ভুতের গল্প: “নামহীন ঘর”
গ্রামের সবাই আমাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে।
তাদের চোখে ভয়—
কিন্তু আমার নিজের ভেতরটা ফাঁকা।
আমি বললাম,
“আমি ঠিক আছি।”
কিন্তু কথাটা বলার সময়
আমার ছায়াটা এক সেকেন্ড দেরিতে নড়ল।
কেউ খেয়াল করেনি।
কিন্তু আমি করেছি।
শেষ ঘরের সত্য
বুড়ো লোকটা কাঁপা গলায় বলল—
“মাস্টার সাহেব…
আপনি শেষ ঘর থেকে কখনোই বের হওয়ার কথা না…”
আমি জিজ্ঞেস করলাম—
“আগে যারা হারিয়েছে… তারা কি ফিরে এসেছিল?”
বুড়ো মাথা নাড়ল।
“হ্যাঁ…
সবাই ফিরে এসেছিল।
কিন্তু… এক বছর পর সবাই হঠাৎ নিখোঁজ।”
আমি তখন বুঝে গেলাম—
নামহীন ঘর মুক্তি দেয় না।
সে শুধু সময় দেয়।
আয়নায় শেষ সত্য
সেই রাতে
আমি আবার আয়নার সামনে দাঁড়ালাম।
এইবার আয়নায়
রাশেদ নয়—
দাঁড়িয়ে আছে রায়হান।
সে হাসল।
“তুমি আমাকে নাম দিয়েছো।
কিন্তু বিনিময়ে
আমি তোমার ছায়াটা নিয়েছি।”
আমি চিৎকার করলাম—
“আমি তো বেঁচে আছি!”
সে বলল—
“হ্যাঁ…
কিন্তু এক বছর পরে
তুমি পুরোপুরি আমি হয়ে যাবে।”
আয়নার ভেতর সে ঢুকে গেল।
আর আয়না স্বাভাবিক হয়ে গেল।
শেষ দৃশ্য
এক বছর পরে—
স্কুলে নতুন মাস্টার এসেছে।
সে শেষ ঘরের দিকে তাকিয়ে বলল—
“এই ঘরটা ভাড়া পাওয়া যাবে?”
গ্রামের লোকজন একসাথে বলল—
“শেষ ঘর বাদে যেকোনো জায়গা নিন…”
ঘরের ভেতর
দেয়ালে নতুন করে লেখা ফুটে উঠল—
“আমার নাম কেউ জানে না…”
আর আয়নার ভেতর
দাঁড়িয়ে আছে
আমি—
কিন্তু আমার ছায়া নেই।