়ালে।তারপর খোলা দরজা পথে ভৌ দৌড়।
পেছনে সম্মিলিত হাসির শব্দ।
তারমানে কালিন পেত্নীর ছেলেমেয়েরা ফিরে এসেছে। গুনগুন শব্দ ওরাই করছিলো।আর ঐ পা ঝোলানো বটগাছ? ওটা বট নয়।স্বয়ং কালিন।শামীম দৌড়াতে দৌড়াতে মুহুর্তে সব বুঝে ফেললো।
আর হাসি?
ওরা তার ন্যাংটা পোঙা দেখেছে না?
তাই হাসছে।
কালিন পেত্নীর হাসি
হুমায়ূন কবীর
১৫/১/২৬