Posts

গল্প

ল্যাম্পপোস্টের নিচে এক কাপ চা (অন্তিম পর্ব)

January 16, 2026

ইফফাত আবেদিন রাফিম

197
View

‎কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে।
চাকরির খবর নেই। শহরটা আগের মতোই ব্যস্ত, অথচ আমার জন্য থেমে আছে। ‎প্রতিদিন সন্ধ্যায় অজান্তেই একই রাস্তায় এসে দাঁড়াই–পুরনো ল্যাম্পপোস্টটার দিকে তাকিয়ে থাকি।
যেন আলোটা কিছু বলতে চায়, কিন্তু শব্দ খুঁজে পায় না।
 

সেদিন বৃষ্টি ছিল না। ‎এটাই অদ্ভুত।
 

‎চায়ের দোকানটা এখনো আছে। ‎একই কেটলি, একই ধোঁয়া, একই কাপে গরম চা। ‎শুধু তৃষা নেই।
 

‎চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসে ছিলাম, হঠাৎ কেউ পাশে এসে দাঁড়াল। চেনা গন্ধ। জুঁই ফুলের হালকা সুবাস। তৃষা…
‎আজ নীল শাড়ি নয়। সাদামাটা একটা সালওয়ার-কামিজ।

চোখে আগের সেই লাজুক হাসি নেই–বরং এক ধরনের সিদ্ধান্তের দৃঢ়তা।
 

‎সে চুপ করে বসল।
কিছুক্ষণ কোনো কথা হলো না।
 

এই নীরবতাটা শব্দের চেয়েও বেশি কথা বলছিল। শেষ পর্যন্ত তৃষাই ভাঙল নীরবতা।

–“আমি সেদিন যা বলতে পারিনি, আজ বলতে এসেছি।”
 

‎আমি কিছু বললাম না। শুধু শুনতে থাকলাম।
 

‎–“এই শহরে আমি কাউকে বিশ্বাস করিনি। সম্পর্ক মানে আমার কাছে ছিল ভয়। সবাই আসে, তারপর নিজের মতো গল্প বানিয়ে চলে যায়।”
 

‎সে একবার আমার দিকে তাকাল।
‎–“কিন্তু তুমি শুনতে জানো। জবাব দেওয়ার জন্য নয়, বোঝার জন্য।”

ল্যাম্পপোস্টের নিচে চায়ের দোকান (ছবিঃ এআই)                              

‎হালকা বাতাসে ল্যাম্পপোস্টের আলো কেঁপে উঠল।
 

‎আমি বললাম, –“আমার নিজের জীবনটাই তো এলোমেলো। তবু তোমার কথা শুনতে পারলে… সেটা বোঝা মনে হয়নি।”
 

‎তৃষা হাসল। এবার আর লাজুক না।
‎–“আমি হারিয়ে যেতে চাইনি। আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম, কেউ খুঁজবে কি না।”
 

‎আমি গভীর শ্বাস নিলাম। –“আমি খুঁজছিলাম। প্রতিদিন।”
 

সে চায়ের কাপে তাকিয়ে বলল, –“জানো, গরম চা যেমন ঠান্ডা হয়, মানুষও তেমন বদলায়। কিন্তু কিছু স্মৃতি থাকে–যেগুলো আবার গরম করা যায়।”
 

‎চায়ের শেষ চুমুকটা নিলাম। ল্যাম্পপোস্টের আলো নিভে যাওয়ার আগে তৃষা উঠে দাঁড়াল।
 

এইবার সে বলল না ‘আবার দেখা হবে’।
সে শুধু বলল, –“চলো, হাঁটি। গল্পগুলো বসে বসে লেখা যায় না।”
 

‎আমরা পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করলাম। পেছনে চায়ের দোকান, সামনে অচেনা রাস্তা। বৃষ্টি নেই, তবু মনে হচ্ছিল–এই শহর আবার ভিজে যাচ্ছে।
 

‎ল্যাম্পপোস্টের আলো পেছনে পড়ে রইল। কিন্তু ভেতরে কোথাও একটা আলো জ্বলে উঠল।
 

‎এই গল্প এখানেই শেষ না।

শুধু এক কাপ চা দিয়ে শুরু হয়েছিল,

এবার সে নিজেই হাত ধরে হাঁটতে শিখেছে।

Comments

    Please login to post comment. Login

  • Kazi Eshita 1 month ago

    ভালো লাগলো আমার গল্পগুলো ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ