কলমে,,, "কামরুন নাহার"
সবুজের সমারোহে বেষ্টিত ছোট্ট একটা গ্রাম। কাঁচা মাটির গন্ধ, দুপুরের রোদে শুকাতে দেয়া ধানের খড় আর সন্ধ্যার আগে আগে ভিজে ওঠা বাতাসে একটা অদ্ভুত ক্লান্তি লেগে থাকে।
বিকেলের আলো তখন ঢলে পড়েছে। সূর্যটা যেন আর কোন তাড়াহুড়া করতে চায় না __ ধীরে ধীরে গাছের মাথা ছুঁয়ে পুকুরের পানিতে নিজের রং ফেলে রেখে পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে।
রাস্তার দু'পাশে কাশফুল নড়ছে হালকা বাতাসে, ঠিক যেন তারা কিছু বলতে চায়।
এই গ্ৰামের মানুষ গুলো খানিকটা চুপচাপ প্রকৃতির। সহজ সরল, নরম স্বভাবের আর ধোয়াটে।
পদ্ম, গ্ৰামের সাধারণ একটা মেয়ে। খুব চঞ্চল, রাগী কিন্তু মনটা নরম। তার ইচ্ছে পড়াশোনা শেষ করে গ্ৰামের মানুষের জন্য কিছু করবে কিন্তু তার পরিবার হলো আর দশটা সাধারণ গ্ৰামের মানুষের মতোই।তারা চায় স্বাভাবিক ভাবেই তাদের মেয়েটা সুন্দর গোছানো একটা সংসার জীবন শুরু করে। অর্থাৎ বিয়ে, স্বামী, সংসার,,,,,,
একদিন পদ্ম তার কয়েকজন বান্ধবীর সঙ্গে বসে আছে পুরোনো রাস্তাটার পাশে। বসে বসে গল্প করছে।
এমন সময় তাদের পাশ দিয়ে একটা অচেনা ছেলে হেঁটে আসছিলো। মনে হচ্ছে এখানে নতুন, আগে দেখা যায়নি এই গ্ৰামে।
ছেলেটা সংযমের সঙ্গে মাথা নিচু করে গ্ৰামের দিকে চলে যায়।
পদ্ম দেখে, না দেখার ভান করে তার বান্ধবীদের সাথে গল্প করতে থাকে । সন্ধ্যার আগে আগে সবাই বাড়ির পথ ধরেছে।
পদ্ম ও এগোতে থাকে বাড়ির দিকে। কিছুক্ষণ পর অদ্ভুত একটা গলার আওয়াজ শুনে থমকে যায়।
“”এই যে শুনছেন “”
পদ্ম:”"আর কিছু না ভেবে হাঁটতে শুরু করে।
“”শুনুন “”
পদ্ম ঘুরে তাকাতেই দেখে সেই অচেনা ছেলেটা।
“”আমি পলাশ “”
পদ্ম:""আমি কি আপনার নাম জিজ্ঞেস করছি?
ইয়ে,, না,,মানে,,,,,
পদ্ম:""এড়িয়ে চলে যায়।
সামনে এগিয়ে ছেলেটা বলে __ আমি আমার ফুফুর বাড়ীতে আসছি কিন্তু ঠিকানা টা ঠিক মনে হচ্ছে না। নেটওয়ার্ক ও কাজ করছে না।
পদ্ম:""নাম কি?
জী, পলাশ।
পদ্ম:""আপনার ফুফুর নাম কি ? বাড়ির নাম জানা আছে?
মিয়া বাড়ি, আমার ফুফুর নাম রেহানা বেগম।
পদ্ম:""আসুন,,, কথা টা শেষ করে পদ্ম হাঁটতে শুরু করল আর পলাশ তাকে অনুসরণ করে।
প্রায় ১৫ মিনিট হাঁটার পর একটা বাড়ির দিকে ইশারা করে পদ্ম বলে,, এটা মিয়া বাড়ি।
পলাশ খুব চিন্তিত ছিলো কিন্তু বাড়ির সন্ধান পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে আকাশের চাঁদ হাতে পেয়ে গেছে সে।
সে বাড়ির দিকে রওনা হলো কিন্তু একটা কথা ভুলে যায়, মেয়েটাকে একটা ধন্যবাদ জানাতে।
পলাশ দৌড়ে এসে দেখে মেয়েটি চলে গেছে সে ভাবে কি যেন একটা অসৌজন্য আচরণ করে ফেলেছে। যাইহোক এবার সে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলো।
সকালের গ্ৰাম টা সন্ধার মতো নীরব না। পাখির কিচিরমিচির, গরুর গলায় বাঁধা ঘন্টা, চারপাশটা কেমন ব্যস্ততা নিয়ে শুরু।
পদ্ম ভোরে উঠে।
উঠোন ঝাড়ু শব্দ, মায়ের গলার আওয়াজ আর ছোট ভাইয়ের স্কুলের তাড়াহুড়ো __ এই সবের ভেতর দিয়ে তার সকাল গড়িয়ে যায় ।
মাঝে মাঝে পুকুরের পানি আনতে পদ্ম পুকুরে যায়।
দুপুরের দিকে পদ্ম পানি আনতে পুকুরের দিকে আসছিলো। হঠাৎ করেই সেই আওয়াজ __ এই যে শুনছেন,,,!
পদ্ম চারিদিকে ভালো করে দেখে কিন্তু কিছু দেখতে না পেয়ে আবার হাঁটতে শুরু করে।
“”আমি পলাশ “”
পদ্ম:""(রাগী রাগী গলায়)""সামনে থেকে কথা বলতে হয়, এটুকু জানা নেই আপনার ?
পলাশ:""আমি মন থেকে দুঃখিত, কালকের জন্য আর আজকের জন্য ও।
পদ্ম:""কালকের জন্য কেন ?
পলাশ:""আপনি কালকে আমাকে সাহায্য না করলে সারারাত রাস্তায় কাটাতে হতো কিন্তু আপনাকে একটা ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গেলাম।
পদ্ম:""মনে মনে বলছে, যতটা অভদ্র মনে হচ্ছে অতোটা না। এই বলে সে চলে যায়।
একটু পরে কে যেন ডাকে,,, ভাইয়া এই ভাইয়া।
“”হুম বল “”
বল মানে। আমাকে ওখানে রেখে তুমি একা একা এখানে কি করছ?
কিছু না। তোকে যে মেয়েটার কথা বললাম সে মেয়েটা কে দেখে এদিকে আসলাম।
কোন মেয়ে?? ও কালকে যে মেয়েটা তোমাকে বাড়ি ছেড়ে গেছে সেই মেয়েটা? তাহলে তো মেয়ে টা আমাদের গ্ৰামের। আচ্ছা মেয়েটার নাম কি?
আরে ধুর, কি নাম আমি কি করে বলবো। ঠিক করে ধন্যবাদ টাই দেওয়া হলোনা।
থাক আর জানতে হবে না চলো বাড়ি যাই। বিকেলের দিকে আবার তোমাকে গ্ৰাম টা ঘুরে দেখাবো। আমাদের গ্ৰাম টা খুব সুন্দর। কিছু দিন এখানে থাকলে তুমি আমাদের গ্ৰামের প্রেমে পড়ে যাবে।
পলাশ মনে মনে ভাবে, এই মেয়েটা কি রকম অদ্ভুত। চোখে রাগ তবে দেখতে বেশ,,,,।
চলবে 💫 💫